ধূম্রজালে ঘেরা এক জিহাদি নেতার উত্থান-পতন

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১১

ঘৃণা প্রচারক, নৃশংস বর্বরতার প্ররোচক ও উস্কানিদাতা, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক, যাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল অসংখ্য ড্রোন, স্বঘোষিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার আগে-পরে যাকে মাত্র একবারই জনসম্মুখে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সেই শীর্ষনেতা আবু বকর আল বাগদাদীর মৃত্যুর খবর এখন ভেসে বেড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে। বছর তিনেক আগেও যে মূর্তিমান আতঙ্ককে নিয়ে সারা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো ব্যস্ত থাকত রোববার তাকে নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এমনটিই জানিয়েছে সিএনএন। মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটি তাদের প্রতিবেদনে বাগদাদীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ইসলামের বিকৃতকারী হিসেবে।

বলা হচ্ছে, তার দূষিত মতবাদ ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্মূলে এমন ভূমিকা রেখেছে ১৯৭০ এর পর বিশ্ব আর যা দেখেনি। ইরাকি নাগরিক, কট্টর রক্ষণশীল ধর্মপ্রচারক বাগদাদী জঙ্গি বিদ্রোহী দলগুলোর কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন গত দশকের শুরুর দিক থেকে। ২০০৩ সালে মার্কিন অভিযানে সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইরাক ও এর আশপাশের দেশগুলোতে তখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী। আবু গারিব ও ক্যাম্প বুকাতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক থাকার সময়ই বাগদাদীর দেখা হয় ভবিষ্যতে জিহাদি নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা অনেকের সঙ্গে।

ইরাকে ফিরে এসে যোগ দেন আল-কায়েদায়; জঙ্গি এ গোষ্ঠীটি যখন আরো অনেকের সঙ্গে মিলে গঠন করে ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক-বাগদাদীর উত্থান তখন মধ্যগগনে। ২০১০ সালে মার্কিন-ইরাকি যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেট অব ইরাকের শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর বাগদাদী সংগঠনটির শীর্ষ পদে আসীন হন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরাট অংশের ইরাক ত্যাগের সুযোগে জঙ্গি এ গোষ্ঠীটি বিস্তার লাভ করতে থাকে। পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ায় চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে সেখানকার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উচ্চাকাক্সক্ষী বাগদাদী ২০১৩ সালে তার সংগঠনের নাম বদলে রাখেন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড আল শাম, সংক্ষেপে আইএসআইএস।

অল্প কিছুকালের মধ্যেই এ জঙ্গিগোষ্ঠীটি সিরিয়া ও ইরাকে অভাবনীয় সাফল্য পায়। ২০১৪ সালে ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের গ্র্যান্ড আল-নূরী মসজিদে বাগদাদী সিরিয়া ও ইরাকের দখলকৃত বিশাল অংশজুড়ে খিলাফত ঘোষণা করেন। আগে-পরে জনসম্মুখে এটাকেই তার একমাত্র উপস্থিতি বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

আনুষ্ঠানিকভাবে তখন থেকেই আইএস নামে পরিচিত বাগদাদীর এই বাহিনী তার নিয়ন্ত্রিত অংশ ও আশপাশের অঞ্চলগুলোতে অকথ্য বর্বরতার নিদর্শন দেখানোর পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের ওপর বেশ কয়েকটি বড় বড় হামলা চালিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আইএসের এমন উত্থানের আগে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল বাশার আল আসাদবিরোধী শিবিরের তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে। বাগদাদীর খিলাফত ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র সে অবস্থান থেকে সরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) দিকে হেলে পড়ে।

প্রায় একই সময়ে রাশিয়াও ইরানের মতোই আসাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। এরপর সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং এসডিএফ আইএসবিরোধী পৃথক অভিযান শুরু করলে একটার পর একটা অঞ্চল বাগদাদীর হাতছাড়া হতে থাকে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইএসের স্লিপার সেল ও লোন উলফরা ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক প্রাণঘাতি হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রেও অন্তত তিনটি ম্যাস কিলিংয়ের ঘটনায় হামলাকারীদের বাগদাদীর প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএসের মানচিত্র যতই সংকুচিত হয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী, রাশিয়া ও ইরানের মতো শক্তিগুলোর বাগদাদীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা ততই বিস্তৃত হচ্ছিল। যদিও আইএসের খিলাফত গুঁড়িয়ে দেয়ার অনেক মাস পরেও বাগদাদী কোথায়, তা ছিল অজানা। তার অবস্থান ও ভাগ্য নিয়ে বেশ কয়েকবারই পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেলেও কখনোই সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...