কবিরা দুঃখের রাজপুত্র: পলিয়ার ওয়াহিদ

সাক্ষাৎকার
কৃত্তিবাস ‘তারাপদ রায় সম্মাননা’ প্রাপ্ত কবি পলিয়ার ওয়াহিদ - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • হাসনাত কাদীর
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৯,  আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৩

পলিয়ার ওয়াহিদ। একজন মাটি ঘেঁষা কবি ও সাংবাদিক। তরুণ এই কবি সম্প্রতি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৮৬তম জন্মদিনে ভারত থেকে কৃত্তিবাস ‘তারাপদ রায় সম্মাননা’ লাভ করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন হাসনাত কাদীর

 

হাসনাত কাদীর: কেমন আছেন আর কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

পলিয়ার ওয়াহিদ: আছি টানাপোড়েনে। ভালো আর মন্দের দ্বন্দ্বে। ব্যস্ত পড়ালেখায়। তালিকা করে কিছু বিদেশি উপন্যাস পড়ছি। আফ্রিকান, উর্দু, ফরাসি, ফার্সি, স্প্যানিস, আরবিসহ দশ ভাষার ত্রিশটি উপন্যাস পড়ার সংকল্প করেছিলাস এ বছর। সেগুলোই পড়ছি।

 

হাসনাত কাদীর: কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ৮৬তম জন্মদিনে সম্প্রতি ভারত থেকে কৃত্তিবাস ‘তারাপদ রায় সম্মাননা’ পেয়েছেন। কবিতার সাথে সম্মান ও পুরস্কার যোগের সুখানুভূতি কীভাবে ব্যক্ত করবেন?

পলিয়ার ওয়াহিদ: সম্মাননা-পুরস্কার আসলে কবিকে দায়বদ্ধ করে। বেশি করে দায়িত্বের জোয়াল চাপিয়ে দেয়। পুরস্কার-সম্মাননা লিখতে অনুপ্রেরণা দেয় ঠিকই কিন্তু লেখার মান তো আর বাড়ে না তাতে। বরং চ্যালেঞ্জ বেড়ে যায়। এই যে ভালো লেখার চ্যালেঞ্জ এটা আমার কাছে আনন্দের। বাকিটা হচ্ছে উল্টো। কবি বা লেখককে পুরস্কার কখনো কখনো ধ্বংসও করে দেয়। পুরস্কার পাওয়া না-পাওয়া নিয়ে আমি আসলে তেমনটা ভাবি না। আসল কাজ হচ্ছে লেখা।

 

হাসনাত কাদীর: আপনার ‘সিদ্ধ ধানের ওম’ কাব্যগ্রন্থে একজন স্বতন্ত্র কবিকে পাওয়া যায়। এই গ্রন্থের কবিতার জন্মকালে আপনার দিনযাপন কেমন ছিল?

পলিয়ার ওয়াহিদ: ‘পৃথিবী পাপের পালকি’ (প্রথম কাব্যগ্রন্থ-২০১৫) প্রকাশিত হওয়ার আগে ভয়ে ছিলাম। কি জানি কি হয়। কি সব ছাইপাস লিখেছি। কিন্তু প্রকাশের পর সাহস পাই। পাঠকের প্রতিক্রিয়া-কানাঘুষো আমাকে এগিয়ে দেয়। সবকিছু মিলে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সিদ্ধ ধানের ওম’-এ নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছি। আমার স্বর্গীয় শৈশব, স্মৃতির বাগান, মা-বাবা-ভাই-বোনসহ বন্ধু স্বজন নিয়ে যে মমতা ছিল। আমি সেটা গ্রামীণ আবহে কাব্যে ধরতে চেয়েছিলাম। বাস্তব জীবনটাকে আমি স্বপ্নে আঁকতে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তার শব্দবুনন, কাব্যরস, প্রতীক ও ছন্দ, উপ্রেক্ষা ও উপমা ব্যবহারে নিজেকে একেবারে আলাদা করতে চেয়েছিলাম। একটা অন্যরকম ঘোরে আমি কীভাবে যে কবিতাগুলো লিখে ফেলেছিলাম তা এখনো ভাবতে গেলে ঘেমে উঠি। আমি অনেক বার ও রকম করে লেখার চেষ্টা করেও আর লিখতে পারিনি। আমি শুধু নিজেকে আলাদা করতে চেষ্টা করেছি। কবিতায় নিজস্ব ভাষা তৈরি করতে চেয়েছি। কতটা পেরেছি আপনারাই বলবেন।

 

হাসনাত কাদীর: আপনার কবিতায় গ্রামের গন্ধে প্রায়ই আপনার দাদিকে পাওয়া যায়। উনার সম্পর্কে জানতে চাই।

