কয়েকটি কবিতা

উপলব্ধির ছয় লাইন রেজাউদ্দিন স্টালিন  একদিন আমি থাকবো না তুমি জানো,  একদিন তুমি থাকবে না আমি জানি। থাকবে না নীল আকাশের উদ্যানও। কোনোমতে টানি জীবনের যত গ্লানি। না থাকার কথা মনে পড়লেই চুপ হাজার প্রাপ্তি যেনো ভস্মস্তূপ।   আলোর বিপরীত মাহফুজা অনন্যা   খোলা সংবাদে উড়ছে দামোক্লিসের স্থির তলোয়ার আসমানি কেতাবগুলো পঙ্গপালের মতো রঙ ছড়াচ্ছে,  মানুষের চোখের আলো বিকিরিত হয় না, বরং আলোর বিপরীতে তারা প্রত্যেকেই স্ববিরোধের খনি... সেই অতলান্ত খনির গভীরে হেলমেট পরিহিত ক্ষমতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এক অদৃশ্য শক্তি  জলের নিচ দিয়ে যেমন পালিয়ে যায় অদৃশ্য কাছিম...   সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ মোশাররফ মাতুব্বর  মৃত্যু নিবন্ধন হয়ে গেলে সম্পর্কের খেড়োপাতা ভেসে ওঠে  ষ্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেল রাতের স্তব্ধতার ইতি টানে পূজার শেষে রক্ত জবা বিচ্ছিন্নভাবে পূজারীরাই ছাঁটে তবে তুমি কোন সম্পর্কের কথা বলবে, নিজের বাইরে কে কতটা মানে। নিজের অপরাগতা নিয়ে আত্মহত্যা করা যায় না, সম্পর্কে ঘুণ ধরে গেলে বেদ বমি হয় আঁচিলের ধারে বিশ্বাসের আয়না ভেঙে দিয়ে নিজেকে দেখার বায়না হৃৎপিণ্ড কেটে হাতে তুলে দিয়ে বলো কে আর মারে।   পাখিমন রাশেদ রেহমান    বারান্দা ভর্তি যে আকাশ আমার, সে আমার ইচ্ছাবিরুদ্ধ স্বাধীনতা।  ডানাভাঙা সামর্থ্য গুলো প্ররোচিত প্রলম্বিত করে।  স্বপ্নভঙ্গ হয় বারংবার!  তবুও অযাচিত সাধ্যহীন সাধ আমার ওড়ার!  সারাক্ষণ পাখিমন। উড়াল উড়াল ঢেউ।  কেন! গণতন্ত্রহীন পালকবিহীন  সচ্ছলতা আমার।   কে বলল-ডানা ছিলনা মানুষের!  ডানাওয়ালারাই হত্যা করে মানুষ, মানবিকতা।   পথ হেঁটে হেঁটে যে হেলান দেয়া শহর, তার চাতাল খুঁড়েই পৃথিবী বানাবো! ছাদ তুলে দিবো আকাশ।   এক চিলতে মেঘ হয়েই উড়তে চাই। প্রতিজ্ঞা প্রতীক্ষা উড়বোই।   আকাশ লীনা নুসরাত সুলতানা   সাদা মেঘ আর নীলাকাশ কতটা একে অন্যের? কাশফুল আর  বিমুগ্ধ দর্শকের মুগ্ধ চোখ; যতটা একে অপরের, আমরা কি ততটা পেরেছি হতে পরস্পরের?  শিউলি, চাঁদ আর কাশফুল শরতকে যেমন করেছে রুপালি পরী আমিও তো চেয়েছি  আকাশী নীল শাড়ি সাদা চুড়ি, সাদা টিপ আর রুপোর নূূপুর পরে  আকাশ লীনা হতে শুধু অভাব ছিল; একজোড়া বিমুগ্ধ চোখের!    অন্ধকার দিপন দেবনাথ  যে কটা দিন আমার রাত হয়ে এসেছে সে কটা রাত যদি দিন হয়ে ফিরতো, তবে জীবন আলোর বিভীষিকায় ভরে যেতো! রাতের অভ্যস্ততার আমি প্রেমে ডুবে গেছি ডুবে গিয়ে ভেসে আছি আঁধার কালোয় আমি অন্ধকার ভালোবাসি, বড় বেশি কারণ আমি প্রতিবিম্বে আঁৎকে উঠি, ছায়া পিছু পিছু

poisha bazar

  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১৮,  আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:২৩

উপলব্ধির ছয় লাইন
রেজাউদ্দিন স্টালিন

একদিন আমি থাকবো না তুমি জানো,
একদিন তুমি থাকবে না আমি জানি।
থাকবে না নীল আকাশের উদ্যানও।
কোনোমতে টানি জীবনের যত গ্লানি।
না থাকার কথা মনে পড়লেই চুপ
হাজার প্রাপ্তি যেনো ভস্মস্তূপ।


আলোর বিপরীত
মাহফুজা অনন্যা

খোলা সংবাদে উড়ছে দামোক্লিসের স্থির তলোয়ার
আসমানি কেতাবগুলো পঙ্গপালের মতো রঙ ছড়াচ্ছে,
মানুষের চোখের আলো বিকিরিত হয় না,
বরং আলোর বিপরীতে তারা প্রত্যেকেই স্ববিরোধের খনি...
সেই অতলান্ত খনির গভীরে হেলমেট পরিহিত ক্ষমতাকে
বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এক অদৃশ্য শক্তি
জলের নিচ দিয়ে যেমন পালিয়ে যায় অদৃশ্য কাছিম...


সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ
মোশাররফ মাতুব্বর

মৃত্যু নিবন্ধন হয়ে গেলে সম্পর্কের খেড়োপাতা ভেসে ওঠে
ষ্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের হুইসেল রাতের স্তব্ধতার ইতি টানে
পূজার শেষে রক্ত জবা বিচ্ছিন্নভাবে পূজারীরাই ছাঁটে
তবে তুমি কোন সম্পর্কের কথা বলবে,
নিজের বাইরে কে কতটা মানে।
নিজের অপরাগতা নিয়ে আত্মহত্যা করা যায় না,
সম্পর্কে ঘুণ ধরে গেলে বেদ বমি হয় আঁচিলের ধারে
বিশ্বাসের আয়না ভেঙে দিয়ে নিজেকে দেখার বায়না
হৃৎপিণ্ড কেটে হাতে তুলে দিয়ে বলো কে আর মারে।


পাখিমন
রাশেদ রেহমান

বারান্দা ভর্তি যে আকাশ আমার,
সে আমার ইচ্ছাবিরুদ্ধ স্বাধীনতা।

ডানাভাঙা সামর্থ্য গুলো প্ররোচিত প্রলম্বিত করে।
স্বপ্নভঙ্গ হয় বারংবার!

তবুও অযাচিত সাধ্যহীন সাধ আমার ওড়ার!
সারাক্ষণ পাখিমন। উড়াল উড়াল ঢেউ।

কেন! গণতন্ত্রহীন পালকবিহীন সচ্ছলতা আমার।

কে বলল-ডানা ছিলনা মানুষের!
ডানাওয়ালারাই হত্যা করে মানুষ, মানবিকতা।

পথ হেঁটে হেঁটে যে হেলান দেয়া শহর,
তার চাতাল খুঁড়েই পৃথিবী বানাবো!
ছাদ তুলে দিবো আকাশ।

এক চিলতে মেঘ হয়েই উড়তে চাই।
প্রতিজ্ঞা প্রতীক্ষা উড়বোই।


আকাশ লীনা
নুসরাত সুলতানা

সাদা মেঘ আর নীলাকাশ
কতটা একে অন্যের?
কাশফুল আর বিমুগ্ধ দর্শকের মুগ্ধ চোখ;
যতটা একে অপরের,
আমরা কি ততটা পেরেছি হতে
পরস্পরের?
শিউলি, চাঁদ আর কাশফুল
শরতকে যেমন করেছে রুপালি পরী
আমিও তো চেয়েছি
আকাশী নীল শাড়ি
সাদা চুড়ি, সাদা টিপ
আর রুপোর নূূপুর পরে
আকাশ লীনা হতে
শুধু অভাব ছিল;
একজোড়া বিমুগ্ধ চোখের!

 

অন্ধকার
দিপন দেবনাথ

যে কটা দিন আমার রাত হয়ে এসেছে
সে কটা রাত যদি দিন হয়ে ফিরতো, তবে
জীবন আলোর বিভীষিকায় ভরে যেতো!
রাতের অভ্যস্ততার আমি প্রেমে ডুবে গেছি
ডুবে গিয়ে ভেসে আছি আঁধার কালোয়
আমি অন্ধকার ভালোবাসি, বড় বেশি
কারণ আমি প্রতিবিম্বে আঁৎকে উঠি, ছায়া
পিছু পিছু হেঁটে আমায় স্মরণ করিয়ে দেয়
আমি বেঁচে আছি, হেঁটে চলেছি অন্তিম দিশায়
আমার মস্তিষ্ক জুড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠে সীমারেখা
যত চেনা মুখ পরিচিত হাসি ভেসে আসে পাশে
করুণ কণ্ঠ হয়ে চিৎকারে ফেটে পড়ে আলোয়
আমি প্রার্থনা করি, ফিরে পেতে ঘন অন্ধকার
আঁধার আমায় মহাশূন্যে আশ্রয় পেতে দেয়
আমি নিরুদ্দেশ হয়ে যাই শ্বাস নিতে নিতে
তাইতো আমার রাত দিন হয়ে ফিরে আসে না।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...