সাক্ষাৎকার

প্রকৃতিকে ধারণ কর, মানবিক হও : আসলাম সানী

মানবকণ্ঠ
আসলাম সানী - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • আসাদ জোবায়ের
  • ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৭,  আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৩

আসলাম সানী : ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক

জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৫৮, বেগম বাজার, লালবাগ, ঢাকা
পিতা মরহুম আলহাজ মোহাম্মদ সামিউল্লাহ
মাতা মরহুমা শাহানা বেগম
পেশা লেখালেখি ও সাংবাদিকতা
লেখা ও সম্পাদিত বই চার শতাধিক
পুরস্কার : বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার
প্রথম বই : প্রাণহীন বেঁচে আছো

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন -আসাদ জোবায়ের, গ্রন্থনা করেছেন-এনাম রাজু।

কেমন আছেন?

আমি সবসময়ই ভালো থাকি। আমি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করি। আমি আশাবাদী মানুষও। এই যে আমি ছোট্ট একটা মানুষ, পৃথিবী এলাম। যদি আমি পৃথিবীতে না আসতাম? এই যে আমি মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম নিলাম। আমিতো একজন দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিতাম। কতো না কষ্টে থাকতে হতো। কিন্তু ভাগ্য আমাকে শহরে জন্ম দিয়েছে। মানুষতো সবসময় শহরমুখি। এটাতো আমার সৌভাগ্য। এসব চিন্তা করেই আমি ভালো থাকি।

আপনি ছোটদের জন্য কেন লেখেন?

আমি দেখলাম, ছোটদের মাঝে একটা কল্পনার জগত আছে। একটা স্বাপ্নিক বিষয় থাকে। এই শিশুদের মাঝে যদি আমি ইতিবাচক কিছু সাহিত্যের মাধ্যমে দিতে হবে। এটি একবার দিতে পারলে সারাজীবন সে তা মনে রাখবে।

কার লেখা আপনাকে বেশি আন্দোলিত করে?

সুকুমার রায়ের সব ছড়াই আমাকে আন্দোলিত করেছে। এছাড়া অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখাও আমাকে আন্দোলিত করে। আমিরুল ইসলামের একটা ছড়া আমি প্রায় পড়ি, ‘নীল আকাশের তারায় তারায়, মুগ্ধ আমার স্রোতের ধারায়, ঘাসের বনে কাশের বনে, একটি ছবি থমকে দাঁড়ায়, সুরে সুরে পাখির গানের, শীষে শীষে হলদে ধানের, ছবিটা কার ছবিটা কার, শেখ মুজিবুর রহমানের।’

শিশুরা ডিজিটাল জগতে ঢুকে বইবিমুখ হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে ফিরে আসার উপায় কী?

এটার কারণ হলো পরিবার। পরিবার যদি শিশুদের গড়তে না পারে সে ব্যর্থতা পরিবারের। পরিবারকে আরো সচেতন হতে হবে। তবে বই থেকে বাচ্চারা পুরোপুরি মুখ ফেরায়নি। এই যে বাংলাদেশের একুশে গ্রন্থমেলা। বিশ্বের আর কোথাও এমন বড় বইয়ের মেলা হয় না। প্রবাসীদের দেখো, ভিন্ন ভাষার পাশাপাশি তাদের বাচ্চারাও কি সুন্দর স্বচ্ছভাবে বাংলা বলতে পারে। কারণ তাদের অভিভাবকরা অনেক সচেতন। মায়ের ভাষাকে যেন ওরা ভুলে যায়।

আপনার কখন ভালো লাগে আর কখন কষ্ট লাগে?

পৃথিবীর যা কিছু ভালো তাই ভালো লাগে। মানুষের খুশি দেখলে ভালো লাগে। শিশুদের হাসিমুখ দেখলে ভালো লাগে। একটা ভালো ছড়া পড়লে বা শুনলে ভালো লাগে। সুন্দর গান শুনলে ভালো লাগে। কিন্তু খুব খারাপ লাগে যখন দেখি শিশুশ্রম, শিশুদের প্রতি নির্যাতন। তখন মনে হয়, আমারও তো একটা শিশু আছে। সেও যদি সেই স্থানে থাকতো। এটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। এই শিশুরা তো প্রজাপতির মতো উড়তো, প্রকৃতির সঙ্গে খেলতো।

আপনি বিরক্ত হন কখন?

অনিয়ম, অন্যায় আর পাপ দেখলে বেশ বিরক্ত হই। সবচেয়ে বিরক্ত হই যখন দেখি মানুষের অতিরিক্ত চাওয়া। এটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়।

আপনাকে একটা পাখির ডানা দিলে আপনি কোথায় যাবেন?

আমি গ্রাম বাংলার প্রকৃতি দেখবো। যেখানে জোনাকি দেখবো, প্রকৃতি দেখতে পাবো। দেখতে পাবো, পাহাড়, নদী, সমুদ্র। মূলকথা বাংলা প্রকৃত প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে চাইব।

তরুণ লেখকদের সম্পর্কে কিছু বলবেন...

তরুণদের প্রতি আমার চাওয়া। তোমরা খুব গভীরে যাও। প্রচুর পড়তে হবে। প্রকৃতি দেখতে হবে।

আপনার প্রথম বই সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমার প্রথম বই একটা বুকলেটের মতো। সেটাতে চার লাইন, ছয় লাইনের মতো ছোট ছোট কবিতা ছিল। বইটার নাম ছিল ‘প্রাণহীন বেঁচে আছো’ এই বইটা অবশ্য বড়দের জন্য লেখা।

ছোটদের জন্য কিছু বলেন।

ছোটদের একটি কথাই বলতে চাই। তুমি একদিন অনেক বড় হবে। গ্রাম বাংলার প্রকৃতি এবং আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করো। মনে রাখতে হবে এই যে আমাদের ভাষার জন্য কত প্রাণ দিতে হয়েছে। কত কষ্টের বিনিময়ে দেশটাকে স্বাধীন করতে হয়েছে। সেগুলোকে ভুলো না। তাই তুমি যতো বড় হও। ততোই তাকে ধারণ করো। মানবিক হতে হবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...