চারটি ছড়া কবিতা

মানবকণ্ঠ
চারটি ছড়া কবিতা - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:২৯

তিন পুকুরের গ্রাম
আরিফ বখতিয়ার

একটি বাঁশের সাঁকোর পরে
তিন পুকুরের গ্রাম,
বট শিমূলের শিকড় দিয়ে
নাম লিখে রাখলাম।

সবচেয়ে বড় পুকুর যেটা দুই ধারে বাঁশ ঝাড়
আর দু’ধারে আমের বাগান চওড়া সে দুই পাড়।
এই পুকুরে মাছেরা সব কিলবিলিয়ে চলে
রাত গভীরে বন্ধু হয়ে মনের কথা বলে।

আরেকটা ঠিক পুকুর আছে গাঁয়ের মধ্যিখানে
রঙিন পানির পুকুর বলে পাড়ার সবাই জানে।
সকাল বেলা সূয্যিমামা আলোর রশি ফেলে
সাত আকাশের রামধনু রং দিয়ে গেছে ঢেলে।
তার উপরে গাছের পাতার সবুজ সবুজ রূপ,
বৃষ্টি এলে ঝরায় পানি জল পড়ে টুপটুপ।

শেষ পুকুরের নাম রূপসী অনেক গভীর জল
স্বচ্ছ এবং কাচের মতো রূপ করে ঝলমল।
পূর্ণিমা চাঁদ নামলে জলে রূপোর বাসনখানি
রাত গভীরে হাসতে থাকে এই পুকুরের পানি।

এটার পাড়েই আমার বাড়ি
তিন পুকুরের গ্রাম
রূপোর জলে চাঁদের গাঁয়ে
নাম লিখে রাখলাম।

 

উড়তে উড়তে
আসাদ জোবায়ের

তুলতুলে মেঘ উড়তে উড়তে অনেক দূর
তুলতুলে মেঘ ঘুরতে ঘুরতে সমুদ্দুর।

জল থৈ থৈ নদীর চিবুক ভিজিয়ে
হল্লাহাটির কিশোরী মন থিতিয়ে
উড়তে উড়তে যায় বাজিয়ে ঝুমুর সুর।

পিপুল পাতায় জলটুপ টুপ কাঁপিয়ে
টুনটুনিটার মনের দুয়ার ছাপিয়ে
জল ছিটিয়ে খেলছে খেলা মেঘদুপুর।

ভাসতে ভাসতে মেঘ হয়ে যায় তুলো টা
ভাবতে পারো শুভ্র কাশের ফুল ওটা
শ্রাবণ শেষে মেঘ ঢুকে যায় শরতে
ভাসছে ভেলা, একটুও নেই ভর ওতে।

শরৎ শেষে হেমন্ত
মেঘগুলো সব কেমন তো
যায় হারিয়ে কোন সে দেশে অনেক দূর।

দুইটা মাসের শীতজুড়ে
মেঘগুলো সব লুকিয়ে থাকে ঘুমপাড়ানি গীতজুড়ে।

বসন্ত যায় দেয় হুঁশিয়ার গ্রীষ্মটা
মেঘের ভয়ে থরথরথর দৃশ্যটা
কালবোশেখির কী ভয়ানক তাণ্ডবে
মেঘের ছানার শান্ত-সুবোধ মান ডোবে।

গ্রীষ্মশেষে বর্ষা আসে ফের
হয় না যাওয়া বের
চঞ্চলা হয় মেঘগুলো আর জলনূপুর
তুলতুলে মেঘ ঘুরতে ঘুরতে সমুদ্দুর।


চাঁদের হাসি
আবদুল হাই ইদ্রিছী

আকাশ জুড়ে চাঁদ উঠেছে
মন করেছে আলো
আজকে কেনো চাঁদটা দেখে
লাগছে এতো ভালো?

চাঁদের ভেতর যে হাসিটা
চোখের পাতায় ভাসে
সে হাসিটা খুঁজে বেড়ায়
মনটা বারো মাসে।

চাঁদ মামা তোর সে হাসিটা
আমায় দিয়ে যাবে?
বিনিময়ে ভালোবাসা
সবগুলো তুই পাবে।

আদর দেবো সোহাগ দেবো
রাখবো বুকে ধরে
আঁকবো সেথায় স্বপ্ন সব-ই
থাকবো আমি পড়ে।


সন্ধে নামার গান
তাহসিনা এনাম তৃষা

আকাশ জোড়া চন্দ্র তারা
জোনাক জ্বলে বনে
দক্ষিণ হাওয়া ছুটল ভীষণ
পরশ বুলায় মনে।

নিভু নিভু মাটির প্রদীপ
আলোকশিখা দোলে
চোখের পাতায় স্বপ্ন হাজার
বিভোর করে তোলে।

সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে
ছন্দে দোলে প্রাণ
হাজার ঝিঁঝিঁ গেয়ে ওঠে
সন্ধে নামার গান।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads




Loading...