'প্রচারণায় ভয় পান প্রকাশক, যদি বিজ্ঞাপনের টাকা না ওঠে'

মানবকণ্ঠ
সাব্বির জাদিদ

poisha bazar

  • হাসনাত কাদীর
  • ১৭ আগস্ট ২০২০, ১৭:০২

তরুণ প্রজন্মের মেধাবী লেখক সাব্বির জাদিদ। ভাঙনের দিন, জীবনঘড়ি, পাপ, একটি শোক সংবাদ-এর লেখকের উপন্যাস 'পিতামহ' প্রকাশিত হয় এ বছর বইমেলায়। উপন্যাসটি বিশেষ আলোচিত হয়। জগতের কল্যাণের জন্য লিখতে চাওয়া তরুণ এ লেখকের আজ (১৭ আগস্ট) জন্মদিন। মানবকণ্ঠ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কথা বলেছেন হাসনাত কাদীর

লেখালেখির শুরু কীভাবে?

সাব্বির জাদিদ : খুব ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার নেশা ছিল। আমি পড়াশোনা করেছি মাদরাসা লাইনে। হেফজ পড়ার সময় কওমি মাদরাসা রিলেটেড 'আদর্শ নারী' নামে একটা মাসিক পত্রিকা বের হতো। আমি সেই পত্রিকার গ্রাহক হয়েছিলাম। তখন আমার বয়স মাত্র দশ। আদর্শ নারীতে সবুজ কুঁড়ি বলে ছোটদের একটা বিভাগ ছিল। সেই বিভাগের সদস্য হয়েছিলাম একুশ টাকা মানি অর্ডার করে। সেখানে নবীন লেখকরা লিখত— হাসির গল্প, শিক্ষনীয় গল্প, ছড়া, ক্ষুদে প্রবন্ধ ইত্যাদি। এগুলো খুব আনন্দ নিয়ে পড়তাম। পড়তে পড়তে একদিন মনে হলো আমিও একটু লিখি না! আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় মাসিক আদর্শ নারীতে। তারপর অনেক লিখেছি আমি, কেবল ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার মোহে, অসচেতনভাবে, অধিকাংশই কওমি রিলেটেড পত্রিকায়। ২০১৫ সাল থেকে আমি সচেতনভাবে লেখালেখি শুরু করি। যেহেতু শুরুর পরেও আরও শুরু থাকে, সেই হিসেবে বলা যায় আমার লেখালেখির চূড়ান্ত সূচনা ২০১৫ সাল থেকে।

২০২০ বই মেলায় আপনার কী বই প্রকাশ হয়েছে?

সাব্বির জাদিদ : ২০২০ বইমেলায় আমার একটি উপন্যাস বের হয়েছে। এর নাম রেখেছি 'পিতামহ'। এটা জাহিলি যুগের কিংবদন্তীতুল্য নেতা আবদুল মোত্তালিবের জীবন-আশ্রিত উপন্যাস। এই উপন্যাসে আমি আবদুল মোত্তালিবের জীবনের পাশাপাশি পুরো জাহিলি সমাজকে দেখানোর চেষ্টা করেছি। এটা প্রকাশ করেছে 'ঐতিহ্য'।

শিল্পের মধ্যে জীবন থাকে, জীবনের অভিজ্ঞতা থাকে- আপনার কী রকম?

সাব্বির জাদিদ : জীবনের জন্য শিল্প নাকি শিল্পের জন্য শিল্প— পুরনো বিতর্ক হলেও শিল্পের মধ্যে যে জীবন থাকে, জীবনের অভিজ্ঞতা থাকে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমার লেখায় জীবনের অভিজ্ঞতা যেমন থাকে, কল্পনাও থাকে। আমি জীবনঘনিষ্ঠ, রাজনীতি সচেতন লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।

কেন লেখেন?

সাব্বির জাদিদ : নিজের অনুভূতিগুলো অন্যের সাথে ভাগ করার জন্য লিখি। অল্পবিস্তর যা কিছু লিখছি বা লিখতে চাই, তা মানবজীবনের কল্যাণের জন্য লিখতে চাই।

সমকালীন সাহিত্য নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

সাব্বির জাদিদ : অনেক আবর্জনার ভেতরেও ভালো লেখা হচ্ছে। মেধাবী লেখকরা আসছেন। আমি আশাবাদী মানুষ। ভালো লেখকের সংখ্যা সবকালেই কম থাকে।

লেখকের স্বাধীনতা বলতে আপনি কী মনে করেন?

সাব্বির জাদিদ : লেখক যা বিশ্বাস করেন তা বলতে পারাকেই লেখকের স্বাধীনতা মনে করি। অবশ্য লেখকের বিশ্বাসটাও আবার হতে হবে মানবতার পক্ষে। মানবতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, একজন প্রকৃত লেখক এমন বিশ্বাস লালন করতে পারেন না।

আপনার প্রিয় ৩টি বইয়ের নাম বলুন। বইগুলো প্রিয় কেন?

সাব্বির জাদিদ : দেশি-বিদেশি প্রিয় বইয়ের সংখ্যা অনেক। তবু মাত্র তিনটি বইয়ের কথা জানতে চান, তাই তিনটি বাংলা বইয়ের কথা বলি।
১. মানিক বাবুর পুতুলনাচের ইতিকথা।
২. শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন।
৩. সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের অলীক মানুষ।
এই বই তিনটি তার বিষয়, ভাষা ও কাঠামোর গুণে অনন্য।

বাংলা ভাষা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম জনগোষ্ঠির ভাষা। অথচ এ ভাষার অনেক শক্তিমান লেখকই অর্থনৈতিকভাবে সফল হতে পারেন না। কেন?

সাব্বির জাদিদ : সমস্যা নানামুখী। বাংলাভাষায় যারা কথা বলেন, বাংলা বই যারা পড়েন, তারা অনুন্নত দেশের নাগরিক। আমি বাংলাদেশ এবং কলকাতার কথা বলছি। এখানকার মধ্যবিত্ত শ্রেণির দুমুঠো ভাত জোগাড় করতেই দিন এবং রাতের বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। আমার আত্মীয়-স্বজনদের বলতে শুনি— এত কাজের চাপ, বই পড়ার সময় কোথায়! একারণেই দেখবেন, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠক হলো শিক্ষার্থী। এরা যখন কর্মজীবনে ঢোকে, বই পড়া ছেড়ে দেয়। তো বইয়ের মার্কেট বড় না হলে সেখানকার লেখকরা অর্থনৈতিকভাবে সফল হবেন কী করে! এর পাশাপাশি বইয়ের মার্কেটিঙেরও বড় অভাব আছে। তবে সেক্ষেত্রের আগের কথাটাই এসে যায়। দারিদ্রের দুষ্টচক্রের মতো এখানেও একটা চক্র আছে। সেটা হলো, অনেক টাকা খরচ করে প্রকাশকরা বইয়ের মার্কেটিং করতে ভয় পান। শেষে যদি বিজ্ঞাপনের টাকাটাই ফেরত না আসে!

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সাব্বির জাদিদ : আপনাকেও ধন্যবাদ।

(সাক্ষাৎকারটি ফেসবুক ইনবক্সে নেয়া। সকল প্রশ্নের উত্তর লেখকের লিখিতভাবে দেয়া।)

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...