ফাগুনের উচ্ছ্বাসে মেতেছিল গ্রন্থমেলা

ফাগুনের উচ্ছ্বাসে মেতেছিল গ্রন্থমেলা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সেলিম আহমেদ
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩২,  আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩৬

পরণে লাল কিংবা হলুদ জমকালো শাড়ি, মাথায় বাহারি ফুলের খোঁপা, হাতে টকটকে লাল গোলাপ ফুল, চোখে কাজল, মুহুর্মহু বাতাসে উড়ছে শাড়ির আঁচল, হাতে রিনিঝিনি করে বাজছে রঙিন কাচের চুড়ি, সেই  হাতে ধরে আছেন প্রিয়জন। এমন নান্দনিক সাজে সজ্জিত হয়ে তরুণীরা ঘুরেছেন মেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তের নানা স্টলে। কিনেছেন প্রিয় লেখকদের বই। স্মৃতি ধরে রাখতে তুলেছেন সেলফি আর নানা ভঙ্গিমায় ছবি। পিছিয়ে ছিলেন না তরুণেরাও। মেয়েদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের সাজসজ্জাও ছিল চমৎকরা।

গতকাল শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারির মেলার চিত্র ছিল এমনই। সবমিলিয়ে ফাগুন আর ভালোবাসার দিবসে উচ্ছ্বাসে মেতেছিল বাঙ্গালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ছুটির দিন ও শিশুপ্রহর থাকায় মেলার দ্বার খোলা হয় সকাল ১১টায়। সকাল থেকে বইমেলা প্রাঙ্গণে তারুণ্যের উন্মাদনা ছিল লক্ষ্য করার মতো। যুগলদের পদচারণায় মুখর ছিল অমর একুশে বইমেলা।

বিকেল মেলা মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন তরুণ-তরুণীরা। কবিতা, গল্প আর উপন্যাস কিনে দিয়েছেন প্রিয় মানুষটির হাতে। বইয়ের মলাটের ফাঁকে গুঁজে দিয়েছেন ভালোবাসায় সিক্ত গোলাপকলি। হাতে হাত রেখে অনুভব করেছেন পরস্পরের উষ্ণতা। বইমেলায় ছিল ফাগুন আর ভালোবাসার প্রভাব। তাইতো প্রেম বিষয়ক বইগুলোর বিক্রিতে লেগেছিল ভালোবাসার হাওয়া।

প্রকাশকরা বলেন, প্রিয় মানুষকে বই উপহার দিন। লাইনটি তাত্ত্বিক হলেও গতকাল ফাল্গন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এর প্রয়োগটি ছিল চোখে পড়ার মতো। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আগত যুগলরা এদিন একে অন্যকে উপহার দিয়েছেন ভালোবাসার বই। তাই বই মেলা জুড়ে অন্য বইয়ের কদর কম থাকলেও ভালোবাসার বইয়ের কদর ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রেমের কবিতা, উপন্যাস, ছোট গল্পসহ অন্যান্য বইয়ের বিক্রি হয়েছে দেদারসে। আর এতে করে ভালোবাসা নিয়ে যেসব প্রকাশনা বেশি করে বই এনেছে তাদের স্টলে সমাগমও ছিল চোখে পড়ার মতো।

কথা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মো. ইউনুস মানবকণ্ঠকে বলেন, এদিনটি মূলত ভালোবাসার। তাই আজ ভালোবাসার বই বিক্রি দিয়েই শুরু হয়েছে দিন। বিক্রির ৮০ শতাংশই ভালোবাসার বই চলছে। আজকের পর ভালোবাসর বইয়ের এত চাহিদা কমই থাকবে। অন্য বইয়ের চাহিদা সেসব দিনে বেশি থাকলেও ভালোবাসার বইয়ের দিন আজই। আমরাও এ জন্য প্রস্তুতি  নিয়ে থাকি। প্রত্যাশিত মতোই বিক্রিও হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিপিকা তুষ্টি বলেন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খুব মজা করছি। পছন্দের বই কিনলাম। বাসন্তী সাজে এলাম, বন্ধুরাও এসেছে। বসন্ত আর বইমেলা দুটোই চমৎকার। আর সঙ্গেতো আজ ভালোবাসার দিন।

ধামরাই থেকে আসা মনোয়ার ইসলাম জানালেন, ভীষণ ভালো লাগছে। বন্ধু-বান্ধব মিলে বেশ জমিয়ে কাটছে দিনটি। সকাল থেকে বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরলাম। বইও কিনেছি।

অন্য প্রকাশের বিক্রয়কর্মী রাব্বি আহমেদ জানান, প্রতিবছর ফাল্গ–ন ও ভালোবাসা দিবসের প্রতীক্ষায় থাকি আমরা। আজকে পহেলা ফাল্গন এবং ভালোবাসা দিবসে মেলা পরিপূর্ণ। বিক্রির মাত্রা বেড়েছে এবং তা বিকেলে আরো বাড়বে বলেই আশা করছি।

 মেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, ছুটির দিন এবং দুটি দিবস একসঙ্গে হওয়ায় মেলায় জনসমাগম অনেক। এতে লেখক প্রকাশক সবাই খুশি। বইমেলায় অতিথি বাড়লে আমরাও খুশি হই, মেলায় তখন প্রাণ ফিরে আসে। সবাই এমন দিনই চায়।

শিশু প্রহরে আনন্দে মেতেছে শিশুরা : এ বছরের বইমেলার তৃতীয় শিশুপ্রহরে হৈ হুল্লোড় আর উচ্ছল আনন্দে গতকাল ভেসেছিল শিশুরা।  সকালে মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ছে তাদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস। সকালে শিশুদের কলকাকলিতে মুখর বইমেলা।

তবে শুধু আনন্দ করাই নয়, বইও কিনছে এই খুদেরা। তাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে রূপকথার গল্প, ছড়া এবং কার্টুনের বই।

ঝিঙ্গেফুল স্টলের সামনে মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সুমাইয়া বিনতে রিমি নামে এক শিশু। আনন্দে উচ্ছল তার চোখ দুটো কোন বই বাছাই করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত মায়ের পরামর্শ নিয়ে পছন্দের বইটি কিনেছে।

সুমাইয়া বিনতে রিমি বলে,  এত আনন্দ হচ্ছে। এত সুন্দর সুন্দর বই এখানে। কোনটা রেখে কোনটা কিনব কিছুই বুঝতে পারছি না। মা কিনে দিয়েছে রূপকথার বইটা। বাসায় গিয়েই পড়ব।

অন্যদিনের তুলনায় গতকাল মেলার শিশু চত্বরে শিশুতোষ বই বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

 

মানবকণ্ঠ/এমএইচ

 

 





ads







Loading...