হেমন্তগন্ধা কবিতা 


poisha bazar

  • ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:১১

হেমন্তগন্ধা রাত
তাহমিনা শিল্পী

এক হেমন্ত রাতে আমরা ছাদে গিয়েছিলাম
একসাথে নয়, যে যার মত
আমাদের ছায়ারা মিলেছিল প্রণয়ের মাতাল গন্ধে
আমরা বুঁদ হয়েছিলাম চাঁদের মায়ায়
আমাদের দৃষ্টি বেয়ে নেমেছিল থইথই জোছনা।

আজও হেমন্ত এলে আমরা ছাদে যাই, একসাথে
আমাদের ছায়াদের মাঝে বয়ে চলে দূরত্বের নদী
তবু কাকের মতো ঠোঁট ডুবিয়ে
হেমন্তগন্ধা সেই রাতের অবশিষ্ট খুঁজে বেড়াই
স্মৃতির আঁস্তাকুড়ে।


ফেরা
শাকিলা খান চয়ন

মনের মাঝে এখানটায় এই তো আমি
ফিরে দেখো মৃদু হাওয়ার ফাগুন তুমি
রং তুলিতে এলোমেলো ভাবনা গুলো
হারায় নাকো ভুবন জুড়ে, যে ঘ্রাণ ছিল
স্বপন মাঝি বেয়ে চলে মাতাল তালে
কুলের ধরন ছন্দে তরী আঁচল বিলে
এইখানে এই লাল হলুদে মাখামাখি
চোখের মায়া প্রাণের ছায়া মুক্ত পাখি।
আজ এই নতুন আলোর মায়া ঝলকানিতে
এই হাতে হাত, রাখবে তুমি এই আমিতে।


হেমন্ত
জহুরুল ইসলাম

মন- পাখি উড়ে যায় হেমন্তের মাঠে
কুয়াশা ভেজা রোদ্দুরে।
তখনও শিশিরের ঘ্রাণ
ফড়িং ডানায়।

কৃষকের সোনালি হৃদয়
হলুদ ধানের পাশে সারাদিন ধরে।
বুকের তলে স্বপ্নের ঢেউ
উথাল পাথাল।

বুকের দুয়ারে আসে হেমন্তের হাওয়া
বধূর হরিণ চোখে অসীম আকাশ...


নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ পরিচিতি
কামরুন নাহার রুনু

চলতে চলতে বহুদূর পেরিয়ে
শত ঘুমন্ত আঁধার ;
আমি বলি-
চলো কুড়াই ,বৃক্ষের উদরে জন্মানো অগণন পাতা
যা ঝরে গিয়েও দিচ্ছে আলো উজ্জ্বল পার্থিবতার!
জীবনের সৌন্দর্যে চলো বুনি;
আনন্দ আর দুঃখের ফসল,
যেখানে ক্রমাগত অঙ্কুরোদগম হচ্ছে আকাক্সক্ষার বীজ!
উত্তর,দক্ষিণ, পূর্ব,পশ্চিম চারদিকে যখন কাঁদছে ভ‚গোল
আমি বলি-
চলো সবুজ তৃণের সাথে গলাগলি করি,
শিখে নেই বিনম্রতা!
একবার না হয় কুলাকুলি করে জেনে নেই,
কি করে
পাথরের চারদিকে মাথা গুঁজে রাখে সোনালি স্বর্ণলতা,
নিজেকে রাখে নিরাময়বোধে সুরক্ষা কবজ দিয়ে!
চলো, শুভকামনার বর্ণমালায়;
সাজাই নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ পরিচিতি।


দৃষ্টি
বজলুর রশীদ

এভাবেই চলাচলে কামুক আঁধার
প্রত্যাশার শেষ বিন্দু কবেই
ছুঁয়ে নিয়েছে সাবধানী পা।

তোমার দৃষ্টিবন্দি চাঁদের লক্ষ্যে
ভ্রম আর সত্যের মাঝে যে চোরাগলি
কখনো যে আঁধার কুয়াশায়
সেখানে আর আলোর পিছু নিয়ে
শান্তির শঙ্খ বাজাতে বাজাতে
এগোতে হয় না এখন ;
সব চাওয়া-পাওয়া হারিয়ে
কিংবা নিজেকে পুড়িয়ে
তোমার অস্থির দৃষ্টি কেবলি হারায়
বোধের পরিপূর্ণতার পথে
আরো এক পা হেঁটে...


নৈমিত্তিক ভ্রমণ
মাহফুজা অনন্যা

আলোর ডানায় ভর করে জলে নামব বলে শিখেছি সাঁতার, এজন্যই আঁধারের
ময়লা বিছানায় উজ্জ্বল জিপসির মতো ঘুমিয়ে থাকি,
নিম প্যাস্টারাল স্বপ্নে উড়ি অদ্ভুত দোয়েলের মুখোশে, যেখানে ঈশ্বরের হাতেও
শিকল পরানো থাকে।

সেখানে বিপুল সন্ধ্যায় আয়োজিত জরুরি উৎসবে মেতে ওঠে সামজিক জীবন,
যেখানে প্রতিমুহূর্তে হাই তোলে দারুণ কৈশোর, সেইসব উৎসব ফেলে রেখে
একা একা ঘুরে বেড়াই জীবনের নৈমিত্তিক ভ্রমণে, ভ্রমণ শেষে এটুকু উপলব্ধি
করি, তুমি ছাড়া নতুনত্ব নাই কোনো সৃজনে কিংবা বিনাশে।

মুহুর্মুহু জিজ্ঞাসার নীল বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে আমার জীবনের বড়পর্দায়, যেখানে
ভবিষ্যৎ-প্রাক্তনের দণ্ডায়মান স্তম্ভগুলো দাঁত কেলিয়ে হাসে, উত্তীর্ণ বয়স্য
যাপনে আমি শুধু প্রতীক্ষা মেনে নিয়ে চলেছি, চলছি...

সময়ের সলতে নিভে যাবে পৃথিবীর উঠোনে কুড়ানো ধূসর সুঁতোয় সেলাই করে
চলেছি অসীমের একখানি চাদর।


তারা তা নুকরা
গাফফার মাহমুদ

লক লকে বেড়ে ওঠা বাঁশঝাড় মাটির ঢিবিতে শুয়ে আছেন পিতা
একটা কামিনী ফুলগাছ সুশীতল ছায়ার নিচে মায়ের কবর

পিতার জায়নামাজ, চিরুনি-আয়না অবিকল রয়ে আছে ঘরে
ব্যবহৃত বাসন-থালা, তসবী-কোরআন আছে এখনও ঠিক

মায়ের চিকন বেল্টের চপ্পল, বাবার জুতো পড়ে আছে সেলফে
কতোদিন তোমাদের ছাড়া আমরা আছি শূন্য ঘরে একেবারে

খসখসে পাতার বাঁশঝাড়, কামিনী ফুলগাছে সুবাসিত পিতা-মাতা
কবরে শায়িত রেখে কণ্ঠ মেলাই ‘মিন হা খালাক না কুম ...
তারা তা নুকরা’


গোলাপ কাব্য
সুমন বণিক

একটি গোলাপ পাপড়ি মেলে আমায় ডেকে ছিলো
কথা গুলো ফুটে ওঠে প্রেমের বার্তা দিলো।

কুঁড়ি গোলাপ খুব নীরবে গুমড়ে ওঠে কেঁদে
জমা কথার দহন জ্বালা বুকে রাখে বেঁধে ।

ভালোবাসার রঙটি ফুটে গোলাপের গা জুড়ে
না-বলা সব কুঁড়ি হয়েই থাকে দূরে দূরে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads