পল্লীকবি জসীমউদদীনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে

রুহিত সুমন

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৪ জুন ২০২০, ১৩:৩২,  আপডেট: ০৪ জুন ২০২০, ১৩:৪৭

ভ্রমণ এবং নতুন কিছু দেখা ও জানা বরাবরই অনেক পছ্ন্দ আমার। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব ভালো লাগে। সালটা ২০১৬'র শেষের দিকে, ঢাকা থেকে খুব ভোরে রওনা হলাম, উদ্দেশ্য বাংলার পল্লীকবি জসীমউদদীনের স্মৃতিবিজড়িত বাসস্থান পরিদর্শন ।

তুমি যাবে ভাই– যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি।

গাড়িতে বসে পড়ছি মনে মনে। কতো বিখ্যাত সব কবিতা পড়েছি পাঠ্যবইয়ে, আজ দেশের বিখ্যাত এই মানুষটির প্রিয় ভিটায় যাবো। খুবই আনন্দ অনুভব হচ্ছিল। মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা দিয়ে পৌঁছালাম ফরিদপুর বাসষ্ট্যান্ডে, এখান থেকে অটো ভাড়া করলাম। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই চলে এলাম প্রিয় কবির বাসস্থানে। চারপাশটা প্রচুর সৌন্দর্যে ভরা, সবুজ গাছপালা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ ভালোই লাগছে। কবির বাসভবনের এই পুরো জায়গাটিকে এখন জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। প্রধান ফটকের পাশেই রক্ষিত রয়েছে কবির বড় একটি ছবি। প্রবেশ টিকেট সংগ্রহ করেই ভেতরে ঢুকলাম।

প্রথমেই চোখে পড়লো কবির পিতা যে ঘরটিতে অবস্থান করতেন সেটি। এরপর কাচারিঘর। যেখানে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ২বার অবস্থান করেছিলেন। এরপর কিছুটা এগোলাম, প্রবেশ করলাম একটি ঘরে যেখানে রয়েছে কবির রচিত বিভিন্ন সাহিত্যসম্ভার। দেয়ালে রক্ষিত কবির অনেক বিখ্যাত কবিতা শোভা পাচ্ছিল এখানে। দেখছি আর মনে মনে পড়ছি। এরপর চোখে এলো একটি পাঠশালা। কবির বড়ভাইয়ের ঘরটি দেখে প্রবেশ করলাম আমাদের প্রিয় পল্লীকবির ঘর। কবির ঘরে রয়েছে পারিবারিক ও অন্যান্য নানা স্মৃতিবহুল ছবি, আসবাবপত্র, বই এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র। বেশ কিছু সময় এখানে অবস্থান করলাম। চোখে ভাসছিল বিখ্যাত বিখ্যাত সব সৃষ্টিগুলো- নকশি কাঁথার মাঠ, কবর, আসমানী। এরপর ঢুকলাম কবির মা-বাবার ঘরে।

পল্লীকবির বাড়িতে রুহিত সুমন

 

এই ঘরটির সামনেই রয়েছে শিশুদের খেলার ব্যবস্থা। অনেক শিশু খেলছে স্লিপারে, কিছু শিশু দোলনায়। স্মৃতিবিজড়িত এই বাসস্থানের নামকরণ করা হয়েছে "জসিম যাদুঘর" যা ২০০৩ সালে কবিপত্নী বেগম মমতাজ জসিম উদ্দিন প্রতিষ্ঠিত করেন। দারুণ কিছু সময় অতিবাহিত করে যখন কবির বাসভবন থেকে বের হচ্ছি তখন পড়ন্ত বিকেল, অর্থাৎ প্রায় সন্ধ্যা। ও হ্যাঁ, যারা এই দর্শননন্দিত জাদুঘরটি পরিদর্শন করবেন বলে স্থির করছেন তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি :

স্থানের পটভুমি
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর রেলষ্টশনের উত্তরে কুমার নদীর দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লীকবি জসীমউদদীনের বাড়ি। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ির চত্ত্বরে প্রদর্শন করা আছে। বাড়ির পূর্ব ও পশ্চিমে পোর্শিদের বসতবাড়ি এবং দক্ষিণে ছোট একটি পুকুর রয়েছে। বাড়ির উত্তরে কবির কবরস্থান। কবরস্থানের পাশেই পাকা রাস্তা ও কুমার নদী আছে। কবি ১৪-০৩-১৯৭৬ খ্রিঃ তারিখ হতে ডালিম গাছের তলে চিরতরে শায়িত রয়েছেন। কবির কবর স্থানটি পাকা উঁচু করণ এবং চতুর্দিকে গ্লীলের বেষ্টুনী দ্বারা নির্মিত।

কবরস্থানে চিরতরে শায়িত আছেন- ১. কবির পিতা-মৌঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা (মৃত্যুর তারিখঃ ২৬-১১-১৯৪৩) , ২. মাতা- আমেনা খাতুন (রাঙ্গা ছোটু) (মৃত্যুর তারিখঃ ১৫-১০-১৯৫৩), ৩. কবির পত্নী- বেগম মমতাজ জসীম উদ্দিন (মৃত্যুর তারিখঃ ১৪-০১-২০০৬), ৪. বড় ছেলে- কামাল আনোয়ার (হাসু) (মৃত্যুর তারিখঃ ০৩-৬-১৯৯০), ৫. বড় ছেলের স্ত্রী- জরীনা (মৃত্যুর তারিখঃ ৩০-৬-১৯৬৩), ৬. কবির বড় ভাই- আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন মোল্লা (মৃত্যুর ১৪-৪-১৯৬৩), ৭. কবির সেজো ভাই- সাঈদ ইদ্দন আহম্মদ মোল্লা (মৃত্যুর তারিখ ২৪-৩-১৯৭৫), ৮. কবির ছোট ভাই-প্রফেসর নুরুদ্দীন আহম্মদ (মৃত্যুর তারিখ ০১-৭-১৯৬৪), ৯. কবির ছোট বোন-নূরুন নাহার (সাজু) (মৃত্যুর তারিখ ১০-১১-১৯৫০), ১০. কবির নাতিন- আসিফ (মৃত্যুর ৩০-৩-১৯৮০), ১১. কবির সেজো ভাইয়ের মেয়ে- মোসাঃ হোসনে আরা (দোলন) (মৃত্যুর তারিখ ২১-৪-১৯৭৩), ১২. কবির সেজো ভাইয়ের নাতনী-মনজুরা শাহরীন (চাঁদনী) (মৃত্যুর তারিখ ০৮-৬-২০০৭ ) এবং ১৩. কবির শিশু ভাগিনীর কবর।

দর্শনীয় স্থানে যাবার উপায়
ফরিদপুর বাসষ্ট্যান্ড হতে ২ কিঃ মিঃ দূরে। রিক্সা/অটোরিক্সা/মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায়।

আবাসন ব্যবস্থা
দর্শনীয় স্থানের কোন আবাসনের ব্যবস্থা নেই। তবে ফরিদপুর শহরে আবাসনের ব্যবস্থা আছে।

লেখক- রুহিত সুমন : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ময়ূরপঙ্খী শিশু-কিশোর সমাজকল্যাণ সংস্থা
[email protected]

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...