রংবাহারি স্বর্গের পাখি

রংবাহারি স্বর্গের পাখি
রংবাহারি স্বর্গের পাখি - ছবি : সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১১ মার্চ ২০২০, ১৭:০১

একসময় পাখিটাকে ডাকা হতো ‘ঈশ্বরের পাখি’ বলে। পাখিটা দেখতে খুবই সুন্দর। দেখলেই মনে হয় যেন দেবতাদের ফুলবাগান থেকে ভুল করে পৃথিবীতে এসে পড়েছে। কোন পাখি? বার্ড অব প্যারাডাইস। বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় স্বর্গের পাখি। এ পাখির আবাস ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি এলাকায়। ষোড়শ শতকের দিকে ইউরোপের নাবিকরা এসেছিল ইন্দোনেশিয়া এলাকায়।

এখানেই তারা দেখা পায় এই স্বর্গের পাখির। অদ্ভুত সুন্দর এ পাখি। দেহের গড়ন অনেকটা কাকের মতো। কিন্তু পালক আর লেজের দিকে তাকালে মনে হয় স্বর্গ থেকে রং করে পৃথিবীতে ছেড়ে দিয়েছে পাখিটাকে। এমন মোহনীয় রঙের পাখি দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন ইউরোপীয় নাবিকরা।

স্থানীয় মানুষরা তো আগে থেকেই হতবাক। স্থানীয়রা এ পাখিদের কোনো ক্ষতি করে না। তাদের ধারণা, এ পাখির বসবাস স্বর্গে। ঈশ্বর স্বর্গের বাগান থেকে এ পাখিকে পাঠিয়েছেন তাদের কাছে। কাজেই এ পাখি পবিত্র। সেই থেকে পাখির নাম তারা রাখল ঈশ্বরের পাখি আর ইউরোপীয় নাবিকরা পাখির রূপে মুগ্ধ হয়ে ডাকল, বার্ড অব প্যারাডাইস।

মোহনীয় দেহ আর রং বৈচিত্র্যের কারণে বার্ড অব প্যারাডাইস পৃথিবীর আকর্ষণীয় পাখিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এ পাখির পালকের যে রংবাহারি সৌন্দর্য সেটা শুধুই পুরুষ পাখির। নারী পাখিরা দেখতে একেবারেই সাধারণ। অনেকটা নাইটিংগেল পাখির মতো। পুরুষ পাখিদের এই সৌন্দর্য নারী পাখিদের আকর্ষণ করার জন্য। শুধু রঙের ঝলকেই নয়, নারী পাখিদের মন পাওয়ার জন্য পুরুষ পাখিরা আরো নানা রকম শারীরিক কলা-কৌশলও দেখায়। গাছের ডালে ডালে দোয়েলের মতো নাচে, হাঁটাহাঁটি করে আবার বাদুড়ের মতো উল্টো হয়ে গাছে ঝুলে থাকে। ডানা ঝাপটে নানা রকম শব্দও করে।

পালক ফুলিয়ে, পা বাঁকিয়ে, ডানা ছড়িয়ে, ঘাড় ঘুরিয়ে পুরুষ পাখিরা নারী পাখিদের মন জয়ের চেষ্টা করেই যায়। এমন মোহনীয় ভঙ্গি আর মুগ্ধ করা রূপের জন্য বার্ড অব প্যারাডাইস দুনিয়ার সেরা পাখি। একা একা চলাফেরা করতেই পছন্দ করে এরা। খায় ফল আর বীজ। পোকামাকড়ও খায়। প্রিয় পোকা মাকড়সা। বাসা বানায় গাছের ডালে। বিশেষ করে গাছের যে জায়গা থেকে অনেক ডাল বের হয়, সেখানেই বাসা বানাতে পছন্দ করে বার্ড অব প্যারাডাইস। বাসা বানায় লতা-পাতা আর ফার্নের মতো নরম জিনিস দিয়ে।

বড় প্রজাতির পাখিরা একবারে একটি ডিম পাড়ে আর ছোট প্রজাতির পাখিরা ডিম পাড়ে দুই থেকে তিনটি। ১৬ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বেরোয়।

বার্ড অব প্যারাডাইসের পালক সাদা, কালো, ধূসর, সবুজ, বাদামি, হলুদ ও নীলসহ আরো রঙের হতে পারে। এদের পালক স্থানীয়দের কাছে খুবই পবিত্র। বিভিন্ন পূজা-পার্বণে এসব পালক ব্যবহার করা হয়। কয়েকশ’ বছর আগে এদের পালক থেকে কাপড়, মালা আর মুকুটের অলংকারও তৈরি হতো।

একসময় বার্ড অব প্যারাডাইসের পালকযুক্ত টুপি ছিল ইউরোপিয়ান নারীদের মর্যাদার বিষয়। অনেক দেশের রাজা আর সম্রাটের মুকুটেও শোভা পেত স্বর্গের পাখির পালক আর এই চাহিদার কারণে উনিশ শতকের গোড়ার দিকে লাখ লাখ স্বর্গের পাখি শিকার করা হয়। পাপুয়া নিউগিনি আর এর আশপাশের দ্বীপেই স্বর্গের পাখি দেখা যায় বেশি। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে এদের কিছু প্রজাতির আবাস রয়েছে। দুনিয়ায় প্রায় পঞ্চাশ প্রজাতির বার্ড অব প্যারাডাইস আছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...