আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচিতে উত্তপ্ত নিউইয়র্ক

মানবকণ্ঠ
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পৃথক র‍্যালী - ছবি: এনআরবি নিউজ।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৫,  আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফর ঘিরে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পরস্পর বিরোধী কর্মসূচিতে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে আওয়ামী পরিবারের স্লোগান, ‘বিশ্বনেতা শেখ হাসিনার আগমন-শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘যেখানে বিএনপি-জামাত-সেখানেই প্রতিরোধ’; অপরদিকে বিএনপির শ্লোগান হচ্ছে, ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’, ‘গণতন্ত্রের মা খালেদার মুক্তি চাই’।

জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা্র ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসার কথা এবং ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন। এ তথ্য প্রকাশের পরই আওয়ামী পরিবার জনসংযোগ শুরু করেছে শেখ হাসিনার কর্মসূচির সমর্থনে। বিশেষ করে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণের সময় হাজারো নেতা-কর্মী-সমর্থকের সমাগম ঘটিয়ে দলীয় নেত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবে আওয়ামী লীগ। এরপর জাতিসংঘে ভাষণের সময় বাইরে বড় ধরনের শান্তি সমাবেশের প্রস্তুতির পাশাপাশি ২৮ সেপ্টেম্বর মিডটাউন ম্যানহাটনে শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাকে ব্যাপকভাবে সাফল্যমন্ডিত করার অঙ্গিকারও করা হচ্ছে।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মানবাধিকার সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ এবং পরিচালনা করেন শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ফরিদ আলম। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর এ সমাবেশে নীতি-নির্ধারণী বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও বাকসুর সাবেক ভিপি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন দত্ত, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার, শিক্ষা সম্পাদক এম এ করিম জাহাঙ্গির, নির্বাহী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, কায়কোবাদ খান, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অধ্যাপক মমতাজ শাহনাজ, যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আসরাফ উদ্দিন, শ্রমিক লীগ নেতা মঞ্জুর চৌধুরী প্রমুখ। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন উপদেষ্টা এম এ জলিল, তোফায়েল চৌধুরী এবং হাকিকুল ইসলাম খোকন, নির্বাহী সদস্য শরিফ কামরুল হীরা, সাবু মিয়া, লিটন গাজী, ইলিয়ার রহমান, সিরাজুল ইসলাম, আশরাফ মাসুক, সাখাওয়াত হোসেন চ ল, শেখ হাসিনা মে র সভাপতি জালালউদ্দিন জলিল। নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল হুসেন, যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত তালুকদারও ছিলেন এ জনসংযোগ সমাবেশে। আরো ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং এম এ আওয়াল।

মূল বক্তব্যে ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেন, শেখ হাসিনা এখন শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি জাতিসংঘে আসছেন বিশ্বনেতা এবং মানবতার মা হিসেবে। পাশাপাশী তিনি হচ্ছেন একমাত্র নারী যিনি গণতান্ত্রিক বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন চতুর্থ টার্মে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে। তার এই মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে আওয়ামী পরিবারের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। আগের মত এবারও নেত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে অবস্থান করা পর্যন্ত দিন-রাত ২৪ ঘন্টা তার কাছাকাছি থাকতে হবে।

ফরিদ আলম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা এবার আসছেন ষোড়শ বারের মত। অর্থাৎ জাতিসংঘের ইতিহাসে এ এক অনন্য নজির। তাই আগের মত এবারও বিএনপি-জামাতের যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। এ নিয়ে কোন কালক্ষেপণের অবকাশ নেই।

অপর বক্তারা অভিযোগ করেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির মদদে বিএনপি-জামাত নানা হুমকি দিচ্ছে। ওদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক কৌশলেও দাতভাঙ্গা জবাব দিতে সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এ সময় পেনসিলভানিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্স রাজ্য থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণমূলক শ্লোগান দেন।
সভার শুরুতে ইমাম কাজী কায়্যুমের পরিচালনায় দোয়া-মাহফিলে শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের আগে সকলে এক মিনিট দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রায় একইসময়ে ৩০০ গজ দূরে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘যেখানে হাসিনা-সেখানেই প্রতিরোধ’ ব্যানারে বিএনপি, যুবদল, জাসাস, শ্রমিক দল, মহিলা দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিনের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা এম এ সালাম। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়ংকর হিসেবে অভিযোগ করে বলেন, ‘নব্য স্বৈরাচারের সব জারিজুরি ফাঁস হবার আশংকায় ফরমায়েসী রায়ে বেগম জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে।’ এ অবস্থায় নেতা-কর্মীদের মধ্যেকার ঐক্য সুসংহত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন সালাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য অভিনেতা বাবুল আহমেদ বলেন, ‘জাতিসংঘের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়ে শেখ হাসিনার অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের চেহারা দৃশ্যমান করতে হবে। এজন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা এবং তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘ম্যাডামের মুক্তি ব্যতিত বাংলাদেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। তাই শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরের সময় দুর্বার প্রতিরোধ রচনা করতে হবে। যদিও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এমন একটি সময়েও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কতিপয় নেতা নৌভ্রমণ আর বনভোজনে ব্যস্ত রয়েছেন। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে স্বৈরাচারের চাটুকার হিসেবে।’

যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সভাপতি আলহাজ্ব আবু তাহের বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পথে এগুচ্ছি। কেউ যাতে উচ্ছৃঙ্খলতা না করেন সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।’ জাসাসের শতাধিক নেতা-কর্মী ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগে নেমেছে বলেও উল্লেখ করেন আবু তাহের।

সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারি প্রেস সচিব আশিক ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা মিল্টন ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির নেতা মাহফুজুল মাওলা নান্নু, মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম জনিও যে কোন ত্যাগের বিনিময়ে শেখ হাসিনাকে প্রতিরোধ কর্মসূচি সাফল্যমন্ডিত করার অঙ্গিকার করেন। এজন্যে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করার তথ্যও জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আগের চেয়ে অনেক বেশী লোক সমাগম ঘটাতে হবে জাতিসংঘের সামনে। তবে সকলেই যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়-সে নির্দেশও দেয়া হয় এ সময়।

বক্তারা বলেন, এখন থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ চালাতে হবে ‘গণতন্ত্রের দুশমন শেখ হাসিনাকে প্রতিরোধ কর্মসূচির সমর্থনে।

তারা উল্লেখ করেন, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, মিশিগান, ওয়াশিংটন মেট্র, ফ্লোরিডা থেকেও নেতা-কর্মীরা আসবেন নিউইয়র্কে চলমান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য।

এ সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন গিয়াসউদ্দিন, মাকসুদ চৌধুরী, আবুল কাশেম, মোশারফ হোসেন সবুজ, আতিকুল হক আহাদ, শেখ হায়দার আলী, রুহুল আমিন নাসির, কাওসার আহমেদ, শাহাদত হোসেন রাজু, আশরাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সেক্রেটারি মো. সুরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, সৈয়দ মো. কাওসার, আব্দুল মোমেন সোহেল, রাশেদা বেগম মুন, ওমর ফারুক, সুলতানা খানম, রউসউদ্দিন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/জেএস/এইচকে




Loading...
ads




Loading...