পাঠকের আগ্রহ গল্প-উপন্যাসে

পাঠকের আগ্রহ গল্প-উপন্যাসে - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:৫৭

গ্রন্থমেলা এলেই লেখকরা চেষ্টা করেন মনের আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে লেখাগুলোকে মলাটবন্দি করতে। বছরজুড়েই লেখকরা অপেক্ষায় থাকেন প্রাণের এ মেলার জন্য। তাই তো মেলায় কেউ কবিতা, কেউ গল্প, কেউ উপন্যাস আবার কেউ বা ভ্রমণকাহিনীসহ নানা বিষয় নিয়ে লেখাগুলোকে মলাটবন্দি করে প্রকাশ করেন মেলায়। গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে লেখক, কবি, সাহিত্যিক আর বইপ্রেমীদের মিলনমেলার সৃষ্টি হয়। এবারের মেলায় গতকাল পর্যন্ত ৬৮৪টি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে প্রকাশনার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে আছে কবিতার বই।

তবে মেলায় বিক্রিতে এগিয়ে রয়েছে উপন্যাসের বই। উপন্যাসের পর গল্পের বই বেশ বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এদিকে এ বছর মেলায় বেশ সাড়া ফেলেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ৩য় বই ‘আমার দেখা নয়াচীন’। ইতোমধ্যে বইটির ২৫ হাজার কপি বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমির একটি সূত্র। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবারের মেলায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮২টি উপন্যাস নিয়ে প্রকাশনার দিকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উপন্যাস ও ৩১৬টি গল্পগ্রন্থ নিয়ে প্রকাশনার দিকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া প্রবন্ধ ১২৬টি, গবেষণা ৪৫টি, ছড়া ৪৭টি, শিশুতোষ ১০৩টি, জীবনী ৭৬টি, রচনাবলি ৪টি, মুক্তিযুদ্ধ ৮৩টি, নাটক ১০টি, বিজ্ঞান ৪৫টি, ভ্রমণ ৪২টি, ইতিহাস ৫০টি, রাজনীতি ৫টি, স্বাস্থ্য ১৬টি, বঙ্গবন্ধুর ওপর ৭৩টি, রম্য/ধাঁধা ১৭টি, ধর্মীয় ৬টি, অনুবাদ ২৩টি, অভিধান ৫টি, সায়েন্স ফিকশন ৪১টি এবং অন্যান্য গ্রন্থ ১৪১টি বই প্রকাশিত হয়েছে।

কলম প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী জাকিয়া বলেন, মেলায় এখন বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পাঠকরা বেশি আসছে। এ ধারা মেলার শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মেলায় উপন্যাসের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর থেকে মেলায় এসেছেন রাবেয়া আক্তার সুইটি। তিনি বলেন, মেলার প্রতি আমার আলাদা একটা টান রয়েছে। প্রতি বছর মেলায় আসি, পছন্দের লেখকদের বই সংগ্রহ করি। বিশেষ করে উপন্যাস পড়তে বেশ ভালো লাগে। তাই উপন্যাসের বইগুলো কিনি বেশি। আজও কয়েকটি উপন্যাসের বই কিনলাম।

মেলায় কবিতার বই বেশি প্রকাশ হওয়া প্রসঙ্গে উৎস প্রকাশনের প্রকাশক মোস্তফা সেলিম বলেন, সাহিত্যের সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো কবিতা। কিন্তু এখনকার অনেক কবিরা নিজের ভাবকে কোনো রকম উপস্থাপন করালেই সেটাকে কবিতা মনে করেন। আবার অনেক কবি নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কবিতার বই প্রকাশ করেন। কিন্তু পাঠকরা তা গ্রহণ করে না।

তবে আবিষ্কার কোয়ালিটি পাবলিকেশন কর্ণধার দেলোয়ার হাসাব বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, জন্ম গতভাবে বাঙালিরা কবিতা প্রিয়। সাহিত্যের প্রথম বিষয় হলো কবিতা। কবিতার মাধ্যমে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। তাই মানুষ কবিতা বেশি লেখে। এ কারণেই মেলায় কবিতার বই বেশি প্রকাশ হয়।

এদিকে ভালোবাসা ও ফাগুন শেষ হলেও রেশ রয়ে গেছে রাজধানীজুড়ে। গতকালও মেলায় আশা অনেক তরুণীদের মাথায় ছিল বাহারি ফুলে খোঁপা। স্টল ও প্যাভিলিয়নের সামনে বইপ্রেমীদের ভিড় ও বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততা বলে দেয় বইয়ের প্রতি বাঙালির ভালোলাগা ও ভালোবাসার কথা। মেলায় আগত প্রায় সবার হাতে হাতেই শোভা পেয়েছিল বই। বয়স ও রুচিভেদে প্রায় সব ধরনের বইয়েরই কাটতি ছিল গতকাল মেলার ১৫তম দিনে। পাঠকদের উপস্থিতি ও আশাতীত বিকিকিনিতে এদিনের মেলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা।

হাবিবুল্লাহ ফাহাদের ‘বজলু জানে লাশের পরিচয়’: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড প্রকাশ করেছে কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাবিবুল্লাহ ফাহাদের ‘বজলু জানে লাশের পরিচয়’। গ্রন্থমেলায় ১৯ নম্বর প্যাভিলিয়নে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। বইটিতে রয়েছে ১২টি গল্প। প্রতিটি গল্পের বিষয়ে বৈচিত্র্য রয়েছে। গল্পের শরীরে উঠে এসেছে সমকালীন প্রেক্ষাপট, সমাজ, বাস্তবতা আর জীবনের অলৌকিক সব টানাপড়েন। আছে যুদ্ধদিনের পটভূমিতে লেখা আখ্যানও। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন জি.জি (গৌতম ঘোষ)। বিশেষ ছাড়ে বইটির মূল্য ১৮৮ টাকা।

নতুন বই: গতকাল রোববার মেলায় এসেছে ১৪৬টি নতুন বই। এর মধ্যে আবিষ্কার প্রকাশনী এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদের ‘ইসলাম ও উন্নত জীবন ব্যবস্থা’, ফারহানা রহমানের ‘আমি মিথিলা’, শিরীন আখতারের ‘মৎস্য কন্যা’, হেলাল উদ্দিন পান্না বীরপ্রতীকের ‘১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ এবং ডায়েরি’, ত্রয়ী প্রকাশনী এনেছে অনুবাদক ইসলামুল হাফিজ নির্জনের ‘থিঙ্ক অ্যান্ড গ্রো রিচ’, পেন্ডুলাম প্রকাশনী এনেছে জুয়েল মুস্তাফিজের কবিতার বই ‘হোয়াট অ্যা বিউটিফুল ডেড বডি’, কথাপ্রকাশ এনেছে শাহাদুজ্জামানের সাক্ষাৎকারগ্রন্থ ‘লেখা নিয়ে কথা’, সময় প্রকাশন এনেছে রুমা মোদকের গল্পগ্রন্থ ‘সেলিব্রেটি অন্ধকারের রোশনাই’, কবিতাভবন এনেছে নির্মলেন্দু গুণের ‘অনুবাদিত কবিতাসমূহ’ ও বাতিঘর এনেছে হরিশংকর জলদাসের ‘বিভোর থাকার দিনগুলো’ প্রভৃতি।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 




Loading...
ads






Loading...