ডেভিড কোরেশ : বিতর্কিত এক কাল্ট লিডার

ডেভিড কোরেশ : বিতর্কিত এক কাল্ট লিডার
ডেভিড কোরেশ : বিতর্কিত এক কাল্ট লিডার - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১১ মার্চ ২০২০, ১৭:০৭

কোরেশ স্বঘোষিত এক মার্কিন কাল্ট লিডার। ডুমস ডে বা মহাপ্রলয় নিয়ে যিনি আচ্ছন্ন ছিলেন। অবশেষে অগ্নিকাণ্ডে নিজের এবং তার সম্প্র্রদায়ের ধ্বংস ডেকে এনেছিলেন। দীর্ঘকালীন অবরোধের সময় এফবিআইয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে ডেভিড কোরেশসহ কাল্টের ৭৬ নারী-পুরুষ ও শিশু আগুনে পুড়ে মারা যায়। ডেভিড কোরেশ কারো কাছে জেসাস ক্রাইস্ট, কারো কাছে খ্রিস্টীয় ধারণার বিকৃত প্রতিচ্ছবি। পাপীদের ক্ষমা করার বদলে কোরেশ প্রায়ই শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।

এমনকি আট মাসের শিশুকেও রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মারতেন। প্রলোভন ত্যাগ করার বদলে হারেমে ১৯ জন স্ত্রীর সান্নিধ্য উপভোগ করতেন। যৌন সম্পর্ক ছিল ১২-১৩ বছরের বালিকার সঙ্গে শান্তির এই বরপুত্র সব সময় নাইন এমএম পিস্তল রাখতেন সঙ্গে। আরো সঙ্গে রাখতেন ভয়ঙ্কর দাহ্য পদার্থ।

১৯৫৯ সালের ১৭ আগস্টে ডেভিড কোরেশ আমেরিকার টেক্সাসের হিউস্টনে জš§গ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম ছিল ভারনন ওয়াইনে হোওয়েল। মায়ের নাম বনি সু ক্লার্ক। ডিজলেক্সিয়ার কারণে তার লেখাপড়ায় সমস্যা ছিল। স্কুলে তেমন সুবিধা হয়নি। তবে ভালো লাগত মিউজিক আর বাইবেল প্রায়ই মুখস্থ ছিল। বাইশ বছর বয়সে প্রেমে পড়েন পনেরো বছর বয়সী এক মেয়ের। ওই সময়ে সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্টস চার্চে যোগ দেয় কোরেশ। কোনো এক কারণে তাকে চার্চ থেকে বের করে দেয়া হয়।

তারপর ডেভিড কোরেশ রক স্টার হওয়ার জন্য হলিউড চলে যান। ১৯৮১ সাল। ডেভিড কোরেশ টেক্সাসের ওয়াকো এলেন। তারপর সেখান থেকে গেলেন নয় মাইল উত্তর-পূর্বে এলক শহরের মাউন্ট কারমেলে। সেখানে ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ান নামে একটি ধর্মগোষ্ঠীর একটা রেঞ্জে ছিল। ১৯৪২ সালে সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট চার্চ ভেঙে ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ান গড়ে ওঠে। বিদ্রোহীর নাম ছিল ভিক্তর হুউটেফ। তিনি বিশ্বাস করতেন যিশুর প্রত্যাবর্তন কেবল তখনই ঘটবে যখন খ্রিস্টানদের ক্ষুদ্র একটি দল পরিশুদ্ধতা লাভ করবে।

নতুন বাইবেল বা নিউ টেস্টামেন্টের শেষ অধ্যায়ে রয়েছে ‘দ্য বুক অব রেভ্যুলেশন’। এই অধ্যায়ে সাতটি প্রতীক রয়েছে, যা বাইবেল পণ্ডিতদের ধাঁধায় ফেলেছে। খ্রিস্টান এসকটলোজি বা খ্রিস্টীয় পরলোকতত্তে¡ এই প্রতীকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীকগুলো একটি রসহ্যময় পাণ্ডুলিপিতে যা সাতটি সিল দিয়ে সংরক্ষিত। ভিক্তর হুউটেফের প্রথম কাজ সাতটি প্রতীকে গুপ্ত রহস্য ভেদ করা। অনেকের মতে, এই প্রতীক যিশুর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন এবং মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত।

ভিক্তর হুউটেফের দ্বিতীয় কাজ ছিল ছোট একটি খ্রিস্টান গোষ্ঠীকে বিশুদ্ধ করা, যেন যিশুর জেরুজালেমে প্রত্যাবর্তন সুগম হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, মহাপ্রলয়ে যখন ব্যবিলনের পতন হবে তখন ‘কিংডম অব ডেভিড’-এর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। ভিক্তর হুউটেফ ১১ জন অনুসারী নিয়ে ১৯৩৫ সালে ওয়াকোর কাছে মাউন্ট কারমেলে ব্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দলটিকে বলতেন ‘সেপারডর্স রোড’ বা মেষপালকের পথ।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...