পলিয়ার ওয়াহিদ: সুন্দর একটি চরিত্র ধরেছেন! আমার দাদি আমাকে সবচেয়ে ঘৃণা করতেন। ছোটবেলায় আমি কালো বলে কোলেও নিতেন না। বলে রাখা ভালো, দাদিকে খুব ছোট বেলায় একা রেখে দাদা চলে যান। (আমি দাদাকে দেখিনি, দাদিও চলেন গেছেন। আল্লা দুজনকেই স্বর্গবাসী করুন)। মায়ের কাছে এমন গল্প আমি শুনে কষ্ট পেয়েছি। মূলত এই ঘৃণাই আমাকে ভালোবাসা শিখিয়েছে। যাই হোক, দাদি যেসব পুতা-পুতনিকে বেশি ভালোবাসতেন তারা প্রায় সকলেই দাদিকে খুব কষ্ট দিয়েছে বাকি জীবনে। তো, সেখানেই আমি প্রবেশ করি দাদির কাছে। একটু বড় হয়েই আমি ভালো-মন্দ রান্না হলে দাদিকে ছাড়া খেতাম না। তারপর যখন বাড়ি ছাড়ি। নবম শ্রেণিতে থাকতেনই। তখন কেন জানি দাদি আমাকে ভালোবাসতে শুরু করলেন। তারপর শহরে চলে আসি। বাড়ি ফিরলে দাদির প্রিয় খাবার সন্দেশ কিনে নিতাম। তিনি খেতে খেতে কাঁদতেন। আমিও দাদির সাথে কান্না করতাম। দু'জনে গলা জাড়িয়ে শিশুর মতো কেঁদেছি কত দিন। আমি এখনো বাড়ি গেলে দাদির কবরে আগে চলে যাই। জিয়ারত করি। তারপর কাপড় বদলাই। দাদি আমাকে এতো এতো জীবনের গল্প শুনেয়েছেন যে, আমি আসলে দাদির কারণেই বোধহয় কাব্য-কল্পনার শুরু করতে পেরেছি। তাই দাদিকেই আমার কাব্যলক্ষ্মী বলতে কোনো কার্পণ্য করি না। দাদিকে নিয়ে এতো অল্প পরিসরে নয় অন্য আরেক দিন বলব।

 

হাসনাত কাদীর: আপনাকে কবিই কেন হতে হলো?

পলিয়ার ওয়াহিদ: এটা একটি সার্বিক প্রশ্ন। এর বিশেষ আছে। প্রথমত, কে বলেছে আমি কবি? আসলে কিছু পোস্ট-পদবি আছে যা অর্জন করতে হয়। যেমন কেউ অনেক কষ্ট করে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করতে পারে। কিন্তু কষ্ট করে কবিত্ব অর্জন করতে পারবে না। কারণ এটা আপনাদের বা পাঠকের হাতে। এ পদবি আপনারাই দিয়েছেন। কবি তথা শিল্পী হওয়া এক অন্য জীবনের আরাধনা মনে হয় আমার কাছে। কবিতা লিখলেই কি সে কবি? আমি তা মনে করি না। যিনি ছবি আঁকেন তিনিও কবি। পাজামা-পাঞ্জাবী পড়লেই কি আপনি তাকে মাওলানা বলবেন? মাওলানা ডক্টরেট অর্জনের মতো বিষয়। এটা দিয়ে আপনি পরিচয় দিতে পারবেন। কিন্তু আপনি কি নিজে থেকে পরিচয় দিবেন ‘আমি কবি?’ সেটা খুব লজ্জার। তো আমি বলতে চাচ্ছি যেটা আপনি নিজে থেকে অর্জন করেন, সেটা আপনি বলতে পারেন। কিন্তু এটা অন্যরা আপনাকে বলবে ভালোবেসে সেটাও কিন্তু অর্জন, তবে সেখানে আলাদা একটা ব্যাপার থাকেই। যা শিল্পী বা কবির প্রাকৃতিক ও স্বভাবজাত। তাই যাকে-তাকে কবি বলা মানে সত্যিকার কবিকে অসম্মান করা। এটা আমার ধারণা।

আমার মনে হয়- কবি এক অন্যরকম পাখি-মানুষ। আমি তাকে মানুষের খাঁচায় বন্দী করতে চাই না। কবিও হতে পারে খুনি ও আদম ব্যাপারী।

আমি জানি না কেন আমাকে কবিতা লিখতে হলো? তবে যে যাই কিছু হোক ভেতরে কাব্য না থাকলে কেউ এ পথে এগোয় না। সময়ে পরিবর্তন হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে টাকা-পয়সা চাকরি-বাকরি, বউ-ব্রাদার সব হওয়ার পরে ‘এখন তাহলে একটু কবি হই’ টাইপের লোকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই সাবধান থাকা উচিত। কবি নাম করে তারা অপ-ছায়া ফেলছে। মনে করেন আসাদ চৌধুরী-অসীম সাহা-আল মুজাহিদী এরা সকলে কবি হতে এসে কেউ হয়েছেন রাজনৈতিক দলের এজেন্ট, কেউ ওমুক আমার বান্ধবী আর সাদা বাল রেখে কবি কবি ভাব, কেউ হয়েছেন ডামি সম্পাদক। কারণ, তাদের কবিতা চর্চার উদ্দেশ্য একটা সময়ে এসে জাগতিক ফায়দা লুটার মোহে কুপোকাত। জগৎ সংসারে লোকে তাদের কবি বলে ডাকবে এই লোভ তাদের সার্থক হয়েছে কিন্তু তাদের কবিতা কজনে পড়ে? সবাই তারা গায়ে-গতরে, শরীরে-পোশাকে, ভাবে-ভঙ্গিমায় কবি হয়ে উঠলেন। তার মানে এটা নয় যে, কবি ঘাস খেয়ে বাঁচবেন! অবশ্যই তিনি সব সুযোগ-সুবিধা নিবেন। পাবেনও। কিন্তু সেটা যেন ভাঁড়ের কায়দায় না হয়। এটাই শুধু পার্থক্য। কাক ও কোকিল দুটোই পাখি। আলাদা তারা কোথায়? তা আপনি আমি সবাই জানি।

আপনি কেন ভাত খান? এই প্রশ্নের মতো আপনি কেন কবি হতে গেলেন প্রশ্নটি। তবুও বলি আমি কেন লিখি? আসলে প্রত্যেক কবি-শিল্পী তাকে অর্থাৎ নিজেকে লেখেন। অথবা তিনি ভাবেন যে সকলের বলার চেয়ে ভিন্নভাবে বলার অভিজ্ঞতা আছে তার। তাই শেয়ার করতে চান। কিংবা ভাবেন সকালের চেয়ে তিনি আলাদা চিন্তা করতে পারেন তাই সেই চিন্তাকে লিখতে চান। এভাবে কবিও নিশ্চয় আলাদা স্বপ্ন দেখেন যা অন্যরা দেখেন না তাই তিনি তার স্বপ্নের কথা কাব্যে-চিত্রে ধরতে চান। এটাই আসল কথা বলে আমি মনে করি।

 

হাসনাত কাদীর: আপনি কবি এবং একজন সাংবাদিক। কোন ভূমিকায় আপনি কেমন?

পলিয়ার ওয়াহিদ: আমি প্রশ্ন রাখতে চাই- বাংলাদেশে শুধু নয় সারা পৃথিবীতে সাংবাদিকতা বা সাংবাদিকদের এখন গুরুত্ব কতটুকু? একটু ভেবেছেন চোখ বুজে? কাল থেকে কোনো মিডিয়া আর সংবাদ ছাপলো না! তাতে কার কী হবে? বরং আমি মনে করি মিথ্যে জানার চেয়ে না জানাই ভালো। মিডিয়া এখন রাষ্ট্রীয় চামচায় পরিণত হয়েছে। নিজেকে আমি কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিই না। আসলে কার্যত আমার তা কোনো কাজে লাগে না। কারণ এই পরিচয় দিয়ে আমি নিজের কোনো সুবিধা নিতে অপারগ। সাংবাদিক বা সাংবাদিকতা এখনো আছে? এ রকম বিশ্বাস আমি আর করি না। খুব দ্রুত হয়ত এই পেশা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিবো। সত্য যখন বলা যায় না এবং সমালোচনার ভাষা যখন রুদ্ধ তখন চামচামি ছাড়া আপনার বাঁচবার পথ কই? এর চেয়ে বরং মাঠে মিষ্টি কুমড়া ফলানোও আনন্দের। কৃষি প্রধান দেশে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের মূল্য যখন তারা পায় না তখন সে দেশের আর কোথাও কিছু ভালো আছে বলে আমি মনে করি না। নিজেকে তাই সাংবাদিক ভাবতে আমার ঘৃণা হয়। আমি কবিও না। আমি কবি এ দাবি বিধাতা আমাকে দিয়ে যেন কখনো না করান। কবিতা লেখার চেষ্টা করি। এটুকুই। আমার পরিচয় আমি একটি দু’পায়ে প্রাণী। স্রেফ, এর বেশি কিছু না। মানুষ পরিচয় দিতেও এখন আমার বাধে। এমন একটা জায়গায় আমরা পৌঁছে গেছি! সেখানে কবি তো বিলাসিতা।

 

হাসনাত কাদীর: আপনার চোখে ‘জীবন’ কী এবং ‘কবি জীবনের মর্ম’ কী?

পলিয়ার ওয়াহিদ: জীবন? কখনো কখনো আমি ভাববাদে প্রভাবিত হই। তখন জীবনকে বায়ু-বাতাস-হাওয়া ছাড়া কিছু মনে হয় না। তখন ভোগের কথা ভাবতে পারি না। জগৎ তখন শুধু মোহ-মায়া মনে হয়। আবার চারবাক দর্শন পড়ে মনে হয় ওটাই তো ভালো ‘ঋণ করে হলেও ঘি খাও’। মানে ‘খাও দাও ফুর্তি করো, দুনিয়াটা মস্ত বড়।’ তবে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান মানুষের দৃষ্টি খুলে দেয়। পৃথিবীর নতুন ধারণা সে পায় জগৎ-সংসার থেকেই। ধীরে ধীরে নিজের একটা মত ও পথ রচিত হয়। প্রত্যেক শিল্পী তারই অনুধ্যানে মগ্ন থাকে চিরকাল। নিজের একটা আলাদা পথ সে খোঁজে। পেলে তার অপর আনন্দ। না পেলে আজীবন পাওয়ার সাধনায় মত্ত। তো জীবনকে আমার কাছে মনে হয় একটা মহাদান। একে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য কিছু জ্ঞান-বুদ্ধি আহরণ করলে মোটামুটি আনন্দে দম নেয়া যায় কদিন।

কিন্তু আপনি কি জানেন, জীবন আসলে কারো ধার ধারে না। আপনি তাকে যেভাবে চালাবেন সে হয়তো সে পথে নাও চলতে পারে। জীবন তো নিয়তি ছাড়া আর কিছু না। এখন তাই মনে হয়। সৎ মানুষের কত কষ্ট। অসৎ মানুষের ক্ষমতা কায়েম তাই তো বলে! কিন্তু এটা সাময়িক যে। প্রকৃত সত্য তাই যা জীবন চিনতে সাহায্য করে। জীবন আমার কাছে পাঠশালা। সে শিক্ষা দেয়। মানুষ জীবন নিয়ে ভেবে কূলকিনারা পাবে না। জীবন আমার কাছে আনন্দের। হুমায়ূন আহমেদের একটি কথা আছে, সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল। জীবন তাই এক কথায় আমার কাছে যুদ্ধের। যে যত বেশি যুদ্ধ করবে সে তত বেশি সফল।

আর ‘কবি জীবনের মর্ম’ আলাদা করে কি বলব। এটা আসলে সেধে সেধে কষ্ট ধার করা! আলো থেকে অন্ধকারে প্রবেশ করা। জানেন তো আলো হলো মেকি। এটা আমরা বানাই। অন্ধকারই কিন্তু মৌলিক। তাই কবি বা শিল্পীর কাজ হলো বা তাদের জীবনের মর্ম হলো তারা এক জীবনে অনেক জীবন কল্পনা করতে ও কখনো কখনো সেখানে বাস করার ক্ষমতা অর্জন করে। এর চেয়ে আর কি মর্ম থাকতে পারে জীবনে?

 

হাসনাত কাদীর: যদি একদিন কবিতা আপনাকে ছেড়ে যায়?

পলিয়ার ওয়াহিদ: আফসোস নেই। একটা সময় ভাবতাম আমি কবিতা ছাড়া বাঁচবো না! কিন্তু স্রষ্টা দিব্যদৃষ্টি দিলেন আমাকে। জ্ঞানের আলোয় এই অজ্ঞতা আমার দূর হয়েছে। শিল্পীর প্রেম বলে কিছু নেই। সে এই কাউকে পাওয়ার জন্য মরিয়া তো এই তাকে ছেড়ে যেতে তার মোটেও বাধে না। এটাই শিল্পীর আসল রূপ। এটাই তার খেয়াল। একটা গল্প বলি, মুছা নবী আল্লাহকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি তো সবাইকে ভালোবেসে সৃষ্টি করেছ। তাহলে আবার তাদের নরকের আগুনে ফেলে কষ্ট দেবে কেন? আল্লাহ বলেন, এই নাও গমের দানা। এগুলো চাষবাষ করে আবার আমারগুলো আমাকে ফেরত দিও। তো মুছা নবী চাষবাষ করে সেই গমগুলো দিয়েছিল সেগুলো ফেরত দিতে আসলেন। তখন আল্লা মুছাকে বললেন, তা গমের সাথে কিছু চিটে তো হয়েছিল সেগুলো কি করলে? মুছার সাথে সাথে উত্তর- আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছি! আল্লাও বললেন, মুছা আমি আকামা চিটে-বান্দাগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিবো! মুছা তো উত্তর পেয়ে গেলেন নিজের মধ্যে। তো এই গল্প এ জন্য দিলাম যে যিনি ভালোবেসে সৃষ্টি করতে জানেন তিনিই কিন্তু তা আবার ধ্বংস করতে পারেন। এ কারণে তিনি স্রষ্টা। তিনিই শিল্পী। যিনি ভাঙা-গড়ার খেলায় মত্ত। জীবন ও শিল্প একটা খেলা। খেয়ালী খেলা। তার কোনো যুক্তি নেই। মাথা দিয়ে ভাবলেও শিল্পী মন দিয়ে বিচার করেন। তা না হলে তিনি বিজ্ঞানী হতেন। তার মানে বলতে চাইছি, শিল্পী বা স্রষ্টা ভালোবাসেন। কিন্তু তার ভালোবাসার দাসত্ব করেন না। বিশেষ নয় মোটেও। সার্বিক বলেই তিনি সবর্ত্র বিচরণের সুযোগ পান। আমি এখন সবকিছু ছাড়াও দিব্যি বাঁচতে পারি। শুধু শিশুর অকারণ হাসি, মানুষের বিচিত্র মুখ, পাখির গান আর শুধু প্রেমিকাদের কাছে শুয়ে শুয়েও এই ভাঁড়ার জীবন কাটিয়ে দিতে পারি নিমিষে। আমার অনেক কিছুতে যেমন অকারণেই মায়া জন্মে, ঠিক অকারণে আমি তাকে ছেড়েও যেতে পারি। বন্ধনহীন মুক্ত পাখির মতো। এর চেয়ে শান্তি আর স্বাধীনতা কাকে বলে? কবিতা যদি ছেড়ে যেতেই চায়, যাকগে। জোর করে কবিতা কেন কাউকেই আমি ধরে রাখতে চাইনে। যে যেখানে খুশি যে সেখানেই থাক। কবিরা মূলত দুঃখের রাজপুত্র।

 

হাসনাত কাদীর: সময় দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার কবিতা মানুষের কথা বলুক।

পলিয়ার ওয়াহিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। সময় তো আসলে আমার নয়। সময় সকলের। আপনার সময় আমার কাছে বাধা ছিল সেটাকেই ছেড়ে দিলাম। বলতে পারেন ঋণ মেটালাম। আপনার প্রতি ভালোবাসা রইল। আমার আনন্দে আপনি আনন্দিত হয়েছেন এর চেয়ে প্রাপ্তি আর কি হতে পারে জীবনে? আমার কবিতা আপনার মুখেই আছে মানে ঠিক মানুষের মুখেই আছে বলে মুখরিত হচ্ছি। কল্লোলিত হোক আপনার জীবন সেই কামনা করি।


কবি পরিচিতি:
পলিয়ার ওয়াহিদ। কবি। জন্ম ২৬ ফাল্গুন। শিল্প-সাহিত্যের আকর ভূমি যশোরে। কাগুজে জন্ম ২০ মে ১৯৮৬ সালে। লেখাপড়া করেছেন মনোবিজ্ঞানে, সিলেট ও ঢাকায়। কামলা দেন প্রকাশিতব্য একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ বিভাগে। বিবাহিত জীবনে ঢাকায় বসবাস করছেন।

এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
পৃথিবী পাপের পালকি [কবিতা; ম প্রকাশন, ২০১৫]
সিন্ধ ধানের ওম [কবিতা; দোয়েল প্রকাশনী, ২০১৬]
হাওয়া আবৃত্তি [কবিতা; (এক ফর্মা) ষোলপৃষ্ঠা প্রকাশ, ২০১৬]
মানুষ হবো আগে [কিশোর-কবিতা; দোয়েল প্রকাশনী, ২০১৭]
সময়গুলো ঘুমন্ত সিংহের [কবিতা; অগ্রদূত এন্ড কোম্পানি, ২০১৮]

যোগাযোগ-
মোবাইল : ০১৭১০-৪৪২০৪৪
ই-মেইল : [email protected]

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাক্ষাৎকারটি ফেসবুক ইনবক্সে নেওয়া। সকল প্রশ্নের উত্তর কবির লিখিতভাবে দেয়া।)

মানবকণ্ঠ/এইচকে 





ads







Loading...