বর্ষার ব্যাঙ : ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ

মাহফুজ ফারুক


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ জুলাই ২০১৯, ১৯:১৯

‘ও সোনা ব্যাঙ ও কোলা ব্যাঙ/সারা রাত হেড়ে গলায় ডাকিস ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ’ -এই ছড়া গানটি কানে বাজলেই মনে হয় আশপাশেই কোথাও বুঝি সোনা ব্যাঙ আর কোলা ব্যাঙ লুকিয়ে আছে। আমাদের দেশে যেহেতু অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষাকালেই বেশি সংখ্যক ব্যাঙ চোখে পড়ে সেহেতু ব্যাঙের গান, ছড়া কিংবা গল্প সামনে এলেই মনের ভেতর বর্ষাকাল বর্ষাকাল ভাব চলে আসে।

ব্যাঙকে আমরা জানি উভচর প্রাণী হিসেবে। উভচর হলেও কিছু প্রজাতির ব্যাঙ শুকনো জায়গায় আর কিছু ব্যাঙ জলে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কুনো ব্যাঙ আর সোনা ব্যাঙ ছাড়াও রয়েছে ব্যাঙের আরো অনেক প্রজাতি। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ৪ হাজার ৮শ’ প্রজাতির ব্যাঙের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে দেখা মেলে এমন ব্যাঙের মধ্যে রয়েছে: কুনো ব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ/কোলা ব্যাঙ, যাই যাই ব্যাঙ, ধেড়ে ব্যাঙ, সবুজ ধানী ব্যাঙ, কটকটি ব্যাঙ, বামন ব্যাঙ, দুই দাগ বিশিষ্ট সবুজ ব্যাঙ, কালো ফোটা ব্যাঙ, সকির ডাকা ব্যাঙ ও সবুজ ব্যাঙ প্রভৃতি।

বর্ষাকালে মাঠ-ঘাট যখন জল থই থই করে। তখন আমাদের কানে ভেসে আসে ব্যাঙের সেই চির পরিচিত সুরÑ ‘ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ’ ডাক। বর্ষাকালকে বলা হয় ব্যাঙের প্রজনন ঋতু। তাই তারা এই ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ সুরে ডাক ছাড়ে। এ সময় তারা ডিম ছাড়তে শুরু করে। বেশি ডিম ছাড়ে বৃষ্টির শুরুর দিকে। এ ডিম থেকে প্রথমে তৈরি হয় ব্যাঙাচি। এরপর এই ব্যাঙাচি বড় হয়ে ব্যাঙ হিসেবে পূর্ণতা লাভ করে। সাধারণত পোকা-মাকড় খেয়ে এরা জীবন ধারণ করে। ব্যাঙ যে শুধু জলে আর স্থলে বাস করে তা নয়; কোনো কোনো ব্যাঙ গাছেও বাস করে। তবে এ ধরনের ব্যাঙ আমাদের দেশে খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। তবে মাটিতে গর্ত করে বসবাস করে এমন ব্যাঙ এখনো চোখে পড়ার মতো।

মজার ব্যাপার হলো ব্যাঙ শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য ব্যবহার করে তাদের গায়ের চামড়া। এই চামড়াকে কাজে লাগিয়ে তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজকে সচল রাখে। বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক অনেক খবর আগে থেকে টের পেয়ে এরা আবাসস্থল পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলে। আর কুনো ব্যাঙ দিতে পারে ভ‚মিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা। এক গবেষণায় জানা গেছে ভ‚মিকম্পের একসপ্তাহ আগে কুনো ব্যাঙ তার বর্তমান আবাসস্থল থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাড়ি জমায়।
ব্যাঙ নিরীহ প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হলেও এর প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। আমাদের দেশে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহƒত না হলেও চীন, থাইল্যান্ড, মায়ানমারসহ আরো অনেক দেশে ব্যাঙ প্রথম শ্রেণির খাদ্য তালিকায় স্থান করে আছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...