মেলার প্রাণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান


poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৪ মার্চ ২০২১, ১০:২১

এই তো মাত্র কয়েক বছর আগের কথা। বাংলা একাডেমি চত্বরে বসত বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। মেলাকে ঘিরে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস একাডেমি প্রাঙ্গণ লেখক, কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সংস্কৃতি কর্মীদের মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে উঠত। সেই সঙ্গে সময়ের স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যাও।

বই, আর সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের ভিড়ে স্টল ঘুরে ঘুরে প্রছন্দের বই কেনা দুষ্কর হয়ে পড়ে। নতুন নতুন প্রকাশনা সংস্থানে স্থান দেয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে ২০১৪ সাল থেকে পার্শ্ববর্তী সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের একটি অংশকেও মেলার অংশ করে বাংলা একাডেমি।

এরপর ক্রমেই বদলে যেতে থাকে মেলার চিত্র। এখনো দুই চত্বরে মেলা বসলেও মেলায় পূর্ণাঙ্গ রূপ থাকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের অংশে। লেখক, প্রকাশক, পাঠকসহ সবার সরব উপস্থিতি নান্দনিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে দেয় আলাদা এক প্রাণচাঞ্চল্যতা।

সোহরাওয়ার্দী মাঠ মেলা প্রাণ হয়ে ওঠায় ২০১৯ সাল থেকে সৃষ্টিশীল লেখক তৈরির কারিগর লিটল ম্যাগ চত্বরকেও স্থানান্তর করা হয় সোহরাওয়ার্দী মাঠে। এখন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল আর রাজনৈতিক স্টলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বাংলা একাডেমি চত্বর। তবে এসব স্টলে রয়েছে বিচিত্র নানা ধরনের বই। কিন্তু খুব একটা দর্শনার্থী কিংবা বইপ্রেমী ঢু মারেন না বাংলা একাডেমি চত্বরে।

উৎস প্রকাশনের প্রকাশক মোস্তফা সেলিম বলেন বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী মেলার প্রাণ হবে এটাই প্রত্যাশিত। কারণ মানুষ বই কেনার আগে একটু মনমতো করে ঘুরে দেখতে চায়। কিন্তু বাংলা একাডেমির ভেতরের স্থান অত্যন্ত স্বল্প। এত কম স্থানে তো আর মনের মতো করে ঘুরে ফিরে, দেখে-শুনে বই কেনা সম্ভব নয়। সোহরাওয়ার্দীতে দেখুন বিশাল জায়গা। খোলা আকাশ। পাশেই স্বাধীনতা স্তম্ভ। লেকের পানিতে স্তম্ভের ছায়া এখানে এক আলাদা স্বর্গীয় আবেশ সৃষ্টি করেছে। ফলে পাঠকরা এদিকটাতেই বেশি আসতে চান। আর আমরা যারা প্রকাশক তাদের তো প্রত্যাশাই থাকে পাঠক যেখানে, সেখানে থাকার। সে অর্থে আমরাও সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রিক থাকতে চাইব- এটাই প্রত্যাশিত।’

আরেক প্রকাশক জুবায়ের বলেন, ‘মেলায় ছোটখাটো কিছু ত্রুটি থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন মেলাকে ধারণ করছে। প্রকৃতি, খোলা আকাশ, স্বাধীনতা স্তম্ভ, লেকসহ এখানে রয়েছে সর্বাধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, উন্নত মানের ক্যান্টিন ও নামাজের স্থান। এসব মানুষকে আকর্ষণ করছে।’

লেখক-প্রকাশকের পাশাপাশি পাঠকরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছেন। তারাও মনে করেন বাংলা একাডেমির চেয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানই এখন প্রকৃত মেলাকে ধারণ করছে। আর এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তারা সোহরাওয়ার্দীতে এসে প্রকৃতির অগাধ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। এ ছাড়া ঘুরে ঘুরে, দেখে-শুনে বই কিনছেন। যে সুযোগ বাংলা একাডেমির চত্বরে নেই।

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুমা বলেন, ‘বাংলা একাডেমির ভেতরের স্থানটি খুবই ছোট। ভালো স্টলগুলোও এখানে নেই। স্যানিটেশন, নামাজের স্থান, বিশুদ্ধ পানি, ফ্রি কফিসহ কত কিছুই আছে সোহরাওয়ার্দীতে। এ উদ্যানের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার স্মৃতিও জড়িত। এ কারণে এখানে এসে এক আলাদা ভালো লাগা অনুভব করি। যেটি বাংলা একাডেমিতে সম্ভব নয়।’

আরেক শিক্ষার্থী ফারহানা বেগম বলেন, ‘বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী দুটিই আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটির সঙ্গে ভাষা আর অন্যটির সঙ্গে স্বাধীনতার স্মৃতি জড়িত। কিন্তু সোহরাওয়ার্দীকে বিশেষভাবে ভালো লাগার কারণ এর সৌন্দর্য। যেটা বাংলা একাডেমিতে নেই।’

 






ads
ads