হুইল চেয়ারে তরুণদের ভালোবাসা

হুইল চেয়ারে তরুণদের ভালোবাসা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৫৬,  আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৫৯

ফারুক হোসেনের বয়স ৫৫ বছর। শারীরিক প্রতিবন্ধী। থাকেন রাজধানীর গ্রীন রোডে। সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই। তাইতো পছন্দের লেখকদের বইগুলো সংগ্রহ করতে ছুটে এসেছেন গ্রন্থমেলায়। হুইল চেয়ারে করে ঘুরে ঘুরে পুরো মেলাকে দেখাচ্ছেন এক তরুণ।

ফারুক হোসেন বলেন, আমি জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। এক সময় মেলায় আসার অনেক ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারতাম না। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে মেলায় আসি। সুইচ ফাউন্ডেশনের কল্যাণে মেলা ঘুরে দেখতে পারি। ফারুক হোসেনের মতো প্রতিবন্ধীদের মেলা ঘুরে দেখানোর জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

বিগত ৫ বছর থেকে সংগঠনটির কর্মীরা বিনামূল্যে মেলায় আসা প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বা হাঁটতে অক্ষম ব্যক্তিদের হুইল চেয়ারে করে মেলা ঘুরে দেখায়। তারা যতক্ষণ মেলা ঘুরে দেখতে চায় ততক্ষণ দেখানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণে চলে এ কার্যক্রম।

গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেলার ১৬ দিনে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের হুইল চেয়ারের সেবা গ্রহণ করেছে ৭২ জন ব্যক্তি। সুইচ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ বইমেলায় আসা বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। খুশি সেবাগ্রহিতারাও। টিএসসির সামনেই গ্রন্থমেলার প্রবেশ পথেই প্রতিদিনই চোখে পড়ে নীল গেঞ্জি পরিহিত একঝাঁক তরুণ-তরুণী হুইল চেয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কোনো প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ বা হাঁটতে অক্ষম ব্যক্তি মেলায় এলেই তাদের দিকে ছুটে যান তারা। হুইল চেয়ারে করে পুরো মেলা ঘুরে দেখান বিনামূল্যে।

সংগঠনটির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকে তারা স্বেচ্ছায় এ কাজে এসেছেন। গ্রন্থমেলা উপলক্ষে ১৫টি হুইল চেয়ার কাজ করছে। প্রতিদিনই ২০-২৫ জন স্বেচ্ছাসেবী এতে কাজ করছেন। তারা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা রেশমি বলেন, এখানে আমরা যারা কাজ করছি তারা সকলেই স্বেচ্ছায় এসেছি। অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে ভালো লাগা থেকেই আসা। সেবা দিয়ে সত্যি অনেক ভালো লাগে। মানুষের জন্য কাজ করাটা আনন্দের। সংগঠনটির আরেক কর্মী সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মো. জাবের হোসেন, ঢাকা কলেজের ফরিদ খাঁন, সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী মো. শিমুল বলেন, একজন অসুস্থ কিংবা প্রতিবন্ধী রোগীকে মেলা ঘুরে দেখানোর পর যাওয়ার সময় যখন বলে ধন্যবাদ বাবা, তোমাদের জন্য মেলা ঘুরে দেখতে পারলাম। তখন সত্যিই ভালো লাগে। তাদের কাছ থেকে আমরা কোনো টাকা নেই না শুধু বলি মন থেকে দোয়া করবেন।

বই কিনতে সুদমুক্ত ঋণ দিচ্ছে আইপিডিসি : অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলাকালীন সময়ে বই কেনার জন্য বিনা সুদে ২ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। ঋণ নিয়ে বই কেনার পর তিন মাসে তা পরিশোধ করতে হবে। আইপিডিসির ব্যান্ড প্রমোটর জান্নাতুল ইসলাম তন্বী বলেন, এই ঋণ সুবিধা পেতে গ্রাহকের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পেশাগত পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং বিকাশের মোবাইল অ্যাপ চালু থাকতে হবে। মেলার আইপিডিসির বুথে ঋণ গ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যসহ সব সহযোগিতা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে এই বুথে। তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১শ’ জন গ্রাহক বই কেনা জন্য লোন নিয়েছেন। বই পড়তে সবাইকে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের এ উদ্যোগ।

পুলিশের ব্লাড ব্যাংক: ‘রক্তে মোরা বাঁধন গড়ি-রক্ত দেব জীবন ভরি’ এ স্লোগান নিয়ে গ্রন্থমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী। গতকাল পর্যন্ত ৩৭৮ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। রক্তদান কর্মসূচীর দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের এসআই হারুন অর রশীদ বলেন, ২০১০ সাল থেকে মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী করেছি। এবারো তার ধারাবাহিকতায় মেলায় আমরা রক্তদান কর্মসূচী আয়োজন করছি।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 

 

 




Loading...
ads






Loading...