শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের নির্দেশ তালেবানের সর্বোচ্চ নেতার

তালেবানের সরকারে কে কী দায়িত্ব পেলেন


  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৬,  আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২০

আফগানিস্তানের সদ্যঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘শরিয়াহ আইন’ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন ক্ষমতাসীন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। কাবুল দখলের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে তালেবান। সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তালেবানের কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাদের। সরকারের প্রধান করা হয়েছে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার ও আবদুল সালাম হানাফি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি আখুন্দজাদাকে। তবে মঙ্গলবার তিনি একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আখুন্দজাদা কোনো বিবৃতি দিলেন। আখুন্দজাদার বিবৃতিটি ইংরেজিতে প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি দেশবাসীকে এটা নিশ্চিত করতে চাই যে ইসলামিক আইন ও শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নে এ সরকার কঠোর পরিশ্রম করে যাবে। ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের সব কর্মকাণ্ডই পরিচালিত হবে শরিয়াহ আইন অনুসারে। তালেবানের নতুন সরকার দেশটিতে দীর্ঘ মেয়াদে শান্তি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবে। আফগানদের উদ্দেশে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের উচিত হবে না দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। কারও সঙ্গে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের’ কোনো সমস্যা নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আখুন্দজাদা। আর এই কাজে সবাইকে শামিল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর সশস্ত্র সংগঠনটির অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আখুন্দজাদাকে দেখা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, সেটাও নিশ্চিত নয়। তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের ভাষ্য, আখুন্দজাদা এখন কান্দাহারে রয়েছেন। তালেবানের আরেক মুখপাত্র বলেছেন, আখুন্দজাদা শিগগিরই প্রকাশ্যে আসবেন।

কে এই হাসান আখুন্দ : আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ১৯৯৪ সালে যে ৪ জন মিলে আফগানিস্তানে তালেবান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, হাসান আখুন্দ তাদের একজন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হাসান আখুন্দের জন্ম আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে। সেখান থেকেই তালেবানের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

হাসান আখুন্দের নাম জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে। গত ২০ বছর ধরে তিনি তালেবানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা রাহবার-ই-শুরার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালেবান নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

সরকারে কে কী দায়িত্ব পেলেন: তালেবান সরকারে প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারকে। গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করার পর তাদের সরকারের প্রধান হিসেবে বারাদারের নামই বেশি আলোচনায় এসেছিল। তালেবানের প্রয়াত নেতা মোল্লা ওমরের ভগ্নিপতি ও ঘনিষ্ঠজন বারাদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তালেবানের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর কাতার থেকে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।

তালেবানের এই সরকারে দ্বিতীয় উপ-প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন আব্দুল সালাম হানাফি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমির খান মুক্তাকীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাখা হয়েছে মোহাম্মদ ইয়াকুবকে। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে ইয়াকুব এতদিন এই গোষ্ঠীর সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে। হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ের ‘মুজাহিদ’ নেতা জালালুদ্দিন হাক্কানি। এই হাক্কানি নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের কালো তালিকাভুক্ত। গত কয়েক বছরে কাবুলে যে কয়টি বড় ধরনের আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে, তা হাক্কানি নেটওয়ার্কেরই চালানো বলে মনে করা হয়। আফগান কর্মকর্তাদের হত্যা, বিদেশি সৈন্যদের অপহরণের অভিযোগও রয়েছে এই দলটির বিরুদ্ধে। হাক্কানির মাথার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৫০ লাখ ডলার পুরষ্কারও ঘোষণা করেছে।

নবগঠিত সরকারের আইনমন্ত্রী করা হয়েছে আব্দুল হাকিম শারিকে। সীমান্ত ও উপজাতিবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা নুরুল্লাহ নূরকে। এ ছাড়া তালেবান সরকারের গোয়েন্দা শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মোল্লা আব্দুল হক ওয়াসিককে।

অর্থমন্ত্রী (ফিন্যান্স) হিসেবে মোল্লা হেদায়েতুল্লাহ বাদরির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিষয়ক (ইকোনমি) মন্ত্রী করা হয়েছে ক্বারী দীন মোহাম্মদ হানিফকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বানানো হয়েছে হাজি মোহাম্মদ ইদরিসকে।
জ্বালানি ও পানিমন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা আব্দুল লতিফ মনসুরকে। পল্লীমন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা ইউনুস আখুনজাদাকে। মোল্লা আব্দুল মান্নান ওমারিকে গণপূর্তমন্ত্রী করা হয়েছে। খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা মোহাম্মদ ইশা আখুন্দকে, সংস্কৃতি ও তথ্যমন্ত্রী করা হয়েছে মোল্লা খাইরুল্লাহ খয়েরখাকে। তালেবান সরকারের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা জাবিউল্লাহ মুজাহিদকে সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী করা হয়েছে।

যোগাযোগমন্ত্রী হয়েছেন মৌলভী নাজিবুল্লাহ হাক্কানি, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে আব্দুল বাকি হাক্কানিকে এবং শরণার্থী ও প্রত্যাবাসনমন্ত্রী করা হয়েছে হাজি খলিল উর রহমান হাক্কানিকে।


poisha bazar

ads
ads