টাইম মেশিনে চড়ে প্রাচীন গ্রিসে যেতে চাই: আলী ইমাম

আলী ইমাম-এর সাক্ষাৎকার

মানবকণ্ঠ
আলী ইমাম - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • আসাদ জোবায়ের
  • ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:১৪

আলী ইমাম- একজন শিশুসাহিত্যিক, শিশু সংগঠক, সুবক্তা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলী আকবর, মাতা- শাহজাদী বেগম। শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি বই লিখেছেন ৬০০টির বেশি। ছড়া-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী, অনুবাদ, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীসহ সাহিত্যের সব শাখায় লিখেছেন হাত খুলে। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ শিশুসাহিত্যের প্রায় সবগুলো পুরস্কার। প্রথম বই ছিল ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত গল্পের বই ‘দ্বীপের নাম মধুবুনিয়া’।

'এলেবেলে'র পাঠকদের জন্য গুণী এই ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসাদ জোবায়ের। গ্রন্থনা করেছেন এনাম রাজু।

কেমন আছেন?

বেশ ভালো আছি। যদিও বয়সজনিত কারণে ডায়াবেটিস রোগী এবং হার্টেরও প্রোবলেম আছে। তবে অভ্যেস হয়ে গেছে।

ভালো থাকার সুত্রটা কী?

মনকে প্রফুল্ল রাখা। সবকিছুতে ইতিবাচক থাকা। নেতিবাচক বিষয়কে এড়িয়ে আমি যদি ইতিবাচক হয়ে সবকিছু ভাবার চেষ্টা করি তাহলে মন সজীব থাকবে। আমি মনে করি, এখন যে বেঁচে আছি এটাকেই উপভোগ করা। আমি জাপানে দীর্ঘদিন থেকেছি, সেখানে যা শিখেছি তা হলো- এই মুহূর্ত তোমার জীবনের প্রাপ্তি। সেটাকে পূর্ণাঙ্গ করতে হবে।

একটা বইয়ের নাম বলুন, যেটা আপনাকে ছোটবেলায় অনুপ্রাণিত করেছে।

আমি তো লেখালেখির জগতে আসলাম একটা বই পড়ে। সেটা হলো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বুড়ো আংলা’ বইটা পড়ে। সেই বইটা আমি পড়ি ১৯৬৪ সালে, তখন আমি ক্লাস এইটের ছাত্র। এই বইটি আমাকে স্কুল লাইব্রেরিতে পড়তে দিলেন বাংলা শিক্ষক কাজী নুরুল হক। বইটি পড়েই বুঝলাম, সাহিত্য, ভাষা, শব্দ যা এমন একটা জিনিস যা মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যাবে, যা মানুষকে পাল্টে দেবে। আমারও চারপাশটা পাল্টে গেল। আমি বুঝতেই পারিনি লেখার ভেতরে, শব্দের ভেতরে একটা জাদুকরী প্রভাব থাকতে পারে। এরপর থেকে বুঝতে পারলাম আমাকে শব্দের সাথে থাকতে হবে এবং আমি লেখালেখি শুরু করলাম।

টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ আরো অনেক মাধ্যম থেকেই এখন জ্ঞান অর্জন করা যাচ্ছে। তাহলে বই কেন পড়ব আমরা?

এই দেশে টেলিভিশন যখন শুরু হলো, তার তিন বছর পরই আমি টেলিভিশনের সাথে জড়িয়ে যাই। এরপর জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে টেলিভিশন নিয়ে। কিন্তু বইয়ের মতো মহৎ জিনিস আমি আর পাইনি। আমার বক্তব্য হচ্ছে , বই মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারে। যা আর কোনো মিডিয়া পারে না। আমি যখন বই পড়ব, তখন বইয়ের ভেতরের চরিত্রগুলো আমাকে উদ্বুব্ধ করবে, অনুপ্রাণিত করবে, আমাকে স্বপ্ন দেখাবে। আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের ভাষায়, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। পৃথিবীর যত মণীষী এসেছেন তারা সকলেই বলেছেন- বইয়ের কাছে তারা সকলেই ঋণী। বইয়ের মাধ্যমে শিশুরা স্বপ্নের পথে যাবে। কেননা শিশুরাই হচ্ছে শ্রেষ্ট বিনিয়োগ। সেই দিক থেকে আমি ঠিক পথেই ছিলাম।

এখন কি বই লিখছেন?

‘স্বপ্নবালক শেখ রাসেল’ নামের একটা এবং টাইম ম্যানেজমেন্টের ওপর একটা বই। এই যে আপনার সাথে এতক্ষণ কথা হচ্ছে এভাবেও সময়টাকে কাজে লাগাতে পারছি আমরা। এটাই হচ্ছে টাইম ম্যানেজমেন্ট। আমি যে আপনার সাথে কথা বলছি সেটা হলো- আমার মনের তথ্যগুলোকে আপনার সাথে শেয়ার করা, প্রচার করা।

বিজ্ঞান নিয়ে তো আপনি অনেক বই লিখেছেন। এখন যদি আপনাকে একটা টাইম মেশিন দেয়া হয়, আপনি কোন সময়ে ফিরে যাবেন?

আমি যেতে চাইব সেই গ্রিসের সক্রেটিসীয় একটা সময় আছে, সেই সময়ে। এখন তো পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহƒত শব্দ হচ্ছে সেলফি। কিন্তু সেই সময়ে গেলফি নামের একটা মন্দির ছিল, যার গেটে লেখা ছিল- নো দাইসেলফ। নিজেকে জানো। এই যে জ্ঞান আসল তা সেই সময় থেকেই এসেছে। জ্ঞানের যে বিভাজন, তা সেই সময় থেকেই শুরু। তাই আমি সেই সময়ে সক্রেটিসের একজন ছাত্র হতে চাইব।

আর আপনাকে পাখির ডানা দেয়া হলো, কোথায় যাবেন?

পেশাগত কারণে অনেক দেশ আমার ভ্রমণ করতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ভুটান। শান্ত ও নিরিবিলি। সেখানে গিয়ে একটা লেখা আমার চোখে পড়ে- আপনি ভুটানে আসুন ভ্রমণে, এখানে এসে প্রজাপতির ডানা মেলার শব্দ শুনতে পাবেন। চমৎকার পরিবেশ, প্রকৃতি। তাছাড়া ভুটানোর প্রবৃদ্ধি টাকা দিয়ে নয় মানসিক প্রশান্তি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। সেখানে দেখলাম, নীরবে জ্ঞান চর্চা করে সাধুরা। তাদের কাছে শুনলাম, তারা জীবনের মানে খুঁজে বেড়ায় ধ্যানের মাধ্যমে, নির্জনে, নীরবে। আমি সেখানেই যেতে চাই।

আমরা ছোটবেলা থেকে পড়ে আসছি, অধ্যাবসায় সাফল্যের চাবিকাঠি। আপনার কাছে সফলতার সংজ্ঞা কী?

পৃথিবীর সকল সফল ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে তারা কিন্তু একটা কথা প্রায়ই বলে, সফলতার একটাই অর্থ হচ্ছে উঠতে চাওয়া, নিজেকে অতিক্রম করার চেষ্টা করা। সমস্যাকে ফেস করে ওভারকাম করা।

আপনি শিশুদের জন্য কি পরামর্শ দিতে চান?

পড়তে হবে, পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সব বিষয়ে পড়তে হবে। শুধু পড় এবং পড়।

এই সময়ে আমাদের সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দিন?

একটা দিন হলো চব্বিশ ঘণ্টা। আট ঘণ্টা, আট ঘণ্টা, আট ঘণ্টা করে ভাগ করে নিতে হবে। আট ঘণ্টা পড়াশুনা, আট ঘণ্টা তার প্রয়োজনীয় কাজ তথা ঘুম-বিশ্রাম। আর বাকি আট ঘণ্টা চর্চিত জ্ঞানের প্রয়োগ।

আপনি আমাদের শিশুদের জন্য দুটি বাক্য বলুন...

বই হউক নিত্য সাথী। আরেকটি কথা আমি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের সাথে মুখ মিলিয়ে বলব- স্বপ্ন তা নয়, যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন তা-ই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...