হরেক রকম ভূত আছে

হরেক-রকম-ভূত-আছে
ভূত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:১০

পেত্নী : বাংলা মতে পেত্নী হল নারী ভূত। অতৃপ্ত আশা নিয়ে বা অবিবাহিত অবস্থায় যে নারীরা মৃত্যুবরণ করেন, তাদেরই পেত্নী বলে অভিহিত করা হয়। সংস্কৃতের ‘প্রেত্নী’ থেকে উৎপত্তি হয়েছে ‘পেত্নী’ শব্দটির। পেত্নীরা সাধারণত মৃত্যুর পরেও খারাপ অভিসন্ধি পূরণে পৃথিবীতে বিচরণ করে। এরা সাধারণত ভীষণ বদমেজাজি হয় এবং কাউকে আক্রমণের উদ্দেশ্য নিয়েই ঘুরে বেড়ায়।

শাকচুন্নি : সংস্কৃত শব্দ ‘শাকচুরনী’ থেকে এসেছে প্রচলিত এই ভূতের নামটি। শোনা যায় যে, বিবাহিত নারীরা মৃত্যুর পর এই ভূতের রূপ নেয়। সাদা শাড়ি, হাতে শাঁখা-পলা পরিহিত অবস্থায় এরা রাতের অন্ধকারে ঘুরে বেড়ায়। অনেক সময় বিবাহিত নারীদের ওপর ভর করে শাকচুন্নীরা। কারণ এদের লক্ষ্যই থাকে সধবা মহিলাদের মতো জীবনযাপন করার এবং স্বামীর সঙ্গে বিবাহিত জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করার।

মেছোভূত : এই ভূত নিয়ে বাংলায় অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। সাধারণত মাছ খেতে ভালবাসে বলে এই ভূতদের ‘মেছোভূত’ নামে অভিহিত করা হয়। শোনা যায়, গ্রামের পুকুরের পাশের গাছে, যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে এদের বসবাস। গ্রামের অন্ধকার রাস্তা বা নির্জন বাঁশবাগানের মধ্য দিয়ে মাছ কিনে ফিরলে এই মেছোভূতদের উপদ্রবের মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে এদের উৎপাতের গল্প শুনতে পাওয়া যায়।

নিশি : ভুত সমাজে সবচেয়ে ভয়ংকর নিশি। প্রচলিত কথায়, কোনো কুচক্রী তান্ত্রিক তার শত্রূকে শায়েস্তা করার জন্য নিশির সাহায্য নেয়। গভীর রাতে শিকারকে তার প্রিয় মানুষের গলায় নাম ধরে ডাকে নিশি। তাকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর আর বাড়ি ফেরে না সেই ব্যক্তি। নিশিরা দুইবারের বেশি কাউকে ডাকতে পারে না। বলা হয়, রাতেরবেলা তিনবার নিজের নামে ডাক শুনলে তবেই আওয়াজ করা উচিত।

মামদো ভূত : হিন্দু মতে, মুসলমান ব্যক্তির অতৃপ্ত আত্মাকে ‘মামদো’ নামে ডাকা হয়। অনেকে এদের ‘জিন’ বলেও ডাকেন।

স্কন্ধকাটা : স্কন্ধ মানে ‘মাথা’? মাথা থাকেনা বলেই এই ভূতদের ‘স্কন্ধকাটা’ বলা হয়। মাথা কাটা গিয়েছে এমন লোকদের আত্মাই স্কন্ধকাটা ভূতে পরিণত হয়। বিশেষ করে রেল দুর্ঘটনায় কাটা পড়েছে এমন ব্যক্তিরা স্কন্ধকাটা ভূতের রূপ নেয়। প্রচলিত কথা অনুযায়ী, এই ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথার খোঁজ করে।

ডাইনি : ‘ডাইনি’ কোনো আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। এরা সাধারণত বৃদ্ধ নারী হন। এরা কালো জাদুর সাহায্য নিয়ে বা ডাকিনী বিদ্যার সাহায্যে প্রতিপক্ষের ক্ষতি করে। বয়স বাড়লেও ডাকিনী বিদ্যার মাধ্যমে এরা নিজেদের যৌবন ধরে রাখতে পারে। ছেলেদের মন ভুলিয়ে নিজেদের ফাঁদে ফেলে। প্রচলিত রয়েছে, গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েদের ভুলিয়ে নিয়ে যায় এরা। তারপর হত্যা করে এবং তাদের রক্ত খেয়ে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে। এ ছাড়াও গেছোভূত, আলেয়া, বেঘোভূত ও কানাভুলোর মতোও নাম শোনা যায় বাংলা পূরাণে। আধুনিক মনষ্ক মানুষ বা বিজ্ঞানমঞ্চের কাছে বাস্তবে ভূত বা আত্মার কোনো স্থান নেই।

মানবকণ্ঠ সাহিত্য ডেস্ক

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...