সাক্ষাৎকার

আমি প্রতিদিন ছোটদের কাছ থেকে শিখতে চাই: আমীরুল ইসলাম

মানবকণ্ঠ
আমীরুল ইসলাম - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • আসাদ জোবায়ের
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:১৯

আমীরুল ইসলাম
জন্ম: ৭ এপ্রিল ১৯৬৪, লালবাগ, ঢাকায়
পিতা: প্রয়াত সাইফুর রহমান
মাতা: প্রয়াত আনজিরা খাতুন
পিতৃব্য কবি হাবিবুর রহমান, খ্যাতনামা শিশুসাহিত্যিক।

শিশুদের জন্য লিখেছেন তিন শতাধিক বই। শিশুসাহিত্যের সব শাখায় তার ঘোরাফেরা। সবচেয়ে কম বয়সে খামখেয়ালি ছড়াগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন শিশু একাডেমি অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার। পরে পাঁচবার তিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০৬ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। শিশু সাহিত্যে আরো অনেক পুরস্কার জমা হয়েছে তার ঝুড়িতে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা-সদস্য এবং চ্যানেল আইয়ের মহাব্যবস্থাপক।

প্রথম বই: ছড়াগ্রন্থ- খামখেয়ালি।

আমীরুল ইসলামের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- আসাদ জোবায়ের, গ্রন্থনা করেছেন- এনাম রাজু।


কেমন আছেন?

আমি সবসময়ই ভালো থাকি।

এই যে ভালো থাকেন সেই ভালো থাকার উপায়টা কি বা কি করলে ভালো থাকা যায়?

আমার তো কোনো চাহিদা নেই। কোনো মোহ, লোভ বা ক্যারিয়ার নেই। কিছু পাওয়ার আকাক্সক্ষা নেই। নিজের কাছে যখন ভালো মনে হয়, যা ইচ্ছে হয় তাই করি, এভাবেই ভালো থাকি আমি।

সুন্দর মানুষের সংজ্ঞা কি?

যে মানুষ মানুষের কল্যাণ নিয়ে চিন্তা করে, উপকার করে আর ক্ষতির কারণ হয় না, সেই সুন্দর মানুষ।

আপনার জীবন বদলে দিয়েছে বা আন্দোলিত করেছে এমন বইয়ের নাম বলুন...

আসলে জীবন বদলানোর মতো বইয়ের নাম বলতে পারব না। তবে প্রভাব বিস্তার করেছে। এমন বইয়ের তালিকা বেশ লম্বা। আম আটির ঢেপু, রুশ দেশের উপকথা, রবীন্দ্রনাথের ছড়ার বই খাপছাড়া, সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল। তবে সবচেয়ে প্রিয় বই ছিল এবং মোহগ্রস্ত করেছে কবি জসিম উদ্দিনের বাঙালির হাসির গল্প আর দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি।

ফেসবুকসহ অনেক মিডিয়া আছে। তবুও আমরা বই পড়ব কেন?

যে বই জীবনকে সুন্দর করে, মহৎ চিন্তা করায়, জ্ঞানরাজ্যে আলো ছড়ায়, সেই বই সারা জীবন মানুষ পড়তে থাকবে, আর তার জীবনে তা প্রভাব বিস্তার করতে থাকবে। বই হচ্ছে মানব সভ্যতার ধারাবাহিকতা। তুমি যদি বই না পড়ো, তাহলে সেই সভ্যতার ধারাবাহিকতা থেকে তুমি সরে যাবে। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে বইয়ের ধরন হয় তো পরিবর্তন হয়ে যাবে। কিন্তু চিন্তার প্যাটার্ন তো একই থাকবে। এই যে প্রযুক্তি এসেছে এটাকে কল্যাণকর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই প্রযুক্তিই সবার হাতে হাতে বই দিয়ে দিয়েছে। এখন পছন্দ তোমার, কোনটা পড়বে আর কোনটা পড়বে না। এ জন্য আমি প্রযুক্তির পক্ষে।

ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত এমন কেউ কি ছিল বা আছে যার মতো আপনি হতে চেয়েছেন?

বিশেষ কারো মতো হতে চাইনি। সব সময় নিজের মতোই হতে চেয়েছি। তবে বলতে পারি, আমার জীবনের অনেক চিন্তা-চেতনা আবদুল্লাহ আবু সাঈদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

আপনাকে যদি টাইম মেশিন দেয়া হয় তবে অতীতের কোনো স্থানে ফিরে যেতে চান?

আমি নির্দিষ্ট কোনো সময়ে ফিরে যেতে চাই না। টাইম মেশিনে চড়ে পুরো মানবসভ্যতা ঘুরে ঘুরে দেখতে চাই। তবে ফ্রান্সিস বেকনের লস আটলান্টিস বইয়ের কল্পনার দেশ আটলান্টিস দেশে যাওয়ার ইচ্ছে। বইটিতে বলা হয়েছে, দেশটা আটলান্টিক মহাসাগরে তলিয়ে গেছে। তবে এটা এমন একটা দেশ, যে দেশে মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ নাই, শিশুরা সবাই একসঙ্গে স্কুলে যায়, খেলে। পৃথিবীর সব চিন্তাশীল মানুষেরা কল্পনা করেছে, একদিন এমন দেশ হবে। আমি সেই ফ্যান্টাসির দেশটাতে যেতে চাই যদিও সেই দেশটা বাস্তবে নেই। যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।

বর্তমান সময়ে কোথায় যেতে চান বা আপনাকে কোন দেশ টানে?

সারা পৃথিবী ঘোরার পরে মনে হলো, বাংলাদেশেই আমার সুন্দরী, এই ঢাকা শহরেই প্রিয় সুন্দরী। ঘুরেফিরে এখানে ফিরে আসতে চাই।

আপনার লেখা প্রথম ছড়ার নাম মনে আছে?

না। একদম মনে নেই। তবে প্রথম ছড়ার বই ‘খামখেয়ালি’।

আপনি কোন প্রয়োজনীয়তা থেকে বা অনুভব থেকে ছোটদের জন্য লিখতে শুরু করেন?

ছোটবেলায় যে লাইব্রেরিতে যেতাম দেখতাম ছোটদের জন্য ছোক একটা কর্ণারে অল্প বই। ছয়-সাত মাসের মধ্যেই সব বই পড়ে ফেলতাম। তখন মনে হতো ছোটদের জন্য লেখা বুঝি বেশ ঝামেলার ও কষ্টের। তাই হয়তো সবাই কম লেখে। এই চিন্তা থেকে নিজে লেখা শুরু করলাম। যাতে শিশুদের জন্য লাইব্রেরিতে অনেক বই থাকে। এছাড়া আর তেমন কোনো কারণ ছিল না। তবে লেখার তো ছোট বড় নেই। লেখার মতো লেখা হলে মূলত সেটা ছোট-বড় সবার কাছেই সুখপাঠ্য হয়।

ছোটদের জন্য উপদেশমূলক কিছু বলেন...

আমি শিশুদের উদ্দেশে কিছু বলব না। বরং প্রতিনিয়ত ছোটদের কাছ থেকেই আমি শিখি। এই শেখাই আমি সারাজীবন ধরে রাখতে চাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...