ইতালিতে এক বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৫ মার্চ ২০২০, ১১:২৭

ইতালিতে বাংলাদেশি এক নাগরিক নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গতকাল বুধবার ইনস্টিটিউটের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এ নিয়ে তিন দেশে মোট ছয়জন বাংলাদেশির এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেল, যাদের মধ্যে দুইজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, এটা আমাদের জন্য একটি দুঃসংবাদ যে, ইতালিতে একজন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি অসুস্থ, কিন্তু মাইল্ড অসুস্থ। তিনি বাসাতেই আছেন, বাসায় রেখেই তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। দুই মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা নভেল করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে; আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৯৩ হাজারে। এর আগে সিঙ্গাপুরে পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেয়া দুজন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন বলে গত শনিবার আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়।

চীনে থাকা বাংলাদেশি বা বাংলাদেশে কারো মধ্যে এ পর্যন্ত নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআরের পরিচালক জানান, নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে ইরান, ইতালি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা সুবিধা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে কেউ আসতে চাইলে তাদের আগেই নিয়মমাফিক ভিসার আবেদন করতে হবে। আমাদের দূতাবাস থেকে তাদের ভিসা নিয়ে আসতে হবে। ভিসা নেয়ার সময় তাদের যে করোনা ভাইরাস নেই বা কোয়ারেন্টিন পার করেছেন- এমন সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। চলাফেরায় ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে চীনের ভেতরে ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনা গেলেও চীনের বাইরে সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুত গতিতে।

ইতোমধ্যে ৭৩ দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, প্রতিদিনই উদ্বেগ আস্তে আস্তে বাড়ছে। ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও জাপানকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তিনি বলেন, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস বাইরে বেরিয়ে গেলে দুই থেকে সাত ঘণ্টা বেঁচে থাকে। সেদিক থেকে সীমান্ত দিয়ে আসা পণ্যের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই।

তবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এমন কোনো দেশে আপাতত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া না যেতে এবং সেসব দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে না আসার আহŸান জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে কোনো তথ্য সরকার গোপন করছে না। রোগী বা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হলে সাথে সাথে জানানো হবে।
কুয়েতে যেতে সনদ লাগবে বাংলাদেশিদের: এদিকে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টায় বাংলাদেশসহ দশ দেশের নাগরিকদের কুয়েত প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই দশ দেশের নাগরিকরা কুয়েত দূতাবাসের দেয়া সনদ দেখাতে পারলে তবেই তাদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। সেই সনদে লেখা থাকবে ওই যাত্রী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত। এই সিদ্ধান্ত আগামী ৮ মার্চ থেকে কার্যকর হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে গাল্ফ নিউজ।
বাংলাদেশ ছাড়াও ফিলিপিন্স, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিসর, সিরিয়া, আজারবাইজান, তুরস্ক, জর্জিয়া ও লেবাননের নাগরিকদের ওপর এই কড়াকড়ি কার্যকর হবে। মধ্যপ্রাচের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পর কুয়েতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। উহানে গিয়ে আক্রান্তদের পাশে থাকতে চান বাংলাদেশি চিকিৎসক: অন্যদিকে নভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহরে গিয়ে আক্রান্তদের সেবা করতে চান বাংলাদেশি চিকিৎসক সাইয়েদা জেরিন ইমাম। সম্প্রতি ঢাকায় চীন দূতাবাসে গিয়ে তিনি লিখিতভাবে এই আগ্রহের কথা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। চীনা দূতাবাস মঙ্গলবার তাদের ফেসবুক পেজে জেরিন এবং তার চিঠির ছবি প্রকাশ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

জেরিন এখন চীনের জিনান প্রদেশের শ্যানডং বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএচইডি করছেন। তবে আপাতত তিনি বাংলাদেশেই আছেন।

ঢাকায় চীন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, সৈয়দা জেরিন ইমাম উহান যাওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে দূতাবাসে চিঠি নিয়ে এসেছিলেন। তবে এখন তিনি যেতে পারবেন কি-না সে বিষয়টি এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। চ‚ড়ান্ত হলে আমরা তা জানিয়ে দেব। জেরিন তার চিঠিতে স্মরণ করেছেন সেই সব দিনের কথা, যখন চীনে যাওয়ার পর সেখানকার ভাষা আর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে তার রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছিল। চীনের শিক্ষক, সহকর্মী ও সহপাঠীরা কীভাবে তাকে সেখানে থিতু হতে সহায়তা করেছিলেন, সেই বর্ণনাও জেরিন দিয়েছেন আবেগমাখা ভাষায়।

চীনা বন্ধুদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি শুধু এটাই বলতে চাই, কোনো কারণেই তোমরা একা নও। আমিও রয়েছি তোমাদের পাশে। আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ, হয়ত খুব শক্তিশালীও নই। কিন্তু আমার সাহস আছে, আর আছে হƒদয়। তোমাদের বাঁচানোর জন্য এর সবকিছুই আমি দিতে পারি। চীনা কর্মকর্তাদের প্রতি এই বাংলাদেশি চিকিৎসকের আর্জি, আমাকে উহানে যেতে সহায়তা করুন। সেখানে বিপদে থাকা মানুষদের সহায়তা করার সুযোগ করে দিন। চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরেই গত বছরের শেষ দিন নতুন করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের প্রথম ঘটনা ধরা পড়ে। সেই ভাইরাস এখন ছড়িয়ে পড়েছে ৭০টির বেশি দেশে। এ ভাইরাস ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে, আক্রান্ত করেছে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষকে, যাদের অধিকাংশই চীনের হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করলে উহানসহ আশপাশের কয়েকটি শহর কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলে চীন সরকার, চলাচলে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। ওই পরিস্থিতিতে উহানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী গবেষককে একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় চীন সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে যাওয়া জেরিনের পক্ষে সম্ভব নয়।

ডেন্টালে ডিগ্রি নেয়ার পর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর করা ডা. সাইয়েদা জেরিন ইমাম বেশ কয়েক বছর ধরে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণা করছেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেমেও কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশে কয়েক বছর আগে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ে শ্যানডং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন ডা. জেরিন।

মানবকণ্ঠ/জেএস

 




Loading...
ads






Loading...