অন্তরঙ্গ ছবি তুলে সমালোচনায় নবদম্পতি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৪৭

সদ্য বিয়ে করেছেন দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের লক্ষ্মী ও হ্রুশি কার্তিক। বিয়ের পর 'পোস্ট ওয়েডিং ফটোশ্যুট' করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। নীরব সবুজ এক মনোরম চা বাগানে সাদা রেশমি চাদর জড়ানো অবস্থায় বেশ আবেগঘন ও আবেদনময় ছবি তুলেছেন এই নবদম্পতি। আর সেই ছবিই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে সমালোচনা আর ট্রলের মুখে পড়েছেন লক্ষ্মী ও হ্রুশি।

তবে এই সমালোচনার মুখে এসে ছবি সরিয়ে নিতে রাজি নন তারা। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দম্পতি জানান, ছবি সরিয়ে নেয়ার মানে হবে এদের অন্যায় সমালোচনাকে মেনে নেয়া।

করোনার মধ্যেই সীমিত আকারে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে তাদের। আই বিয়ের পর একটু আয়োজন করে ছবি তোলার চিন্তা করেন তারা। যাতে সারাজীবন এই সময়টার কথা স্মৃতিতে থাকে তাদের।

পারিবারিকভাবেই বিয়ে ঠিক হয় লষ্মী আর হ্রুশির। এপ্রিলে খুব ধুমধাম করে আয়োজনের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু এর মাঝেই মহামারির প্রকোপে থমকে গেল সব। পরে সেপ্টেম্বরে এসে পারিবারিক ছোট্ট গন্ডিতে বিয়েটা সেরে ফেলেন তারা।

এরপর দুজন মিলেই ঠিক করেন বিয়ে-পরবর্তী ফটোশ্যুট করবেন। ইন্তারনেটে এরকম বিভিন্ন ফটোশ্যুট আর থিম খুঁজে তারা পছন্দের আইডিয়াটা পেয়ে যান।

ছবিগুলো তোলেন হ্রুশির বন্ধু অখিল কার্তিকেয়েন। বিবিসিকে অখিল জানান, ছবিগুলো তুলতে বড়জোর কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। চা বাগানের কাছে একটা রিসোর্টে বেড়াতে গেছিলেন তারা। সেখানে হোটেল থেকে রেশমের বড় চাদর ধার করে নিয়ে ছবিগুলো তোলা।'

লক্ষ্মী বলেন, 'আমরা খুব আনন্দ করেছি। এই পুরো ব্যাপারটা নিয়ে বেশ উৎসাহিত ছিলাম আমরা। অনেক হেসেছি, মজা করেছি আবার চেষ্টা করেছি ভালো ছবি তোলার। কিন্তু এটা যে এত সমস্যা তৈরি করবে বুঝতে পারিনি।'

তবে এরপরর কিছু মানুষ এগিয়ে এসেছেন যারা ট্রোলের সমালোচনা করেছেন। লক্ষ্মী আর হ্রুশিকে অভিনন্দন জানিয়ে ছবির প্রশংসা করেছেন। লক্ষ্মী বলেন, 'প্রথমে খুব খারাপ লাগছিল কিন্তু পরে এই মানুষগুলোর সাপোর্ট আর প্রশংসা পেয়ে অনেক ভালো লেগেছে।'

'প্রথমে আমাদের বাব-মাও বেশ হতভম্ব হয়ে গেছিলেন। পরে তাদের আমরা বুঝাতে পেরেছি কেন এই ফটোশ্যুটটা আমাদের দুজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারা আমাদের বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন আমাদের ভর্তসনা করেছেন, বলেছেন পশ্চিমাদের নকলে অপসংস্কৃতি অনুসরণ করছি আমরা।'

প্রথমে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমরা সেটা মেনে নিয়েছি। আমরা বুঝে গেছি আমাদের সমাজটা এমনই, আর এটা মেনে নিয়েই থাকতে হবে আমাদের।'






ads