‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিপদ ডেকে আনছেন মোদি’

‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিপদ ডেকে আনছেন মোদি’

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২২

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচনায় সরব লন্ডনের ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকা। তাদের মতে, মোদি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ক্ষতিসাধন করবে এবং তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিপদ ডেকে আনছেন।

ইকোনমিস্ট-এর কভার স্টোরিই এবার করা হয়েছে ভারত প্রসঙ্গে এবং তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, “অসহিষ্ণু ভারত। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী।” মূলত, এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রেক্ষাপটে দেশ জুড়ে যে ভীতি তৈরি হয়েছে সেই প্রসঙ্গেই এই সমালোচনা করেছে ইকোনমিস্ট।

কাঁটাতারের ওপর পদ্মের ছবি আঁকা ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর এবারের প্রচ্ছদ কাহিনিতে মোট তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমটিতেই সিএএ ও এনআরসির কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ২০ কোটি মুসলিম আতঙ্কিত। তাদের আশঙ্কা, নরেন্দ্র মোদি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগোচ্ছেন। গত মাসে ভারত সরকার যে আইন এনেছে, তাতে মুসলিম ছাড়া বাকিদের নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৩০ কোটি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই করতে উদ্যত হয়েছে বিজেপি সরকার, যাতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বার করা যায়। কিন্তু ২০ কোটি মুসলিমদের অধিকাংশেরই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। দেশ হারানোর পথে তারা। যারা জালে ধরা পড়বেন, তাদের জন্য ডিটেশন ক্যাম্প তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

আশির দশকে যে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপির উত্থান, এ মুহূর্তে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে, উত্তেজনা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই তাদের উদ্দেশ্য বলেও দাবি করা হয় ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়, ‘বিজেপির জন্য যা অমৃত সমান, ভারতের জন্য তা বিষ। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি-নিয়ম বিসর্জন দিয়ে যে পদক্ষেপ করছেন মোদি, তা ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ক্ষতিসাধন করবে। আগামী কয়েক দশক ধরে এর ফল ভুগতে হবে ভারতকে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে বিপদ ডেকে আনছেন মোদি।

‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এর দাবি, গত বছর দ্বিতীয় দফায় নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের অর্থনীতি ক্রমশ নিম্নমুখী হয়েছে। অর্থনীতির শ্লথ গতি ও মূল্যবৃদ্ধির চড়া হারের প্রভাব দেশের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে যেনতেন প্রকারে আসল সমস্যা থেকে দেশবাসীর নজর ঘোরানোই লক্ষ্য মোদি সরকারের। সেজন্যই জোর করে সিএএ-এনআরসির বিষয় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে দ্বিতীয়বার বিপুল ভোটে ক্ষমতায় আসার পর নরেন্দ্র মোদি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং বুঝে শুনেই তিনি এগোচ্ছেন বলে দাবি করেছে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। তাদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপ ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে ভেঙে দিচ্ছে। তিনি (মোদি) জানেন, জনসংখ্যার একটা অংশের সমর্থন রয়েছে। তাই হিন্দুত্বের হাওয়া আরও জোরদার করার পথে এগোচ্ছেন তিনি।

এদিকে ইকোনমিস্টের এসব মন্তব্যের পাল্টা সমালোচনা করেছে বিজেপি।  দলটির মুখপাত্র বিজয় চৌথাইওয়ালে বলেছেন, ব্রিটিশরা ৪৭ সালে ভারত ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু ইকোনমিস্টের সম্পাদকের মধ্যে এখনও ঔপনিবেশিক মানসিকতা রয়ে গিয়েছে। পত্রিকাটিতে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের একেবারেই ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...