গোয়েন্দাদের গোয়েন্দাগিরি

অরুণ কুমার বিশ্বাস


poisha bazar

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:০১

প্রথম পর্ব'র পর- 

কনসাল্টিং ডিটেকটিভ শার্লক হোমস 
যেমনটি বলছিলাম, ইংরেজ লেখক আর্থার কোনান ডয়েলের একটি কাল্পনিক চরিত্র শার্লক হোমস। তিনি নিজেকে পেশাদার গোয়েন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন। কয়েকটি বিষয়ে তার জ্ঞান এবং ধীশক্তি আমাদের রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয়। নানান বিষয়ে তার গভীর জানাশোনা, তাঁর ছিল তীব্র পর্যবেক্ষণক্ষমতা, ফরেনসিক সায়েন্স নিয়ে তিনি প্রচুর পড়ালেখা করেছেন, সর্বোপরি ডিডাকশন বা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিজ্ঞানমনস্ক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা গূঢ় সমস্যার সমাধান খুঁজতে শার্লক হোমসের জুড়ি নেই।

তাকে মোটেও শখের গোয়েন্দা বলা যায় না, কারণ তিনি গোয়েন্দাগিরির বাইরে তেমন কোনো কাজ করতেন না, এটাই ছিল তার রুটি-রুজির একমাত্র উপায়। সেই অর্থে মক্কেলের কাছ থেকে পাওয়া সম্মানী দিয়েই তার জীবিকা নির্বাহ হত। একজন পেশাদার ডিটেকটিভ হিসেবে মক্কেলের কথা শুনে কেস পছন্দ হলেই তিনি তা নিতেন, তবে দুএকটি ক্ষেত্রে তিনি অবশ্য নিজ উদ্যোগেই রহস্যের অনুসন্ধান করেছেন। সহযোগী ও বন্ধু ডা. জন এইচ ওয়াটসনের ভাষায় মি. হোমসের যখন করবার মতোন তেমন কোনো কাজ থাকতো না, কেবল তখনই তিনি এজাতীয় কাজ করতেন।

শার্লক হোমস চরিত্রের নেপথ্যে
যারা গোয়েন্দাগল্প লেখেন বা লিখছেন তাদের প্রতিটি চরিত্র সৃষ্টির পেছনে একটি গল্প থাকে। অর্থাৎ গল্পের পেছনের গল্প। আর্থার কোনান ডয়েল কিন্তু শুরুতেই গোয়েন্দা গল্প লিখবেন বলে মনস্থির করেননি। ‘রয়্যাল ইনফারমারি অফ এডিনবরার বিখ্যাত সার্জেন যোসেফ বেল কোনান ডয়েলকে এই কাজে উৎসাহিত করেছিলেন। ১৮৭৭ সালে যোসেফ বেল-এর সঙ্গে তার দেখা হয়, এবং তিনি কিছুদিন বেল সাহেবের অধীনে ক্লার্ক হিসেবে কাজও করেছেন। ডয়েল অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, ছোটখাটো বিষয়ও কেমন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন মিস্টার বেল। হাতের কাছে থাকা খুঁটিনাটি তথ্যের ভিত্তিতে তিনি চমৎকার সব সিদ্ধান্তে উপনীত হন, যা কিনা আর্থার কোনান ডয়েলকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। তিনি ঠিক করলেন যে ডাক্তারি বাদ দিয়ে তিনি গোয়েন্দা গল্প লিখবেন। যোসেফ বেল হলেন তার সেই অনুপ্রেরণা।

আরো একজন অবশ্য ডয়েলকে এক্ষেত্রে প্রাণিত করেছিলেন। তিনি হলেন এডিনবরা মেডিকেল স্কুলের জুরিসপ্রæডেন্স বিভাগের প্রধান স্যার হেনরি লিটলজন। তিনি পুলিশ সার্জেন হিসেবেও কাজ করতেন। তার সাহায্যেই মূলত আর্থার কোনান ডয়েল অপরাধ তদন্তের সাথে চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণার ব্যাপারে মকশো করার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেন।

স্যার হেনরি লিটলজন অবশ্য এর পুরো কৃতিত্ব ডয়েলকেই দিতে চান। তিনি পরে এক পত্রে লিখে জানান, ‘তুমি নিজেই শার্লক হোমস, ডিয়ার আর্থার, আর তুমি সেটা বেশ ভাল করেই জানো’। অর্থাৎ চরিত্র যার আদলেই নির্মিত হোক না কেন, শার্লক হোমস আদতে কোনান ডয়েলেরই সৃষ্টি। প্রসঙ্গত বলা যায়, কোনান ডয়েল তার শার্লক হোমস চরিত্রটি তৈরি করতে গিয়ে অন্তত দুজন লেখকের কাছে ঋণ স্বীকার করেছেন। এডগার অ্যালান পো তার মধ্যে অন্যতম। তিনি নিজেই বলেছেন যে, পো’র প্রতিটি গল্পই আরো অনেক গোয়েন্দা গল্পের বীজ বপন করে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যালান পো’র আগমনের আগে গোয়েন্দা গল্প কোথায় ছিল! আদৌ ছিল কি? অ্যালান পো’র গোয়েন্দা চরিত্র অঁগস্ত দুঁপা সরাসরি অবশ্য শার্লক হোমসের কোনো গল্পে হানা দেননি, তবে নেপথ্যে অবশ্যই ছিলেন।

এক্ষেত্রে আরেকজনের নাম না করলেই নয়- তিনি হলেন ফরাসি লেখক এমিল গ্যাবোরিও’র গোয়েন্দা মঁসিয়ে লুকোক। আর্থার কোনান ডয়েল যখন লিখতে শুরু করেন, ততদিনে এমিলের গোয়েন্দা লুকোক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। কোনান ডয়েলের শুরুর গল্প ‘অ্যা স্টাডি ইন স্কারলেট’ এ লুকোককে নিয়ে শার্লক হোমস ও ডা. ওয়াটসনকে আলাপ করতে দেখা যায়। (চলবে)

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...