শোষণের বিরুদ্ধে স্লোগানই কবিতা


poisha bazar

  • দীপংকর গৌতম
  • ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৪১,  আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৪৫

কবিতার অর্থ নানা জনের কাছে নানা রকম হতে পারে কিন্তু আমি কবিতাকে দেখি আমার মতো করে। কবিতা মানুষের অন্তর্গত দুঃখ -বেদনা, আনন্দেও এক হূদ্দিক সমাধান। ভাব-ভাষা-ছন্দ- উপমার মধ্য দিয়ে যার প্রকাশ ঘটে। জীবনানন্দ দাশের কবিতার একটি লাইনকে মনে হয় এটাই কবিতা— ‘অর্থ নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়-/আরো-এক বিপণ্ন বিষ্ময়/আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে/খেলা করে;/আমাদের ক্লান্ত করে; ।’

এই যে ‘বিপণ্ন বিষ্ময়’ যার জন্য আমি ঘন শীতের মধ্যে জেগে উঠে কলম খুঁজি, পথে হাঁটতে হাঁটতে পথ ভুলে যাই আবার আমার ক্যানভাস বা আমার প্রিয়তম আত্মজাকে বহুরঙে সাজাতে যেভাবে ভাবের সাধনায় প্রমত্ত হই—কবিতা সেটাই।

কবিতার মূল বিষয় পারিপার্শ্বিক দৃশ্য, আচার, আচরণ দেখে আনন্দ— বেদনা -সত্য ও সুন্দরের মূর্ছর্নায় নিজেকে প্রকাশ করা। অনুভবে অবলা চেতনার চেয়েও বেশি অনুরাগ কে ধারণ-বোধে, চেতনার অনুসরণে— শ্রুতিতে সুরময়তা,প্রকাশে জীবন্ত শৈলী। এ

প্রসঙ্গে,এ্যারিস্টেটলের ‘পোয়েটিক্স’ পৃথিবীতে এ-পর্যন্ত পাওয়া শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কিত প্রাচীনতম দার্শনিক রচনা। যার অন্যতম বিষয় হচ্ছে সাহিত্যের মতাদর্শ। এতে বিভিন্ন প্রকারের বিষয় প্রযুক্ত হলেও কাব্য (লিরিক পোয়েট্রি ও এপিক পোয়েট্রি) নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে এর পরে আর কিছু বলার থাকে না এ জন্যে যে কবিতা শিল্পকলার সবচে প্রাচীন ধারা হিসেবে গৃহীত।

জার্মান কবি হাইনার মারিয়া রিলকে বা রুশ কবি মায়াকোভস্কির একটা চিন্তা আমাকে খুব তাড়িত করে। তাদের দুজনের বক্তব্য ভিন্ন থাকলেও মূল কথা হচ্ছে , কবিতা না লিখে বা কবিতা লিখবেন না এমন ভাবনা ভেবে আপনি কি একদিনও বাঁচতে পারবেন? এর উত্তরে আমাকে বলতেই হয় ‘না’ । তার মানে না বলতে বলতে অনুভব, অনুভূতির যে তর্জমা সেটা কবিতা ছাড়া আর কিছু না।

আমার ভালোবাসা, আমার ঘৃনা , অনিয়ম, অপশাসন, শ্রম-শোষণের বিরুদ্ধে আমার স্লোগান—সবই আমার কবিতা। তার মানে আমি যে প্রতিদিন কবিতা লেখি তা নয় । না লিখলেও বুকের ভেতরে হৃদয়ের গহীনে যে চিন্তা আমাকে শৈল্পিক অনুভব লিপিবদ্ধ করতে তাড়া দেয়, সে আমার কবিতা।






ads
ads