‘সমঝদার পাঠকরা’ কিনছেন রচনাসমগ্র

‘সমঝদার পাঠকরা’ কিনছেন রচনাসমগ্র - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৫

আর মাত্র এক সপ্তাহ পরে ভাঙবে লেখক-কবি-সাহিত্যিক আর বইপ্রেমীদের প্রাণের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। শেষ সময়ে এসে মেলা পেয়েছে তার চিরচেনা রূপ। প্রতিদিন পাঠকরা আসছেন তালিকা ধরে ধরে সংগ্রহ করছেন প্রছন্দের লেখকদের বইগুলো। অন্য বইয়ের পাশাপাশি পাঠকরা সংগ্রহ করছেন রচনাবলি বা রচনাসমগ্র। একটা-দুটো নয়, এক মলাটেই প্রিয় লেখকের রচনাবলি সংগ্রহে রাখতে চান তারা। এর সুবিধা হলো একসঙ্গে সব লেখা সংগ্রহে থাকে। পছন্দমতো পড়ে নেয়া যায়। তাই এর আলাদা চাহিদা। আরেকটি বড় কারণ এতে খরচ কম পড়ে। প্রকাশকরা বললেন, সিরিয়াস পাঠকরাই মূলত কেনেন রচনাসমগ্র। আলাদা আলাদা করে প্রিয় লেখকের সব বই কিনতে যত খরচ পড়ে তার চেয়ে অনেকটা কম দামে রচনাবলি বা রচনাসমগ্র সংগ্রহ করা যায়। গতকাল মেলায় আসা অনেক পাঠক-ক্রেতা এমন আগ্রহের কথাই জানালেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রারজানা সুলতানা বলেন, এক মলাটে যদি অনেক উপন্যাস কিংবা গল্প পেয়ে যাই তাহলে টাকাও যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি পছন্দের অনেক লেখা একসঙ্গে পড়ারও সুযোগ হয়।

মেলায় বরাবরের মতো এবারো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কিত রচনাবলি চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। কথা প্রকাশের ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী বলেন, তাদের প্রকাশনা সংস্থায়ও এই বইগুলোর বেশ কাটতি রয়েছে।

ঐতিহ্যের ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, প্রতিবারের মেলায়ই নতুন নতুন বই আসছে। কিন্তু রবীন্দ্র, জীবনানন্দ, বিভ‚তিভ‚ষণ ও আল মাহমুদ রচনাবলিগুলো পাঠকদের ব্যাপক সমাদর অর্জন করেছে।

মেলায় উল্লেখযোগ্য রচনাসমগ্রের মধ্যে নন্দিতা প্রকাশ থেকে এসেছে হাসিনা জাহানের ‘রচনাসমগ্র’, আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের রচনাবলি ‘হাসনাত আবদুল হাই রচনাবলি ৩’, ও ‘হাসনাত আবদুল হাই রচনাবলি ৪’ সাহিত্যদেশ থেকে এসেছে এ কে এম আজাদের ফটোগ্রাফি সঙ্কলন ‘ইলিউশন অব ডেসটিনি’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন সম্পাদিত ঐতিহ্য থেকে বেশ কয়েক বছর প্রকাশিত ৩০ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলি, ছয় খণ্ডে জীবনানন্দ দাশ রচনাবলি, ১০ খণ্ডে বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাবলি, ১০ খণ্ডে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনাবলি এবং ১৩ খণ্ডে আল মাহমুদ রচনাবলি’, অবসর থেকে সৈয়দ আজিজুল হক সম্পাদিত ৪ খণ্ডে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পসমগ্র, ৬ খণ্ডে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস সমগ্র, হুমায়ূন আহমেদের ‘সেরা সাত মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস’ ও ‘সেরা সাত ভৌতিক উপন্যাস’, রকিব হাসানের ‘সেরা সাত গোয়েন্দা উপন্যাস’, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে এসেছে ১০ খণ্ডে সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনাবলি, অনন্যা থেকে শামসুর রাহমানের কবিতা সমগ্র, আল মাহমুদের কবিতা সমগ্র, আহসান হাবীব কবিতাসমগ্র, মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র, রুন্দ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘রুদ্রসমগ্র’, খান ব্রাদার্স থেকে ৯ খণ্ডে ‘আহমদ ছফা রচনাসমগ্র’, চারুলিপি প্রকাশিত ৫ খণ্ডে সৈয়দ শামসুল হকের কবিতাসমগ্র, অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত ‘হুমায়ূন আহমেদ রচনাসমগ্র’, সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস সমগ্রগুলো। সমগ্রগুলো রুচিশীল বইপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বলে জানিয়েছেন এসব প্রকাশনী সংস্থায় কর্মরতরা।

