শেষ সময়ে জমজমাট গ্রন্থমেলা

শেষ সময়ে জমজমাট গ্রন্থমেলা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:১৭,  আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:২৮

আর মাত্র ৩ দিন পরেই পর্দা নামবে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার। তাই পছন্দের লেখকদের বইগুলো সংগ্রহ করতে মেলায় শেষ সময়ে ভিড় করছেন বইপ্রেমীরা। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের হাতে হাতে নতুন বইয়ের ব্যাগ। কারো দুহাতে আবার কারো পরিবারের সকলের হাতে বইয়ের ব্যাগ। মেলা ঘুরে ঘুরে পছন্দের লেখকের বই কিনছেন। আগে থেকেই পছন্দ করে রাখা বইয়ের পাশাপাশি মেলায় দেখে পছন্দের বইটিও কিনছেন অনেকে। বইমেলার চিত্রটা এখন এমনই।

তাই এখন যারা মেলায় আসছেন তারা বেশিরভাগই বইয়ের ক্রেতা। বিক্রিও বেশ ভালো। ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে দম ফেলার ফুসরত ছিল না বিক্রয়কর্মীদের। আর এ চিত্র মেলার শেষ দিন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এদিকে বইমেলার নীতিমালা ভঙ্গ করায় ২৩ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। কথা প্রকাশের ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী বলেন, এখন মেলায় যারা আসছে তারা সবাই ক্রেতা। অযথা ঘোরাঘুরি করতে কম সংখ্যক লোক আসছেন। যারাই আসছেন তারা আগে সংগ্রহ করা ক্যাটালগ দেখে দেখে বিভিন্ন স্টল থেকে বই সংগ্রহ করছেন।

মেলায় গুলশান থেকে আসা এক প্রাইভেট ফার্মের কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিক বলেন, মেলা প্রায় শেষ প্রান্থে। তাই মেলায় এসেই প্রথমে প্রছন্দের লেখকদের বইগুলো সংগ্রহ করলাম। বুধবার প্রথমার প্যাভিলিয়নে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা বইয়ে অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। এই প্রকাশনা থেকে প্রকাশ হয়েছে তার ইতিহাস-আশ্রয়ী উপন্যাস ‘এখানে থেমো না’।

এ বইটিকে ঘিরেই পাঠকের এতো আগ্রহ। গতকালের মেলা নিয়ে আনিসুল হক বলেন, আজকে একটি কর্মদিবস। তারপরও মেলায় অগণিত পাঠকের আগমন ঘটেছে। অনেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। মানুষ বই কিনবেন বলেই এখন মেলায় এসেছেন। মেলা আবার আরো জমে ওঠতো যদি ছুটির দিনগুলোর সঙ্গে বিশেষ দিবসগুলো একইদিনে হয়ে না যেত।

২৩ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ: অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালা ও নিয়মাবলির ৭.১ ধারায় রয়েছে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকগণ কেবল বাংলাদেশে মুদ্রিত ও প্রকাশিত বাংলাদেশের লেখকদের মৌলিক/অনূদিত/সম্পাদিত/সংকলিত বই বিক্রি করতে পারবেন। অথচ এ ধারা লঙ্ঘন করে মেলায় বিদেশি লেখকদের শত শত বই প্রকাশ ও বিক্রি করছেন অনেক প্রকাশকরা। তাই গ্রন্থমেলার নীতিমালা লঙ্ঘন করায় ২৩ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছে গ্রন্থমেলার টাস্কফোর্স উপকমিটি।

নীতিমাল লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑ জয়বাংলা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, জয়বাংলা আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড স্টুডিও, মাইক্রোস ডিজিটাল, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন, শিশু সাহিত্য বইঘর, ছোটদের জ্ঞান বিজ্ঞান একাডেমি, ছোটদের মেলা, জনতা প্রকাশ, বাঁধ পাবলিকেশন্স, কালিকলম প্রকাশনা, নবরাগ প্রকাশনী, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ স্মৃতি সংসদ, আলগাজী পাবলিকেশন্স, আবিষ্কার, শিশু-কিশোর প্রকাশন, মুক্ত প্রকাশ, শিশু প্রকাশ, কালধারা, মৌ প্রকাশনী, মেধা পাবলিকেশন্স, নিহাল পাবলিকেশন, অভ্র প্রকাশ। এ প্রসঙ্গে আবিষ্কার কোয়ালিটি প্রকাশনের প্রকাশক দোলোয়ার হাসান বলেন, যে ধারায় কথা উল্লেখ করে আমাকে চিঠি দেয়া হয়েছে সে ধারা আমি লঙ্ঘন করিনি। অথচ নবযুগ, ইউপিএলসহ অর্ধশত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লঙ্ঘন করেছেন কিন্তু তাদের চিটি দেয়া হয় না। কারণ তারা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় বই প্রকাশ করেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমরা ২৩টি প্রকাশনাকে প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। তারা নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। এই বিষয়ে আমরা পাঠক, লেখক, প্রকাশক, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আরো সহযোগিতা কামনা করছি। সংশ্লিষ্ট প্রকাশনাগুলোর কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পর আগামী মেলায় আমরা তাদের বিষয়ে ভেবে দেখব। 

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা : বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২০, ২০১৯ সালে  প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে আবুল হাসনাত রচিত প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য  গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে, মঈনুস সুলতান রচিত  জোহানেসবার্গের জার্নাল গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে এবং রফিকুন নবী রচিত স্মৃতির পথরেখা  গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্সকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়।

২০১৯ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স লিমিটেড-কে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২০ এবং ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযান (এক ইউনিট), কুঁড়েঘর প্রকাশনী লিমিটেড (২-৪ ইউনিট), বাংলা প্রকাশ (প্যাভিলিয়ন)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-র সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

কম্বোডিয়ার প্রতিমন্ত্রীর গ্রন্থমেলা পরিদর্শন : বুধবার বিকেলে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইত সোফিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করেন। বাংলা একাডেমিতে কম্বোডিয়ান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

বিকুল চক্রবর্তীর ‘কর্মে  আলোকিত মানুষেরা’ : বইমেলায় এসেছে ব্যতিক্রমী একটি গ্রন্থ ‘কর্মে  আলোকিত মানুষেরা’। বইটির লেখক সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক বিকুল চক্রবর্তী। বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। বইটিতে উঠে এসেছে প্রায় দু’শ বছর পুর্ব হতে এখন পর্যন্ত সাধারণের বাইরে গিয়ে যারা ব্যতিক্রমী কিছু করে অন্য মানুষের দৃষ্টিতে এসেছেন এমন ৬০ জনের কথা।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির দেয়া তথ্যমতে, বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৬টি। এরমধ্যে কামরুল হকের ‘বঙ্গবন্ধু ও সংবাদপত্রে ছয়দফা থেকে গণঅভ্যুত্থান’ প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি। ঐতিহ্য এনেছে মনি হায়দারের ‘এক টুকরা কাগজ’, পাঠক সমাবেশ এনেছে আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘বৃষ্টির ভেতরে রবীন্দ্রনাথ, শোভা প্রকাশনী এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘কথাশিল্পী লায়লা হাসান’, আব্দুল মান্নানের ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’, ইত্যাদি এনেছে বিকুল চক্রবর্তীর ‘কর্মে আলোকিত মানুষেরা’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে আহমেদ রফিকের ‘চিত্রে ভাস্কর্যে রূপসী মানবী’, সময় প্রকাশন এনেছে ‘শেখ মুজিব কিশোর জীবনী’ এবং চয়ন প্রকাশনের ‘নানা দেশের রংবেরঙের গল্প’ উল্লেখযোগ্য।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...