দেশে দেশে বৃষ্টি উৎসব

সুরাইয়া নাজনীন

দেশে দেশে বৃষ্টি উৎসব
দেশে দেশে বৃষ্টি উৎসব - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • ১১ মার্চ ২০২০, ১৭:১৪,  আপডেট: ১১ মার্চ ২০২০, ১৭:২৭

বৃষ্টি মানেই শীতলতা আর বৃষ্টি মানেই চোখ ধাঁধানো উৎসব। সব বয়সের মানুষই বর্ষার সুরে তাল মেলায়। হঠাৎ হঠাৎ চলে চারদিক আলো করা বিজলি চমক। এরই ফাঁকে হুট করে নামে ঝর ঝর বৃষ্টি। এ সময় দেশে বিদেশে অনুষ্ঠিত হয় নানা রকম মজার উৎসব। এসব উৎসবের একটি হলো রেইন ফেস্টিভ্যাল বা বৃষ্টি উৎসব। দেশে দেশে বৃষ্টি উৎসব নিয়ে লিখেছেন -সুরাইয়া নাজনীন

ইরান: ইরানে বৃষ্টি উৎসব পালন করা হয় খুবই জাঁকজমকের সঙ্গে। এখানে যে তিনটি উৎসব দেশব্যাপী পালন করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো বৃষ্টি উৎসব। ইরানিদের কাছে এই উৎসবের পরিচয় ‘তিরাগান’ নামে। এটা পালন করা হয় ১ জুলাই।

বৃষ্টি বরণের উৎসবে মাতে ছেলে-বুড়ো সবাই। বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন থেকেই সবার হাতের কবজিতে থাকে রংধনু রঙের ব্যান্ড। ১০ দিন অতিক্রান্ত হলেই ব্যান্ডগুলো খুলে কোনো নদী বা ঝরনাতে ফেলে দেয়া হয়।

ইরানে বৃষ্টি বরণের উৎসব নিয়ে একটা গল্প আছে। অনেক দিন আগের কথা। ইরানের তুর শহরে বাস করত এক রাজা। নাম আফরাসিয়াব। বদরাগী এই রাজার শাসনামলে প্রায় আট বছর ‘তুর’ শহরে কোনো বৃষ্টি ছিল না। তুরের সব বুদ্ধিজীবী আর জ্যোতিষীদের ডেকে আফরাসিয়াব একদিন জানতে চাইলেন, আচ্ছা আমার এই শহরে বৃষ্টি নেই কেন? তোমাদের কারো কোনো কারণ জানা থাকলে নির্ভয়ে আমাকে জানাতে পার। প্রাণের ভয়ে অনেকেই সেদিন সত্য কথা বলেনি কিন্তু জু তাহ?মাস?প এদের দলের না।

তিনি রাজার শাস্তিকে পরোয়া না করে বললেন, রাজা আপনি ধীরে ধীরে অবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন। মহামতি ফারিদুন আপনাকে তুর্কিস্তান শাসন করতে বলেছেন। ইরান শুধুই আমাদের কিন্তু আপনি তার কথা না শুনে তুর্কিস্তানের সঙ্গে ইরানও শাসন করছেন। এতে মহামতি ফারিদুন নাখোশ হয়েছেন। আর এ জন্যই এই শহরে কোনো বৃষ্টি নেই।

তখন রাজা আফরাসিয়াব জানতে চাইলেন, আপনার কথা যে সত্যি তা নিশ্চিত হব কীভাবে? জু তাহ?মাস?প বললেন, ‘আমি এখান থেকে একটা তীর ছুড়ে দেব। তীরটি যেখানে গিয়ে পড়বে ওটাই হবে আপনার রাজ্যের সীমানা।’ প্রস্তাবটা লুফে নিলেন রাজা। দু’জন মিলে একটা চুক্তিতে এলেন।

রাজা বললেন, ‘আপনার ছুড়ে দেয়া তীর যেখানে পড়বে ওই পর্যন্তই আমার রাজ্যের সীমানা, এটা আমি মেনে নেব এবং ইরান ছেড়ে চলে যাব।’ চুক্তি অনুযায়ী তীর নিক্ষেপের দিন চলে এলো। সৃষ্টিকর্তার নামে জু ইরান থেকে যে তীর নিক্ষেপ করলেন দেবতা অহুরামাজ্?দের আদেশে সেই তীর গিয়ে পড়ল তুরানে।

চুক্তি অনুযায়ী রাজা আফরাসিয়াব তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে ইরান ছেড়ে তুরানে চলে গেলেন। আর কী অবাক কাণ্ড সেই মুহূর্তেই ঝর ঝর বৃষ্টি নেমে এলো। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়েই রাজা আফরাসিয়াব সাক্ষী হয়ে রইলেন যে, তার কারণেই এত বছর এই এলাকায় বৃষ্টি নামেনি। অনেক বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ইরানিরা আজো উৎসব হিসেবে পালন করে যাচ্ছে।

ভারত: এই দেশেও বৃষ্টি বরণের উৎসব হয়। তবে সারাদেশে নয়, শুধু গোয়াতে। গোয়াবাসীদের বৃষ্টি উৎসবের নাম ‘সান জোয়াও’। প্রতি বছর জুনের শেষের দিকে পালিত হয় এটা। এই উৎসবটি আসলে পর্তুগিজদের ঐতিহ্যের একটা অংশ। ১৯৬১ সাল থেকে গোয়া শাসন করে আসছে এরাই।

সান জোয়াও যেদিন পালন করা হয়, ধরে নেয়া হয় সেদিন অঝোরে বৃষ্টি নামবে কিন্তু সান জোয়াও উৎসবে আসা লোকদের এমন আশা সব সময়ই পূরণ হয় না। কারণ বৃষ্টি দেবতার অসহযোগিতার কারণে কখনো কখনো প্রায় রোদের মধ্যেও বৃষ্টি উৎসব পালন করা হয়।

এতে অবশ্য উৎসবে যোগ দেয়া লোকদের আনন্দের মাত্রা কমে না। অঝোরে বৃষ্টি নামছে এমন ভান করে নানা সাজে এরা রাস্তায় নেমে আসে। নাচের তালে তালে চলে পুরনো দিনের মজার গান। গোয়াতে সান জোয়াও নামের এই বৃষ্টি উৎসব পালিত হচ্ছে প্রায় ১৫০ বছর ধরে।

ইউরোপ: এখানকার অনেক দেশেই বৃষ্টি উৎসব পালন করা হয়। যেমন নরওয়ের। প্রতিবছর নরওয়েতে বৃষ্টি উৎসব পালন করা হয় বেশ ঘটা করে। বিশেষ করে নরওয়ের বারজেন শহরে অক্টোবর মাসে এই উৎসব পালন করা হয়।

আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে নরওয়েবাসী বারজেন শহরে এদিন ছাতা বা রেইনকোট পরে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে দল বেঁধে। সঙ্গে থাকে অন্য দেশ থেকে আসা পর্যটকরা। এ সময় রাস্তার দিকে তাকালে চোখ পড়বে রংবেরঙের ছাতাই।

এছাড়া আমেরিকার সিয়াটল, বলিভিয়ার তারাটা, তাইওয়ানের ওয়াইলান শহরে এবং নেপালে বৃষ্টি উৎসব পালন করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...