কনসুলেটের জন্য হার্ডলাইনে যাচ্ছেন মিশিগানবাসী


poisha bazar

  • ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৬,  আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২১, ২২:২০

জুয়েল সাদাত, মিশিগান থেকে ফিরে: আমেরিকার মধ্যে নিউইয়র্কের পর বড় বাংলাদেশি অধ্যুষিত রাজ্য মিশিগান। মোটরসিটি খ্যাত মিশিগান সব সময়ই বাংলাদেশিদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল, আছে আজও। নিউইয়র্কের পর যে নামটি বাংলাদেশিদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় তা হল মিশিগান ডেট্রয়েট। আমেরিকা বলতে নিউইয়র্ক এর জ্যাকসন হাইটস, ব্রনস, জ্যামাইকা, কুইনস, নিউজার্সির পেটারসন, মিশিগানের ডেট্রয়েট ই বুঝায় অনেকের কাছে।

আমি বছরে দুই বার যাই মিশিগান ২০১৩ সাল থেকে, বাংলাদেশি ও সিলেটিদের সাথে দেখা করার জন্য। ফ্লোরিডায় দেশি মানুষ কম সেই তুলনায় মিশিগানে বেশি। মিশিগানের বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২৫ হাজার থেকে পৌনে এক লাখে চলে গেছে।

মিশিগানের হ্যামট্রামিকের কাউন্সিলম্যন মোহাম্মদ হাসান কে জিজ্ঞাস করেছিলাম, বাংলাদেশির সংখ্যা কত? তিনি জানালেন ৭০ হাজারের কম-বেশি।

গত ২০২০ এর করোনাকালিন সময়ের কারণে সেখানে আরও দশ হাজারের আগমন ঘটেছে নিউইয়র্ক, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। অনেকেই চলে এসেছেন সহজ জীবনযাত্রার শহর ডেট্রয়েটে। নিউইয়র্কে ত্রিশ বছর থাকার পর কোভিড পরবর্তি সময়ে অনেকেই আজ মিশিগানে।

মিশিগানের জনসংখ্যা ৯৯ লাখ, মিশিগানের বাংলাদেশিরা যেখানে থাকেন হ্যামট্রামিক সিটির জনসংখ্যা ২১ হাজার যার পুরোটাই বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে ডেট্রয়েট এর জনসংখ্যা ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ডেট্রয়েট - হ্যামট্রামিক রাস্তার এপাশ ওপাশ। ওয়ারেনের জনসংখ্যা ৪৫ ৭২২ জন্, যার অর্ধেক বাংলাদেশি।

কমিউনিটি কেন্দ্রিক বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহরটিতে সারা কমিউনিটিতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কোন যুক্তিতে ফ্লোরিডা কনসুলেট পাচ্ছে কেউ হিসাব মেলাতে পারছেন না। আমি ফ্লোরিডা থাকি আর কনসুলেট ফ্লোরিডা, প্রথমে আমাকে অভিযোগ দিলেও আমি যখন বলি মায়ামীতে কনসুলেট হবে, সেটা আমার সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার দূরত্বে। তখন তারা বুঝতে পারেন। কমিউনিটি নেতা জোবারুল ইসলাম চৌ খোকন, কাউন্সিলম্যান মোহাম্মদ হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা মোশারফ হোসেন লিটু, বিজনেস এসোসিয়েশনের সুফিয়ান কোরেশী, সিলেট সদর সমিতির মোরশেদ আহমদ, স্টেট আওযামী লীগের সভাপতি চান মিয়া, কমিনিটি একটিভিষ্ট ও সংবাদকর্মী বিয়ানিবাজার এর সুলতান জে শরিফ, কনাইঘাট এসোসিয়েশনের জাকারিয়া রহমান, গোয়াইনঘাট এসেসিয়েশন এর হেলাল আহমদ, আই টি স্পেশালিষ্ট কুলাউড়া এসোসিয়েশনের মোহাম্মদ হাসান সহ সকলেই মর্মাহত মিশিগানের মত একটি জনবহুল বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও কনসুলেট ফ্লোরিডা চলে যাওয়াতে।

জোবারুল ইসলাম খোকন জানান, মিশিগানে বেশির ভাগ ইসিগ্রান্ট নতুন আসেন, তাদের সিংহভাগ বাংলাদেশি পাসপোর্ট -তাই কনসুলেটের সবচেয়ে বেশি কাজ এই শহরে হয়ে থাকে, তারপরও কেন মিশিগানকে পাশ কাটানো হল। মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্যেই সিংহ ভাগ বাংলাদেশি বসবাস করেন, তাই কনসুলেটের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন ৪০/৫০ হাজার প্রবাসীই।

মিশিগানে কনসুলেট হলে বাফেলোবাসী সুবিধা পাবেন বলে জানান, জলসা রেস্টুরেন্টের এক্সিকিউটিভ শেফ ফজলুল আমিন।

অ্যামাজনে কর্মরত মোনা জানান, মিশিগানে কনসুলেট হলে আমাদের সুবিধার শেষ নাই। মহিলারা অনেক ভোগান্তি থেকে বেঁচে যেতেন।

দীর্ঘদিন থেকেই নানা ভাবে মিশিগান প্রবাসীরা কনসুলেটের স্থায়ী অফিসের দাবি জানিয়ে আসছেন। মিশিগান এক্সপ্রেস নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ১৪ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল আলাউদ্দিন রেষ্টুরেষ্টে। ঠান্ডা উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল। উদ্যোক্তা ছিলেন নাজেল হুদা নামের একজন কমিউনিটি একটিভিষ্ট ও তার কয়েকজন সহযোগী। সেই স্বাক্ষর ঠিক জায়গায় পৌঁেছালো কিনা সেটা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। কনসুলেট সার্ভিস চালু, অতি স্পর্শকাতর এই জন্য দাবিটা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় পঞ্চাশটি নানা নামের সংগঠন থাকলেও যে কোন কারণে ইউনিটি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না মিশিগানে। যে শহরে বাংলাদেশ এভিনিও নামে একটি সড়ক রয়েছে, সেখানে স্থায়ী কনসুলেট কেন হবে না, এই হিসাব অনেক সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন।

অতি সম্প্রতি একজন হিন্দু ভদ্রলোক একটি মূলধারার লাইব্রেরীতে বাংলাদেশ লাইব্রেরী প্রতিষ্টা করেছেন মিশিগানে। সেই মিশিগানে বর্ণমালার একটি বিশালাকার সাইনবোর্ড রয়েছে। সেই কনাট ষ্ট্রিট ( বাংলাদেশ এভিনিউ) এর কর্ণারে জাতির জনকের দুটি স্থাপনা রয়েছে, সেখানে প্রবাসীদের নানা সহযোগিতার জন্য কনসুলেট কেন থাকবে না।

কাউন্সিলম্যন হাসান একমত হন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিমান মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী সিলেটের হওয়ারর পরও প্রবাসীদের ভোগান্তি কমছে না। এই কম্বিনেশন জীবনেও আর সিলেটবাসী পাবে না।

হ্যামট্রামিক, ওয়ারেন তথা মিশিগানের ৭০ হাজার প্রবাসীর মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি সিলেট বিভাগের প্রবাসী। সেই হিসাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকায় বসবাস করে গেছেন দীর্ঘদিন, সেখানে দাবি কেন তুলা হবে, মোমেন সাহেব স্ব উদ্যেগেই কনসুলেটের অফিস স্থাপন করে দিতে পারেন। এই কনসুলেটের প্রয়োজনীয়তা শিকাগোর অনারারি কনসাল জেনারেল মনির চৌধুরী জানেন। মিশিগান প্রবাসীদের একটি প্রতিনিধি দল সামারে বাংলাদেশে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রেসার দেওয়ার দাবি উঠেছে। ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনসুলেট সার্ভিস অফিস পুরো ফ্লোরিডার নাগরিকদের সুবিধা দিতে পারবে না ভৌগলিক কারণে। তবে মিশিগানে মাত্র ১৫ মাইলের মধ্য প্রবাসীরা এই সুবিধাটা পাবেন।

বিশিষ্ট কমিউনিটি একটিভিষ্ট নাজেল হুদা জানান, রমজানের পর কনসুলেট দাবির জন্য লাগাতর কর্মসূচি নেয়া হবে। মিশিগানে কনসুলেট হলে বাফেলো, ওহাইও ও শিকাগোর প্রবাসীরা উপকৃত হবেন। প্রায় এক লাখ প্রবাসী সরাসরি বেনিফিটেড হবেন।

তিনি আরো জানান আমরা সোশ্যাল ওয়ার্ক করি, দলাদলি কোন্দল বুঝি না। কনসুলেটের দাবিটা যৌক্তিক। আমরা মিশিগান এক্সপ্রেস ও নেষ্ট এর মাধ্যমে কমিউনিটিতে ১৩ হাজার ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা কাজে বিশ্বাসী, ইনশাল্লাহ কনসুলেটের দাবি পুরন হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads