বিনিময়


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:৩৭,  আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:৪৪

-আনোয়ার হোসেন

বায়রনিক দর্শন আবার এসেছে ফিরে
এসেছে সুকান্ত - জীবনের প্রান্তরে।
এখন যে দিকে তাকাই -
চোখ জুড়ানো প্রকৃতির নির্মলতায় ভরা বরষা।
এতো এতো সবুজের সমাহার
শ্যামলিমা ভরে উঠেছে ধরিত্রীর অশান্ত কোল,
এতো নীলাভ স্ফটিকের মতো
দূষণ হীন সাগরের জলরাশি
নদী গুলো সদ্য স্নাত রমণীর অবয়ব,
উচ্ছ্বাসে গাঙচিল পাখা খোলে
বুক ভরে টেনে নিশ্বাস, উড়ে যায় দূরে
কোথাও তার হারিয়ে যাবার নেই মানা।
পাখিদের এতো গান এতো কলতান
বাড়ির আঙিনায়, পার্ক স্ট্রিটে,
দেখা হয়নি এতো ফাঁকা রাস্তার বিস্তার -
নেই মানুষের ঠাসা ঠাসি,
ঘিঞ্জি হয়ে ওঠে না পায়ে হাঁটার পথ।
আকাশের নির্মলতায় দেখা যায়
মেরামত হয়ে যাওয়া পৃথিবীর ছাদ।
শাখায় শাখায় ফুলের হাসি
ফলের ভারে নুয়ে আছে
বৃক্ষের শক্ত ডালপালাও,
মাঠে মাঠে ফসলের বিপুল আধিক্য,
জীবনকে হাঁপিয়ে তোলা অফিসের চাপ
নেমে গেছে বরফগলা জলের মতো।
একটুখানি ছুটির জন্য
তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা যেখানে
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস
এখন সেখানে অপার অবসর ।
করোনার মহামারি বয়ে এনেছে
এতসব একসাথে - তবুও কেন
দুই চোখ জ্বলে মরুর রুক্ষতায়।

বিধাতা খেলুড়ে এক
সব আনন্দ ছেড়ে দিয়ে
মুক্তি দেয় না নিরঙ্কুশ -
পিছু ছুটিয়ে দেয় কিছু
বিষাদের কারণ।
এখানে সেখানে ঝরে পড়ে টুপ-টাপ
দু'একটি জীবন—
এটাই পরিণত হলো শেষ ভাদ্রের বৃষ্টিতে
কোভিড- নাইন্টিন হয়ে গেলো
আতংক; মানবের অস্তিত্বের সংকট।
ব্যস, এইটুকুই।
ওমনিই পৃথিবী ঘুরতে লাগলো পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
আমার অন্তঃ মানুষটি এখন অসহায়
চিৎকার করে বলে -
ফিরিয়ে দাও ব্যস্ততা ; নগর সভ্যতা!
লও হে গ্রাম; যা আমার শ্যাম!


poisha bazar

ads
ads