‘দিনের পর দিন’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি

মারুফ ইসলাম

মারুফ ইসলাম
মারুফ ইসলাম

poisha bazar

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:০৭

সব সময়ই কিছু না কিছু পড়ি। আমার হাতে বেশিরভাগ সময়ই বই থাকে। রাস্তায় হাঁটছি, হাতে বই আছে, অফিসে যাচ্ছি, হাতে বই আছে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি, হাতে বই আছে, রিকশায় যাচ্ছি, হাতে বই আছে, বাসের পা-দানিতে ঝুলছি, তখনো হাতে বই আছে। তবে এই সঙ্গনিরোধকালে খুব একটা বাইরে বেরোতে পারিনি। উপরন্তু কোভিড পজিটিভ হয়ে টানা তেইশ দিন ঘরবন্দি ছিলাম। তখন পড়াটা হয়েছে আরো বেশি।

এই সময়ে পড়লাম তপন রায় চৌধুরীর বাঙালনামা, আহমদ রফিকের দেশ বিভাগ: ফিরে দেখা, আহমদ শরীফের বাঙলা, বাঙালি, বাঙলাদেশ, ম্যালকম কাউলের লেখকের কথা, বারাক ওবামার অডাসিটি অব হোপ, হাসান আজিজুল হকের শ্রেষ্ঠ গল্প, কায়েস আহমেদের নির্বাচিত গল্প ইত্যাদি। দুজন অগ্রজ লেখক সিরাজুল ইসলাম ভাই ও জয়দীপ দে শাপলু দাদা তাঁদের প্রকাশিতব্য উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি মেইল করেছিলেন। মুগ্ধ হয়ে তাঁদের লেখা পড়েছি। অচিরেই একটি পাঠ-প্রতিক্রিয়া লিখব আশা করি।

এছাড়া আমার আগ্রহের জায়গা যেহেতু বিশ্বসাহিত্যের বাঁকবদল, তাই এই সময়ে পৃথিবীর অন্যদেশের লেখকরা কে কী লিখছেন সেসবও পড়েছি অনলাইনে। ইরাকি লেখক তামারা মাহমুদ হায়েস, মার্কিন লেখক সুশানা ক্লার্ক, জেসিকা ভ্যালেন্তি, ভারতীয় লেখক দেবারতি মুখোপাধ্যায় ও প্রীতি শিনয়ের গল্প পড়েছি। বিস্মিত হয়েছি হারুকি মুরাকামির একটি ছোটগল্প পড়ে।

এসব পড়ার ফাঁকে ফাঁকে লেখালেখিও করেছি টুকটাক। আমার পরবর্তী গল্পের বই, যার সম্ভাব্য নাম ‘মাছের পোলাও’ সেটির পাণ্ডুলিপি প্রায় গুছিয়ে এনেছি। উপন্যাস লিখছি ‘দিনের পর দিন’ নামে। সেটিও অনেকদূর এগিয়েছে। এছাড়া আমি পত্রিকায় প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ফিচার অনুবাদ করে থাকি। সে সসব কাজও নিয়মিত করছি। আমি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক সøাভো জিজেক, ইউভাল নোয়াহ হারারি, নাসিম নিকোলাস তালেব ও অরুন্ধতি রায়ের লেখা নিয়মিত পড়ে থাকি। স¤প্রতি লেখা তাদের কয়েকটি প্রবন্ধ অনুবাদ করেছি। সেসব ছাপাও হয়েছে পত্রিকায়।

সম্প্রতি এক মার্কিন ঔপন্যাসিকের জনপ্রিয় একটি উপন্যাস অনুবাদ করতে শুরু করেছিলাম। শতাধিক পৃষ্ঠা অনুবাদ করেও ফেলেছি। এরমধ্যে হঠাৎ ওই লেখক মেইল করে জানালেন, তিনি চান না এই মুহূর্তে বইটি বাংলা ভাষায় অনূদিত হোক। অগত্যা ওই অনুবাদকর্ম থামিয়ে দিতে হলো।

সে যাইহোক। এখন দুশ্চিন্তা একটাই, ‘দিনের পর দিন’ উপন্যাস শেষ করা নিয়ে। আসন্ন বইমেলার আগে শেষ করতে পারব কিনা সন্দিহান। তবে প্রাণপণে চেষ্টা করছি শেষ করার। দিনরাত লিখে যাচ্ছি। আর পরিচিত কয়েকজন সাহিত্য সম্পাদকের ভালোবাসার তাগিদে লিখে যাচ্ছি ছোটগল্প। এই তো! এসব নিয়েই আছি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...