ছুটির দিনে মেলায় প্রাণোচ্ছ্বাস


  • সেলিম আহমেদ
  • ২৭ মার্চ ২০২১, ০৬:৪০

স্বাধীনতা দিবস, সাপ্তাহিক ছুটির আবার একই সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। সব মিলিয়ে গতকাল শুক্রবার ছিল মেলার অন্যরকম এক বিশেষ দিন। এমন এক বিশেষ দিনের জন্যই পুরো সপ্তাহ অপেক্ষা করেন বইপ্রেমী আর প্রকাশকরা। তাই তো বিশেষ দিনে দলবল নিয়ে সবাই দৌড় দেন বইমেলায়। করোনা যতই চোখ রাঙাক না কেন থামাতে পারেনি মানুষের স্রোত।

বিকালে বইপ্রেমীদের সরব উপস্থিতি, আড্ডা, কোলাহল আর বিভিন্ন স্টলে ভিড় করে বই কেনাই প্রমাণ করে বই থেকে এখনো মানুষ বিমুখ হয়ে যাননি। ছুটির দিন থাকায় রীতি অনুযায়ী সকাল ১১টায় খুলে দেয়া হয় স্বাধীনতা প্রহরের বইমেলার দ্বার। তখন থেকেই একটু একটু করে শত শত মানুষ ভিড় জমায় সোহরাওয়ার্দী আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সকাল ও দুপুরের দিকে প্রায় দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেকটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বইপ্রেমীদের উপস্থিতি। বিকাল তিনটার পর থেকেই হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মেলা ফিরে পায় তার চিরচেনা রূপ।

এদিকে প্রতিবছর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিশুদের জন্য থাকত বিশেষ আয়োজন ‘শিশু প্রহর’। সেখানে হালুম, টুকটুকি-ইকরিদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠত শিশুরা। কিন্তু এবার করোনা মহামারীর কারণে হচ্ছে না শিশুপ্রহর। ফলে সকালে অন্য বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রকাশকরা। তারা বলছেন, এবার মেলায় শিশু দর্শনার্থীর সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় কম। করোনার কারণে শিশুদের মেলায় নিয়ে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন না অভিভাবকরা।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষজন মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে অনেকের মাঝে উদাসীনতাও লক্ষ্য করা যায়। অনেকে মাস্ক পরিধান করে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেও মেলা প্রাঙ্গণে এসে মাস্ক খুলেও ফেলছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রকাশনা সংস্থা ‘দেশ’-এর পরিচালক চয়নিকা সাথী বলেন, প্রতিদিনই দর্শনার্থী বাড়ছে, বিক্রিও বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং স্বাধীনতা দিবস। বইপ্রেমীদের সঙ্গে দর্শনার্থীরা বেশি এসেছে। রাজধানীতে গণপরিবহন স্বাভাবিক চলাচল থাকলে দর্শনার্থীদের ভিড় আরো বেশি থাকত।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি ইসলাম ভ‚ইয়া বলেন, পাঠকরা উৎসাহের সঙ্গে আসছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমাদের কাছে আসছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে শেষ হয়েছে লিটলম্যাগ চত্বর নির্মাণের কাজ। বসেছে তরুণ লেখকদের আড্ডা। বরাবরই অমর একুশে বইমেলায় তরুণ লেখকদের আড্ডায় মুখর হয়ে থাকে লিটলম্যাগ চত্বর। দেশের অনেক বড় সাহিত্যিকও এই চত্বরে এসে আড্ডায় মেতে ওঠেন।

প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্বে পাশে রমনা কালীমন্দিরের পেছনে লিটলম্যাগ স্টলের জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে লিটলম্যাগ প্রকাশক ও সম্পাদকরা মনে করে লিটলম্যাগ চত্বরকে মূল মেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

গত বছরের জায়গায় অর্থাৎ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম পাশের আমতলায় ফেরার দাবিতে আন্দোলন করে তারা। গত রবিবার মেলার চতুর্থ দিন লিটলম্যাগ চত্বরের সব স্টলে প্রকাশনা প্রদর্শনী ও বিক্রি বন্ধ রেখে সেখানে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ মিছিলও করেন লিটল ম্যাগাজিনের প্রকাশক, সম্পাদক ও কর্মীরা। অবশেষে তাদের দাবি মেনে লিটলম্যাগ চত্বর স্থানান্তর করার ঘোষণা দেয় বাংলা একাডেমি। কয়েকদিনের কাজ শেষে প্রস্তুত লিটলম্যাগ চত্বর। বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে তারা।

 



poisha bazar

ads
ads