মহামারি নিয়ন্ত্রণে হোয়াইট হাউজের অস্বীকৃতি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:২২

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) তাণ্ডবে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাস্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৩০ হাজার ৫১০ জনের। এদিকে দেশটিতে করোনার এই ভয়বহ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফের এক মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিরোধী মহলে।

গতকাল রোববার মার্ক মিডোস গণমাধ্যমকে জানান, ‘ট্রাম্প প্রশাসন মহামারি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে পরাজয় স্বীকার করে নেয়া হয়েছে বলে সমালোচনা করা হয় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রচারণায়।

যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন এই বক্তব্য দেন ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস। 

ট্রাম্প প্রশাসন কেন মহামারি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেনা এই প্রশ্নের উত্তরে মিডোস বলেন, ‘কারণ এটি ফ্লু-এর মতোই সংক্রামক ভাইরাস।’ তবে তারা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন বলে জানান।

ডেমোক্র্যাট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিস মিশিগানে প্রচারণার সময় মিডোসের বক্তব্যের ব্যাপারে বলেন, 'তারা (ট্রাম্প প্রশাসন) এর মাধ্যমে পরাজয় স্বীকার করে নিচ্ছে, এবং শুরু থেকেই আমি ও জো বাইডেন এই দাবি করে এসেছি।'

মিডোস করোনাভাইরাসকে ফ্লু-এর সাথে তুলনা করায় এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।'

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বের মোট মৃত্যুসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশই যুক্তরাষ্ট্রের, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ। বাইডেন ও হ্যারিস শুরু থেকেই মহামারি মোকাবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে এসেছেন। খোদ হোয়াইট হাউজের ভেতরই কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তিন সপ্তাহ পরই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্টের পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার খবর আসে। তবে পজিটিভ শনাক্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি শেষ দিনগুলোতে প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা যায়।

মিডোসকে মাইক পেনসের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি সে মাস্ক পরেই তার কাজ করবে। অবশ্যই সংক্রমিত হলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়।'

মিডোস এও জানান, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক না রেখেই ট্রাম্প বড় জমায়েতে প্রচারণা চালাবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবো না। আমরা মাস্ক পরার পরামর্শ দিতে পারি মাত্র কারণ আমরা মুক্ত সমাজে বাস করি।’

এদিকে উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পরই হ্যারিস প্রচারণার কাজে অংশ নিচ্ছেন না। বাইডেনও মাস্ক পরেই চলাচল করেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প সংখ্যক মানুষ নিয়ে র্যালি করেন।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads