• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ই-পেপার

কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিন

মানবকণ্ঠ
কবি হেলাল হাফিজ - ছবি: সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২৫

প্রেম ও দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজের জন্মদিন আজ। কবি ৭১ বছর পূর্ণ করে ৭২-এ পা দিলেন। শুভ জন্মদিন। ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’- বাংলাদেশের কবিতামোদী ও সাধারণ পাঠকের মুখে মুখে উচ্চারিত এই পঙ্ক্তিটির জন্মদাতা হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্ম নেন।

কালোত্তীর্ণ হওয়ার জন্য যে দিস্তা দিস্তা লেখার প্রয়োজন পড়ে না, কবি হেলাল হাফিজ তার অন্যতম উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এক জীবনে কত বর্ণিল ও তীব্র বিষাদই না তাকে বিদ্ধ করল। পোড়াল। না পুড়লে নাকি সোনা খাঁটি হয় না। সন্ন্যাস, আত্মপীড়ন, নির্লিপ্তির পথে দীর্ঘকাল হাঁটলেন। সে এক নিঃসঙ্গ, কষ্টদ্রাবী শিল্পযাত্রা। কবিতার জন্যে সব ছেড়েছুড়ে বিবাগী জীবন। জুয়ার টেবিল, স্কুল মাস্টারি, সাংবাদিকতা, সরকারি চাকরি প্রত্যাখ্যান, হোটেল বাস, অকৃতদার থাকা, নির্মোহ বৈরাগ্য, আলো-আঁধারি রহস্য কুয়াশা কিছু কম নেই তাঁকে ঘিরে। তার সম্পর্কে বলা হয়, ‘হেলাল হাফিজ অল্প লিখে গল্প হয়েছেন।’

বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার আর মা কোকিলা বেগম। ১৯৬৫ সালে নেত্রকোনা দত্ত হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ওই বছরই কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে তিনি তৎকালীন জাতীয় সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বদেশে সাংবাদিকতায় যোগদান করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক পূর্বদেশের সাহিত্য সম্পাদক। ১৯৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি দৈনিক দেশ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক যুগান্তরে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের রাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান কবি হেলাল হাফিজ। সে রাতে ফজলুল হক হলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় পড়ে সেখানেই থেকে যান। রাতে নিজের হল ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরুল হক) থাকার কথা ছিল। সেখানে থাকলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের শিকার হতেন। ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেয়ার পর ইকবাল হলে গিয়ে দেখেন চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, লাশ আর লাশ। পরে নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের দিকে আশ্রয়ের জন্য বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেন।

তার কবিতা সঙ্কলন ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর অসংখ্য সংস্করণ হয়েছে। ওই গ্রন্থটির অনেক সংস্করণ প্রকাশিত হলেও এরপর গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নিস্পৃহতা দেখা যায়। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে আসে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। তার অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। ২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভ‚ষিত হন। তবে শিগগিরই তার নতুন একটি কবিতার বই প্রকাশ হচ্ছে এমনটিই জানালেন কবি নিজেই। এই বইয়ের নাম রেখেছেন: ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা’। বাংলাদেশ এবং কলকাতা থেকে বইটি একযোগে প্রকাশিত হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...