বাড়িতে শোকের মাতম

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:১২

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় মৌলভীবাজারের তিনজনসহ পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়ন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়ন।

রোববার ওমান সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওমানের আদম এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। পাশে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহত তিনজনের গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম।

ওমানের আদম এলাকায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও নিহতদের বাড়ি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাজ শেষে বাইসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক একজনকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির তিনজন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামের লিয়াকত আলী (৩৫), শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের সবুর আলী (৩৩) ও কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিতলীয়া বাজারের টিলালাইন এলাকার আলম আহমেদ (৩৫)। বাকী দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ওমানের কর্মরত লিয়াকত আলীর শ্যালক জসিম উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনকে চিনতে পারলেও দুইজনের চেহারা বিকৃতি হওয়ায় তাদের চেনা যায়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের নিহত আলমের ছোট ভাই ওয়াসিম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বড় ভাই পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনার আশায় বাড়িতে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে রেখে দার-দেনা করে ৬ মাস পূর্বে ওমানে পাড়ি দেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পরিবারের স্বচ্ছলতার জায়গায় আজ পরিবারের আহাজারির মাতম।

নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রবাস আমার সংসার জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে। এখন এই ধারদেনা কিভাবে পরিশোধ করবো। এ দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আলম মিয়া নিহত হওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামীম আহমদ জানান, আব্দুল বাছিতের ছেলে আলম আহমদ ৫ মাস আগে ওমান দেশে যায়। তার স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের লিয়াকত আলীর চাচা বিজিবির (অব.) সদস্য মাসুদুর রহমান জানান, বিলেরপার গ্রামের মুসলিম আলীর ছেলে লিয়াকত প্রায় ৪ বৎসর আগে ওমানে যায়। তার স্ত্রী ও নয় বছর বয়সের এক সন্তান রয়েছে। কনস্ট্রাকশনের কাজ করে পরিবার চালাতো। পাসপোর্ট নবায়ন করে দুমাস পরে দেশে আসার কথা ছিল। তার মৃত্যুর সংবাদে গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে লিয়াকত সবার ছোট।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর গ্রামের নিহত সবুর আলীর মামাতো ভাই কামাল খান জানান, গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে সবুর আলী ১০ বছর ধরে সে ওমান ছিল। দু’বছর আগে দেশে আসে। কিছুদিন থাকার পর আবার ওমান পাড়ি জমায়। মা আছেন। বাবা নেই। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে ৩য়। নিহত সবুরের দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে।

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্ছু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমার ইউনিয়নের মৃত লিয়াকত আলীসহ তিনজনের লাশ যাতে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসে সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...