সাতটি কবিতা

মানবকণ্ঠ
কবিতা - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১৫

সিদ্দিক প্রামাণিক
সবজি বিক্রেতা

কুয়াশার হাটে যে পাইকারির আড়ৎ
সেখান থেকেই লাউ, বরবটি আর আলুর সাথে
সবজি বিক্রেতার ভ্যানে উঠে আসে
কৃষকের ওম-কৃষাণীর মায়া।
মহল্লার বেঢপ উঁচুনিচু পথে
গলাভাঙা মাইকের খুচরো আহ্বান শুনে
ঘুরতে ঘুরতে ঘোরে না জংয়ের প্যাডেল
সামনে এগোলেই-চাকায় পাংচার
নিশ্চুপ ছিঁড়ে যায় একপাটি স্যান্ডেলের সস্তা ফিতে

 

সৈয়দ আবদুস সাদিক
মায়াবী আকর্ষণ

দেখা হলো বটে অনেক পরে,
দুর্দিনও না, সুদিনও না,
শুধু পাতাঝরা বৃক্ষের গান অবাক বিস্ময়,
চোখে-মুখে।
কেন দেখা হলো চওড়া পিঠের পরে
পড়ে আছে তার ঘনকালো চুল-
অন্ধকারে,
আমার চোখে বিস্ময় জেগে থাকুক
তোমার পায়ের শব্দে কুহকের রাজ্যে;
এ কালের যাযাবর আমি হেঁটে যাই
এইসব তারাদের দেশে;
রূপ-রস, গন্ধ-স্পর্শ-মায়াবী আকর্ষণে।
ও মেয়ে, এসবের নাম বুঝি দূরগামী শূন্যতা!

 

শম্পা মনিমা
আর্দ্র চোখের কবিতা

স্তবক থেকে স্তবকে যেতে সময় লাগলো
একটা করে তুমি নিঃশ্বাসে,
অবুঝ কান্না ঝরছে লগ্নের কাছে।
পার্থিব ইতিকথা সংসারের দিনরাতে থাকে
বয়সী ব্যঞ্জনা থেকে রাতদিন আয়ু আহার রাখে,
প্রতিদিন জন্ম আপ্লুত করছ বেদনা যাপনে
পুনরবার মিলনের পিপাসায়
স্মৃতি সব অগতিরনাথ।
যত মোহনকাম আকশকুসুম উচ্চারণ
সবটুকু স্তবকের গঙ্গাধারা নীলকণ্ঠের
তুমি শোনো শুধু উজান সুরের।

 

সৈয়দ ওয়ালী
ইদানীং

ইদানীং নানা কিছু
নানা মুখ
হারাবার ভয় জাগে
ঝরে পড়া পাতার কাঁদন
কর্ণে, বাজতে থাকে
যে শিশুর দেহে-মাখা-লোশনের ঘ্রাণ
এই নাকে লেগে আছে
সে এখন দূর দেশে
ভাগ্য গড়ার সন্ধানে
জন্মের উষ্ণতা ছেড়ে গেছে!
যে মানুষ বিলিয়ে সকল ঋদ্ধ করেছে এ জীবন
কাঁধ হয়ে
ছায়া হয়ে
সামলিয়ে কালো-ঝড়, গড়ে গেছে জলের ভুবন
সে মানুষ কবরের দেশে, নিজেই মিলিয়ে গেছে!
ইদানীং শুধুই মন খারাপ হয়-
আরো আরো হারাবার ভয়ে জড়সড় হয়ে থাকে!


ইমরুল ইউসুফ
প্রেমে প্রশান্তির গান

হাইতোলা দুপুর
ক্রমেই বাড়তে থাকে রোদের বয়স
সানশেডে পাখিদের নরম পালক
উড়ে উড়ে বিকেলের অপেক্ষায়
ভাবনার নামতা শেখায়।

আমাদের প্রেমের উঠোনে তখন
বৈশাখের তুমুল ঝগড়া
শহুরে কাকের মতো একরোখা তোমার ক্রোধ
মুহূর্তেই মোমের মতো গলিয়ে দেয়
কফির উন্মত্ত আত্মঘাতী ধোঁয়া।

ফ্লাড লাইটের বৈষয়িক আলো
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত
অথচ তোমার আমার প্রেমে
চাঁদের বুড়ির মতো, দূর্বা সবুজ ভোরের মতো
প্রশান্তির গান শোনায়।

 


কাজী খোরশেদ আলম
যেমন চলছে

কাকে কি বলব-
কিছুই তো নেই বলার
দুই চোখে শুধু দেখে দেখে যাচ্ছি।

সময় তো চলেই যাচ্ছে
তার নিজের মতোই করে
বয়সটাকে আর ধরে রাখা যাচ্ছে না।

নিয়ম-কানুন আর ধর্মের কথা
উড়ছে আকাশে বাতাসে
প্রোথিত হচ্ছে না কারো হৃদয়ে।

যে বলার সে বলে যাচ্ছে
আর যে শুনার সে শুনেই যাচ্ছে
কিন্তু কিছুই তো আর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।

যে যেমন চলার
সে তেমনি চলছে
সাধ্য আছে কার গতি থামাবার।

 

অমিত বণিক
বিজয় মিছিল

বিজয় মিছিলে, লাখো জনতার ভিড়ে
বিজয় উদ্যানে জনতার মঞ্চে, বঙ্গবন্ধু তোমাকে চাই।

বিজয় মিছিলে, লাল সবুজ পতাকা হাতে
বাংলার পথে ঘাটে, বঙ্গবন্ধু তোমাকে চাই।

বিজয় মিছিলে, লাল সবুজ পতাকা তলে
পদ্মা মেঘনা যমুনা তটে
বঙ্গবন্ধু তোমাকে চাই।

 

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...