দীপংকর গৌতম-এর ভাবনা ও কবিতা


poisha bazar

  • ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৪৭

জীবন হারিয়ে যায়

জানালায় নিঃসঙ্গ গভীর রাতেরা এসে আড্ডা জমায়
পান তামাক আর লবণ জলের নেমন্ত্রণ উঠে গেছে।
সে সবই আলোচ্য বিষয়
আমাদের মননের গভীর থেকে যতো মানুষ হারিয়ে যায়
তাদের তালিকা থাকে রাত্রির হাতে
মানুষ হারিয়ে যায়, বন্ধু হারিয়ে যায়,
সময় হারিয়ে যায়।

একটু শুশ্রূষা, একটু আদ্র স্নেহ,
ভালোবাসার দেয়াল টপকে
প্রতিদিন হারায় কেউ না কেউ।
প্রতিটি জীবনে জীবন হারায়
হার মানে মহামারী, কত বাল্য
স্নেহেরা লাঙ্গলের ফলায় পুরনো ফসিল
ওঠার মতো দেখা দেয় নাগরিক ব্যস্ততা
অদৃশ্য রাবারে মুছে দিয়ে যায় নাম।

তবু মনে পড়ে—
হারানো নাম, দুরন্ত শৈশব, কৈশোর ঘাটে-অঘাটে
পরিচিত সম্ভাবনা হারিয়ে যায়।
রাত্রি ঘন হলে, ঘুমের ভেতরে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে
এগিয়ে যেতে যেতে মনে হয়
কত নাম, কত নামহীন, গোত্রহীন সব অবয়ব।
কতসব জীবন অতিক্রম করেও
মানুষ ভালো থাকে সুখী হয়।

জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে,
বিশাল লেখার পাশে একটি আঙুলের
চিহ্নের লৌকিকতা সবখানে।
কিসের এত ব্যস্ততা?

তবু সর্ষেক্ষেতের আলে,
বেড়ে ওঠা শিশু, ঘাসে বেড়ে ওঠার প্রত্যয়,
দোয়েল, ফিঙের সুর, সরোয়ার বেহাগে
উঠে আসে সেই সব নাম
যারা হারিয়ে যায়-হারিয়ে গেছে ।

উপেক্ষা

তোমার উপেক্ষাগুলো পথের দুপাশে
দেবদারু বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।
তবু আমি পাতাদের সংসারে কবিতার চাষে
ব্যস্ত সময় কাটাই। কতকাল যেন আকাশ দেখি না,
পাখির কুজন কিংবা ঢাকের প্রাণহরা বাদ্য শুনি না।

আমাদের তল্লাট থেকে রয়ানির গান,
পদকীর্তন ডাহুক কিংবা তিলাপরা
ঘুঘুর মতো বিরল হয়ে গেছে।
শৈশবে আমার বন্ধু জাহিদের কাছ
থেকে ঘুঘু ধরা শিখেছিলাম।

চৈত্রের দুপুরগুলো আমাদের ঘুঘু খুঁজতে চলে যেত।
এখন শৈশবগুলো ইটের বস্তার মতো বই বহন করে।
শিক্ষা বেঘোরে ঘুমায় স্কুলের আলোকিত অন্ধকারে।
উপেক্ষার অঙ্ক শিখে আমি ঝরা পাতাদের
সংসারে কাল-কেউটের প্রশ্বাসের গন্ধ নেই।

রিকশার হুডগুলো তবু ঝুলে থাকে মৃত মানুষের মতো।
উপেক্ষার ঘোর ভেঙে দাঁড়াতে চায় পারে না। একদম না।
জগদ্দল পাথরের মতো উপেক্ষাগুলোও উপেক্ষিত
জানালায় মরিচা ধরা শিক, মাকড়সার জাল
ময়লা ধরা বেডশিট। টেবিল ভর্তি শূন্যতা, গভীর রাতে
সড়কের একাকীত্ব নিয়ে কুকুর কুণ্ডলি হয়ে পড়ে থাকে।
বিশ্বের সতেজ ঘুমগুলো তখনও জেরুজালেমের
রাষ্ট্রীয় বুটের শক্তির কাছে নতজানু হয়ে থাকে।






ads
ads