আকমল হোসেন নিপুর ‘নির্বাচিত গল্প’: ‘কোরাস’ প্রকাশ করেছে কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক আকমল হোসেন নিপুর ‘নির্বাচিত গল্প’ গ্রন্থ। ২১৬ পৃষ্ঠার বইয়ে গল্প রয়েছে ৪৩টি। দাম রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা। ২৫ শতাংশ ছাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে ‘কোরাস’। পাওয়া যাচ্ছে লিটলম্যাগ চত্বরে গ্রন্থমেলায় কোরাসের স্টল নং ৯৬।

আনিসুর রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘স্বর্গের ছবি’: মেলায় জলকথা প্রকাশ থেকে এসেছে সুইডেন প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক আনিসুর রহমানের গ্রল্পগ্রন্থ ‘স্বর্গের ছবি’। দশটি ছোটগ্রল্প নিয়ে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ‘শরিফ উদ্দিন আহমদ’। বইটির পাওয়া যাচ্ছে চমন প্রকাশনীর ৭১৯ নম্বর স্টলে।

নতুন বই: গতকাল বোরবার মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ১৫৪টি। এর মধ্যে অনন্যা এনেছে আইয়ুব মুহাম্মদ খানের ‘শেষ বিকেলের ভালোবাসা’, জলকথা প্রকাশ এনেছে জুম্মি নাহদিয়ার কাব্যগ্রন্থ’ ‘সাড়ে মানুষের বাজার’, ও আফরোজা বেগমের কাব্যগ্রন্থ’ ‘বিমূর্ত সংলাপে নির্মাল্য যুগল’, কোরাস এনেছে আবু তাহেরের ‘নির্বাচিত ডায়েরি’, মাছরাঙা প্রকাশ এনেছে মৃণাল কান্তি দাশের ‘ছোটরে গ্রল্পগ্রন্থ’ সরল রেখা প্রকাশ করেছে সীমান্ত আকরামের ‘আকাশ আমায় ভরল আলোয়’ ‘কিচ্ছা শোনা ইচ্ছা’ ও অরুণ চন্দ্র দাসের ‘সবার উপরে মানুষ’, বাংলা জার্নাল এনেছে অরিন্দম নাথের ‘গদ্যময় পৃথিবীর আখ্যান’।

তোফায়েল আহমেদের গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবারের গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের লেখা বই ‘রক্তঝরা মার্চ ১৯৭১: অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা।’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে জার্নিম্যান বুকস। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের ঘটনা অবলম্বনে রচিত বইটির উন্মোচন করা হয় গতকাল রোববার। একই সঙ্গে একই প্রকাশনী থেকে বেরুনো তারিক সুজাতের কাব্যগ্রন্থ ‘সুরের পথে একলা হাঁটি’ এবং নাজনীন হক মিমির লেখা ‘৬৯-এর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ও মুক্তিযুদ্ধ’ শিরোনামের বইয়ের মোড়ক উšে§াচন করা হয়।

অনুভ‚তি প্রকাশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণসহ একাত্তরের মার্চ মাসের নানা ঐতিহাসিক ঘটনাকে মেলে ধরেছি এই বইয়ে। এর মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসের দলিলকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছি। একাত্তরের পয়লা মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত নানা ঘটনাপ্রবাহ উঠে এসে বইটিতে। একাত্তরের ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান এক বেতার ভাষণে তেসরা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছেন। এর বিরুদ্ধে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা করেন। এমন নানা ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংযুক্ত হয়েছে গ্রন্থটিতে। তবে এ বইটি আমি নিজে লিখিনি। আমার বলা কথার ভিত্তিতে শ্রæতিলিখন করেছেন দু’জন।

অনুষ্ঠান স ালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। কথার সূত্র ধরে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারির এই দিনেই এক জনসভায় তোফায়েল আহমেদই শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিলেন। তিনি আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে পথ চলেছেন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীরপ্রতীক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অন্য দুটি বইয়ের লেখক তারিক সুজাত ও নাজনীন হক মিমি।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 




Loading...
ads






Loading...