কবিতা

খালেদ রাহী'র পাঁচটি কবিতা

খালেদ রাহী

মানবকণ্ঠ
কবি খালেদ রাহী - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ১২ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৫

অসুস্থ কাল

পাহাড়ে টিলায় শুকায় আমার কঙ্কাল
অনেকদিন বহুদিন জ্বরে ভোগা হাড়;
এক একটা কেমন লইট্যা শুটকির মতো ভেংচি কাটে
অথচ মানুষ ছিলাম- হিংস্র হাঙ্গরকেও করিনি ভয়
আহ অসুস্থ কাল
পাহাড়ে টিলায় শুকায় আমার কঙ্কাল

মুছে গেছে আমিষের রুপরেখা অথচ মানুষের জন্য আমি খুলেছিলাম আমিষের স্কুল
চালু করেছিলাম সামুদ্রিক সিলেবাস।


স্বপ্ন

আমার স্বপ্নগুলো কেবলই ঝুলে থাকে অসম্ভবের হ্যাঙ্গারে
দু' একটা সম্ভাবনার বীজ শুকাতে দি রোদে
অথচ বীজগুলো কেবলই ভিজে যায়
ভিজতে ভিজতে বেনোজলে

আমার স্বপ্নগুলো কেবলই ঝুলে থাকে অসম্ভবের হ্যাঙ্গারে
ঝুলে থাকে ঘুমের ওম- প্রিয়ার প্রশান্তি নির্ঘুম রাত জানে ভাগ্য ইতর প্রজাতি।


ঘোড়া

আমি হাট থেকে একটা ঘোড়া কিনে আনলাম
আমার প্রেমিকা ওটাকে টেবিলে খাড়া করে রাখে আর ঘোড়দৌড়ের রহস্য জানতে চায়

আমার এসব বলতে একদম ইচ্ছে করে না
অলৌকিক জ্যোৎস্নার মাঠে আমার ঘোড়াটা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে!

একদিন প্রেমিকা বললো ঘোড়াটা সরিয়ে তোমাকে রাখা দরকার
তুমি স্রেফ একটা পুতুল

 

রেখা উপাখ্যান

আমি যা চাই তা হয়তো হয় না
তবু চাই বৃত্তে কোন অমিল না দেখা দিক; বিন্দু একটা রেখা হয়ে যাক- সরল রেখা। একবার এরকমই হয়েছিলো
আর সরল রেখা তর্ক জুড়ে দিয়েছিলো
বলেছিলো সাপ যদি সরল রেখা হয় তাহলে তো মৃত্যু; জীবন তো সাপেরই মতো- বক্র রেখা বরাবর।
তবু আমি চাই বিন্দু বেচারা অন্তত একটা রেখা হোক।

দূরত্ব

জীবনের হৃদপিণ্ড খেয়ে নিচ্ছি
স্বাদ নেই গন্ধ নেই- ভুগছি মরণ অসুখে। বানরের যকৃত খেতে পারলে হয়তো রোগটা সারতো
জীবনই ভেংচি কাটে- বলে তুমি তো বোকা জেলিমাছ।
ফলে, শান্তির সমস্ত দেউটি নিভে যায় আর আমি শান্তি খুঁজি তোমার স্তনের উপত্যকায়- স্তনের ও দূরত্ব বাড়ছে...

 

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...