• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১
  • ই-পেপার

একগুচ্ছ কবিতা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:০৮,  আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:০৯

শ্রেষ্ঠতর ভুল || খৈয়াম কাদের

আঁধারের ঝলকানি দেখে অন্ধরাও আন্দোলিত হয়
উল্লাসে উড়তে থাকে রাতকানা পাখি
ব্লাকহোলে ডুবে যায় বয়োবৃদ্ধ চাঁদ;

গ্যালাক্সি বিষণ্ন মনে ইথারে ভাসিয়ে দেয়
গ্রহতত্ত্ব পীড়া: প্রণয়ের আলাপনে বলে
পৃথিবী হারাবে তার আলোর সাক্ষাৎ।

হূদয়ের ভালোবাসা অভিমানে সরে যায়
ঈশান কোণে, কে যেনো একজন অচেনা ভাষায় ডাকে
জলহীন নদীর ঘোণে। সূর্যের উত্তাপও এখন
কুয়াশা নামায়, শান্তির কথা বলে বিষমাঞ্জুল
দেহাতী মিলনগুলো চরের বালির মতো
অফলা ঊষর বনে যায়, স্বপ্নরা হেঁটে যায় ধূসর ধরণীর পথে।

কেউ কি ছুঁয়েছে কভু দিগন্তরেখা অথবা আকাশের ঝুল?
পৃথিবী জেনেছে আজ—মানুষকে বিশ্বাস করাই তার শ্রেষ্ঠতর ভুল।

আত্মার আর্তনাদ || নাজমুল হুদা

একটি মুমূর্ষু আত্মার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ’বিশুদ্ধ ভালোবাসা’ প্রয়োজন
যেকোন সহূদয়বান ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দিতে পারে শর্তহীন স্নেহ,
প্রতারণার জীবাণুমুক্ত প্রেম।

শুধু হিংসার অনল কিংবা ক্রোধের কণিকা যেন না থাকে মনে।
আর হ্যাঁ, দেহের সব অঙ্গ-ফুসফুস, কিডনি,
যকৃত এমনকি হূিপন্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক!
রক্তে সুগারের মাত্রাও সহনীয়
শুধু আহত আত্মার জন্য নির্মল ভালোবাসা চাই।

সাইয়্যিদ মঞ্জু || নিস্পন্দ

স্বকীয় অধ্যায়ে কতেক সবক
জীবন তাগিদে যত কালের পুস্তকে
উপোস পেটের আহাজারি প্রদর্শনী চিত্রে
ঢেউবুকে অভিবাসী পলায়িত মানুষের পাল
ভূমধ্যসাগর-নাফে মৃত্যুকথা, উড়ে উড়ে পৃথিবীর কানে
প্রার্থনার ঘরজুড়ে নিস্পন্দতা খেদ, মুসাফির নাভিদেশ মুছে।

সব দৃশ্যই অল্প || মাসুদ অর্ণব

দৌড়ালে দ্রুত ক্লান্ত হবে; তুমি তো জানো না
কোন পথে তোমার পথ ফুরাবে। আস্তে আস্তে
হাঁটো; আস্তে আস্তে হেঁটেও যাওয়া যায়
অনেক দূরে! শেষ গন্তব্য তো বিরামপুরে।

মাটির সাথে সম্পর্কটা রাখিও;
মাটিতে পা রেখে উপরে উঠলে
বিন্দুর মাঝেও পেতে পারো সিন্ধু।

মাঝে মাঝে পেছনে তাকিয়ে জীবন্ত রাখিও
পাতাঝরা দিনের গল্প; সব দৃশ্যই অল্প। তুমি
প্রকৃতির সন্তান; শোনিও প্রকৃতির গান।

আশালতা দাঁড়িয়েছিল একা একা || শিউল মনজুর

মাত্র কয়েকটি শিশিরবিন্দু ছাড়া এই গৃহস্থালি উঠোনে আর কিছুই নেই। মাত্র কয়েকটি গোলাপ কিংবা গোলাপের সুঘ্রাণ ছাড়া এই ছোট্ট কুড়েঘরের বারান্দায়ও তেমন কিছু নেই। ওরা জানতো গোলাপ কিংবা শিশিরের বিনিময়ে, বিনয় মজুমদারের সাথে একদিন ঘাটবেঁধে মিতালি হবে বৃষ্টি মুখার্জীর, অথচ অতি অভিমানে গোপনে হাউজিং কলোনীর সেই মুখার্জীবাবুর ছোট্ট মেয়েটি ভুল বুঝাবুঝির আগেই ভুল বুঝে চলে গেছে আন্তঃনগরে, বাতিজ্বলা দুধভাতের শহরে!

ঘাসবনের কয়েকটি শিশিরবিন্দু ও বৃষ্টিভেজা বারান্দার কয়েকটি গোলাপ ছাড়া ওর হাতে আর কোনো জাদুর চেরাগবাতি ছিল না তখন। বৃষ্টিহীন বর্ষা আসে যায়...তারুণ্যের গোলাপ এখন আর ফুটে না বারান্দায়। হূদয়ভেজা রুমালে খুঁজে পাওয়া যায় না গোলাপের আতর সুগন্ধি।

শিশিরবিন্দুগুলিও দীর্ঘশ্বাসে পুড়তে পুড়তে চৈত্রের বালুচর থেকে ফিরে গেছে নদীর ওপারে নতুন ঘাসবনে। অথচ, ওরা দেখেনি অনতিদূরে ভাঙ্গাব্রিজের উল্টোদিকে আশালতা দাঁড়িয়েছিল একা একা! অতঃপর দিনশেষে স্মৃতিরোমন্থন ছাড়া বিনয় মজুমদারের সাথে আর কখনো দেখা হয়নি বৃষ্টি মুখার্জীর...!

বরেন্দ্রের পথে প্রান্তরে || মারুফ আহমেদ নয়ন

তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি। বৃষ্টিতে ভিজে গেছি। রোদে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছি। আমার মাথায় চুলের জটায় পাখিরা বাসা বেঁধেছে। চিবুক ছুঁয়ে উড়ে গেছে জন্মান্ধ প্রজাপতিরা। আমি নিশ্চুপ ছিলাম, কেননা পতঙ্গের বিষয়ে কথা বলবে একমাত্র পাখিরা।

প্রস্তর যুগে মানুষেরা গুহায় বসবাস করতেন। কখনো সমুদ্র তটে খালি পায়ে হাঁটতেন। আগুনে পুড়তে থাকত বন মোরগের কলিজা, তার হাড়ের তোরঙে জমে থাকতো কান্না। পাহাড়ের ঋতু তখন বসন্ত, শিকার ভুলে তোমার নিকটে এলাম। অজস্র নক্ষত্রপুঞ্জের ভেতর গেলাম ডুবে। আমার ফেরার কথা ছিল না মনে।

তবুও ব্যতিব্যস্ত একটি ট্রেন আমাকে ভুল প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নিয়ে ছুটল বরেন্দ্রের পথে প্রান্তরে। আমি দেখলাম, শুয়ে আছি একটা কফিনের ভেতর, আর হাজারটা লোহার চাকা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, বহুদূর।






ads