জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বিজ্ঞান মেলায় বিজয়ী যারা


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:২০

করোনকালীন বিশ্ব এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। সারা বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ। শিক্ষার্থীগণ যখন এক অসহনীয় যন্ত্রণায় আবর্তিত ঠিক তখনই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে থেকে বিজ্ঞান প্রতিভা তুলে আনতে ও তাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চেতনা গড়ে তুলতে একটি ভার্চুয়াল বিজ্ঞানমেলার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন শাখায় মোট ৬১ টি প্রকল্প পাওয়া যায়। যাচাই বাছাই করে এর মধ্যে থেকে তিনটি শাখায় ৯জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

তিনটি শাখায় গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার আহবান জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। প্রথমে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। নভেম্বর মাসে যাচাই বাছাই শেষে তিনটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন শাখার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষকগণ এ বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের প্রজেক্টগুলো বিচারের দায়িত্ব পালন করেন।

ক- শাখায় বিজয়ী:

ক-শাখায় জমাকৃত প্রজেক্টের মধ্যে প্রথম হয়, এ এম মাহদী মাহিন এর প্রজেক্ট, বায়োমেট্রিক তালা। দ্বিতীয়-জুনাইরাহ আফসিন আলভীর পলুশন অ্যাবজর্বার, তৃতীয় হয় মিফতাহুল জান্নাতের ক্ষুদে মোটর। ক-শাখায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।

খ-শাখায় বিজয়ী:

প্রথম স্থান অধিকার করে, তাসনিমা জামানের ঢাকার জীবনযাপনের মান উন্নয়ন প্রকল্প। দ্বিতীয় হয় জেরিন তাসনিমের এলপিজি এলার্মিং সিগনাল প্রকল্প। তৃতীয় হয়-নাহিয়ান আলমের স্মার্ট সিটি প্রকল্প। খ-শাখার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

গ-শাখায়:

প্রথম স্থান অধিকার করে-রকিন হাসান প্রত্যয়ের বণ্যা দুর্গত মানুষের পানি সমস্যা সমাধান প্রকল্প। দ্বিতীয় হয়, শাবাব তাসরিফ জামানের কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ চালিত এগ্রোরোবট ও তৃতীয় হয় সুমাইয়া আক্তার ও সোহাগ সরকারের প্রকল্প-খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষির ভূমিকা। গ-শাখায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহ-ধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমান।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার জানান, করোনাসহ সকল মহামারী থেকে বাঁচার সমাধান দিতে পারে একমাত্র বিজ্ঞান। এ প্রেক্ষাপটে শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে এই বিজ্ঞানমেলা আয়োজন করা হয়। আমরা বিশ্বাস করি আজকের বিজ্ঞানীরাই হবে আগামীর আইজাক নিউটন, আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বা আল রাযি।

তিনি বলেন, প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের প্রজেক্টগুলো ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। প্রজেক্টগুলোতে তাদের সর্বোচ্চ মেধা ও পরিশ্রমের স্বাক্ষর আছে। এই বয়সে তারা যা করেছে তা দেখে সকলে অভিভুত। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় দেশের হয়ে তারা দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। আর এ অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকবে বিএনপি ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

ডা. ডোনার আরও বলেন, সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা আজ করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত। ভবিষ্যতে যে এর চেয়েও ভয়াবহ মহামারী আসবে না তার নিশ্চয়তা নেই। তাই জাতি হিসেবে আমাদের হতে হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি সর্বোচ্চ অনুরাগী। এ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী প্রভিতাবান শিশু-কিশোর ও তরুণরা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারলে ভবিষ্যতে যেকোনো বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধানে তাঁরাই বিশ্বকে সঠিক পথ দেখাতে পারবে। এই বিজ্ঞানমেলার সব কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি পরিচালিত হয় বলেও তিনি জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে এতই আগ্রহী ছিলেন যে, ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অংশ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, বিএনপি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৩ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা বিভাগকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নামে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে পরিণত করেন।

তিনি বলেন, আমি স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান সিটি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গড়ে তুলেছিলাম ‘অন্বেষা বিজ্ঞান চক্র’ একটি বিজ্ঞান ক্লাব। ওই ক্লাবের মাধ্যমে আমরা একাধিকবার বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়েছিলাম। ডিজিটাল যুগে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নিয়মিত বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের বিকল্প নেই।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads