হাশেম খান : শিল্প ভুবনের উজ্জ্বল নক্ষত্র

আরিফ নজরুল

মানবকণ্ঠ
হাশেম খান - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • ২৪ জুলাই ২০২০, ১৫:১৯

বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খান তরুণ বয়সেই যিনি কচি-কাঁচার মেলার মাধ্যমে শিশু চিত্রকলাকে সংস্কৃতি চর্চার বিষয় হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করেন। বাংলাদেশে শিশু শিক্ষা ও শিশু চিত্রকলার ক্ষেত্রে শিল্পী হাশেম খানেরই অগ্রণী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উপদেশ ও সহযোগিতায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন চিত্রকলায়। শিশুচিত্রের সংস্কৃতি বাংলাদেশের সমাজে তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শিশু পুস্তকে ছবি এঁকে শিশুপাঠকে শিশুদের কাছে আনন্দের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। শিশুদের স্কুল পাঠ্য বইয়ের চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে চিনিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ও জীবনধারাকে চিনিয়েছেন।

আজ শিশু চিত্রকলা বাংলাদেশে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। চিত্রকলার পাশাপাশি মূল্যবান অবদান রেখেছেন উন্নতমানের প্রচ্ছদ, বই-নকশা, পোস্টার, লোগো ডিজাইন ইত্যাদি রুচিশীল নির্মাণে। বাংলাদেশের শিল্প ভুবনের তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। চিত্রশিল্পী পরিচয়ের বাইরেও ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। তাই তার চিত্রকর্মে খুঁজে পাওয়া যায় সেই সংগ্রামী রূপ।

এই গুণী শিল্পী ছিলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার অধ্যাপক। বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের বইয়ের অলঙ্করণে, বিশেষ করে শিশুদের পাঠ্য বইয়ের জন্য ছবি আঁকার নিষ্ঠাবান শিল্পী। তার রঙে, তুলিতে, ভাস্কর্যে উঠে এসেছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীরত্বের গল্প ও বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’ হিসেবে স্বীকৃত ছয় দফা দাবির আন্দোলনের কথা। মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তরের ঘটনাবৃত্ত, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর ইতিহাস তুলে ধরেছেন শিল্পী। চিত্রকর্মে বাংলার মানুষ, নিসর্গ, বাংলার নারী, শিশু আর লোকজ মোটিফে আঁকা নিত্য আসবাবের নকশা নিয়েও নিরীক্ষাধর্মী শিল্পী তিনি। তার আঁকা চিত্র শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। শিশুরা ছবি দেখেই গল্প, কবিতা মুখস্থ বলতে পারে। তার ছবি কথা বলে শিশুদের সঙ্গে। শিশু মনে স্বপ্নের জগৎ তিনি তৈরি করে দেন রঙ-তুলির ভাষায়।

তিনি একের পর এক জাদুঘর তৈরি করছেন, শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার মাধ্যমে শিশুদের দেশপ্রেমিক হওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। শিশু চিত্রকলাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৭২ সালে প্রণীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান গ্রন্থ অলঙ্করণের প্রধান শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। নন্দিত এই শিল্পী চারুকলায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৯১) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১২) লাভ করেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 





ads






Loading...