নিউইয়র্কে সাংবাদিক জুয়েল সাদতকে নিয়ে সুহৃদ সমাবেশ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৩ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৫

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ প্লাজাতে গত শনিবার ১০ জুলাই সাংবাদিক জুয়েল সাদাতকে নিয়ে বসেছিল সুহৃদ সম্মেলন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের সিলেট অঞ্চলের লেখক সাংবাদিক ও নানা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আয়োজনে ছিল নিউইয়র্কের লেখক সাংবাদিক ও সমাজসংগঠকবৃন্দ।

উত্তর আমেরিকার সাংবাদিক ও টিভি এ্যাংকর জুয়েল সাদতকে সম্মান জানাতে সন্ধ্যা ৭টায় সবাই বাংলাদেশ প্লাজাতে জড়ো হন। আড়াই ঘন্টা ব্যাপী সেই সুহৃদ সম্মেলনটি একটি মিলন মেলাতে রুপ লাভ করে।

প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকনের সঞ্চালনায় সিলেটের প্রথম পৌরসভার চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা বাবরুল হোসেন বাবুল বলেন, দেশে বিদেশে সিলেটের লোকজনদের অবদান রয়েছে। নানা বৈষম্যের স্বীকার সিলেট অঞ্চল আজও অবহেলিত। ভাল সাংবাদিকরা রাজনীতিবিদের শূন্যতা পুরণ করেন। জুয়েল তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে আজ একটি আইডি কার্ড আছে। সেটার জন্য আমাদের চল্লিশ বছর অপেক্ষা করতে হলো। বিদেশে সাহিত্য সাংবাদিকতায় সিলেটের প্রতিনিধিত্ব আমাদের আশা জাগায়, কমিউনিটিতে ও মিডিয়াতে জুয়েলের অবদান অনুকরনীয়। তিনি সাদা কে সাদাই বলেন যা এই সময়ে বিরল।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ প্লাজাতে সন্ধ্যা ৭টায় সাংবাদিক জুয়েল সাদাতকে ঘিরে সুহৃদ সম্মেলনের মুক্ত আলেচনায় বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা লুতফুর রহমান চৌধুরী হেলাল বলেন, তিনি সাংবাদিকতায় সিলেটের পূর্বসূরীদের অনুসরণ করছেন। এত কম বয়সে, এত ডায়নামিক কাজ সাধুবাধ পাবার যোগ্যতা রাখে।

সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখিকা শামসাদ হুসাম চৌধুরী বলেন, জুয়েল সাদতকে চিনি আড়াই দশক। তিনি অনেক ভাল মানের একজন লেখক ও সাংবাদিক। লেখালেখিটাকে ধরে রেখেছেন সমান তালে, যা প্রবাসে অসম্ভব। উনার দেশপ্রেম ও কমিটমেন্ট অনুকরনীয়।

অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় জালালাবাদ অ্যাসোসিযেশনের সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী হেলাল বলেন, করোনা কালীন সংকটময় মুহূর্তে যে নতুন ধারার সাংবাদিকতা আমরা দেখেছি সেখানে জুয়েল সাদতের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিউইয়র্কের সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা সাংবাদিকরা কমিটমেন্ট থেকে কাজ করি সমাজের জন্য। জুয়েল সাদত সেই রকম একজন সংবাদকর্মী। যিনি ফ্লোরিডা থেকে সারা আমেরিকায় ভূমিকা রাখছেন।

সিলেট সদর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক খান (লায়েক) বলেন, করোনা কালীন কঠিন সময়টার পর প্রথম জুযেল সাদতকে সামনে রেখে এই সুন্দর আয়োজনটা একটি মাইল ফলক। আমরা অনেকটা বিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। জুয়েল কর্মের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল বলেন, জুয়েল সাদতকে চিনতাম না। উনার "জীবনের গল্প" নামক টিভি শো-টা আমি দেখে আভিভুত। কতটুকু সচেতন সাংবাদিক হলে একজন মানুষের ভেতরেরটা তুলে ধরতে পারেন। তিনি একজন সত্যবাদী সাংবাদিক,যা ধারন করেন তাই বলেন।

রোটারী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সিকদার আহমেদ সাকের বলেন, নিউ জার্সি থেকে আসলাম জুয়েল সাদতকে সম্মান জানাতে। বহুমাত্রিক জুয়েল সাদতের কর্মের পরিধি ব্যাপক। আমেরিকার কঠিন জীবন জুয়েলকে আটকে রাখতে পারেনি।

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যাপক লেখক সাব্রে সাবেরীন বলেন, জুয়েল সাদতের অনেক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ছিলাম। চেনা ও জানারও আড়াই দশক। জুয়েল সরকারি চাকুরি করে এসেছেন। সব জায়গাতে তার সফলতা ছিল, আছে আজও।

সিলেট সদর অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার আব্দুল হাফিজ আব্দার বলেন, জুয়েল সাদতের জন্মের দিন থেকে পরিচিত। তার সবটুকুই আমার জানা। সে খুব সাহসি একজন সাংবাদিক। সত্য কে সত্যই বলে সব সময়।

অধ্যাপক আমিনুল হক চুন্নু বলেন, সিলেটে ৯০ দশকে যে কজন সাংবাদিক ও সংগঠক চোখে পড়ার মতো ছিল, তাদের মধ্যে জুয়েল সাদাত উল্লেখ যোগ্য। সাংবাদিক ও নারী নেত্রী আম্বীয়া অন্তরা বলেন, প্রথম দেখলাম জুয়েল সাদতকে, উনার সফলতায়পুর্ন কর্মের সাথে পরিচিত অনেক দিনের।

বাংলাদেশ আমেরিকান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক মঞ্জু বলেন, তিনি প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার আমাদেরই পরিবারের উল্লেখযোগ্য একজন ফ্রন্ট লাইনার।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুয়েল সাদাত বলেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের খেলাকে উপেক্ষা করে, যারা দূর দূরান্ত থেকে এই সুহৃদ সমাবেশে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জীবনে চেষ্টা করেছি ভাল কিছু করার, কতটুকু করেছি জানি না তবে আমি আভিভুত। মানুষের ভালবাসা পাওয়াটাও সৌভাগ্যের, সেটা আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়। যে মাধ্যমে কাজ করি, ভালটাই করি। অনলাইন টিভিতে যে সাংবাদিকতা করি সেটাতেও প্রফেশনালিজম দেয়ার চেষ্টা করি।


poisha bazar

ads
ads