লাদাখে দাঁড়িয়ে চীনকে বার্তা মোদির

ইতিহাস সাক্ষী, মুছে যায় দখলবাজরা

মানবকণ্ঠ
- ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ০৪ জুলাই ২০২০, ১০:৫৪,  আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২০, ১১:২৭

গালওয়ান উপত্যকা ঘিরে চীন-ভারত সংঘর্ষের দুই সপ্তাহ পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা এক সফরে লাদাখে গিয়ে সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন। সীমান্ত চৌকি থেকে সেনা হাসপাতাল, ঘুরে ঘুরে কথা বলেছেন বাহিনীর কর্তা ও জওয়ানদের সঙ্গে। পরে এক সামরিক সমাবেশে দাঁড়িয়ে চীনের নাম উল্লেখ না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন- ইতিহাস সাক্ষী, দখলবাজরা মুছে গিয়েছে পৃথিবী থেকে।


শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোরেই মোদি লাদাখ পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার হেলিকপ্টার লাদাখের লেহ ও সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ফরওয়ার্ড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড নিমুতে অবতরণ করে। তিন বাহিনীর প্রধান চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং স্থলবাহিনীর প্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণে এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। লেহ থেকে মোদি এলএসির দিকে ফরওয়ার্ড পোস্ট ঘুরে দেখেন। কথা বলেন সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের সঙ্গে। ১৫ জুন রাতে গালওয়ানের সংঘর্ষে যে জওয়ানরা জখম হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী লেহতে দেখা করেছেন।


পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখা এবং জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলার পর সেনা জওয়ানদের মনোবল বাড়াতে নিমুতে এক সামরিক সমাবেশে ভাষণ দেন মোদি। তাতে একদিকে যেমন সেনার বীরত্বের কথা বলেছেন, তেমনই নাম না করে চীনকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।


মোদি তার ভাষণে বলেন, ফের একবার আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা সবাই মিলে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলব। ভারতের স্বপ্নপূরণে ১৩০ কোটি ভারতবাসীও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা সবাই মিলে এবং বিশেষ করে আপনারা সীমান্তে দেশকে রক্ষা করছেন। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জকেও মোকাবিলা করব। আজ গোটা দেশ একজোট হয়ে লড়ছে। সব দেশ আজ দখলবাজদের বিরুদ্ধে একজোট। যার মাথায় দখলবাজির ভ‚ত চাপে, সে শান্তি নষ্ট করে। দখলবাজিই এখন সব জায়গায় প্রাসঙ্গিক, দখলবাজরা শান্তির পক্ষে বিপজ্জনক। দখলবাজদের যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে। গোটা বিশ্ব আজ বিকাশবাদের পথে চলতে চায়। গোটা বিশ্ব এই দখলবাজি শক্তির বিরোধিতা করার বিষয়ে মনস্থির করে ফেলেছে। ইতিহাস সাক্ষী, এই সব শক্তি মুছে গিয়েছে, অথবা নত হতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু কেউ কেউ এখনো দখলবাজিতে বিশ্বাসী। গোটা বিশ্ব আজ বিকাশবাদে বিশ্বাসী। ভারতীয় সেনার আত্মবিশ্বাস আমি বুঝতে পারছি। ভারতের শত্রুরা সেনার শক্তি দেখেছে। আমরা হলাম সেই লোক, যারা বংশীধারী শ্রীকৃষ্ণের ধ্বজাধারী, আবার সুদর্শন চক্রধারী শ্রীকৃষ্ণকেও আদর্শ মানি। ১৪ কোরের বীরত্বের কাহিনী সবাই জানে। দেশের সব প্রান্তের বীররা গালওয়ানে নিজেদের শৌর্য দেখিয়েছেন।


তিনি বলেন, গালওয়ান উপত্যকায় শহিদ জওয়ানদের আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আপনাদের বীরত্ব পুরো বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে ভারতের শক্তি কতটা। আপনাদের হাতে দেশরক্ষার ভার যখন রয়েছে, তখন পুরো দেশ নিশ্চিন্ত। আজ আপনাদের মাঝে এসে আমি এটা অনুভব করছি। আপনাদের ইচ্ছাশক্তি এই পর্বতের মতোই অটল। রোজ আপনারা নিজেদের পদক্ষেপে মাপেন। আপনাদের সঙ্কল্প এই উপত্যকার চেয়েও শক্ত। আপনারা বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। 


জুনের মাঝামাঝি গালওয়ানে চীন-ভারতের সংঘর্ষে দুই পক্ষই পাথর, রড ও লাঠি ব্যবহার করে। সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লি। বেইজিং তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। 


লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে পাঁচ দশকের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এ সংঘর্ষের পর পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সেনা কমান্ডাররা দফায় দফায় বৈঠক করলেও সীমান্তে থমথমে ভাব কাটেনি। বরং উভয় দেশ লাদাখের আশপাশে শক্তি বাড়াচ্ছে। 


আনন্দবাজার জানায়, মোদি এলএসির বিভিন্ন সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের লাদাখ যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। কী কারণে রাজনাথের সফর বাতিল হয়েছে, তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও পরদিন যে খোদ প্রধানমন্ত্রীই সীমান্তে সেনাদের ‘মনোবল চাঙা’ করতে যাচ্ছেন, ঘুণাক্ষরেও তার আভাস পাওয়া যায়নি। 


নিরাপত্তার খাতিরেই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হলেও মোদির আচমকা লাদাখ সফরকে ‘চীনের জন্য বড় বার্তা’ হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তারা বলছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর না হলে বা খুব বড় পদক্ষেপের কথা ভাবা না হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে সচরাচর সীমান্ত চৌকিতে যেতে দেখা যায় না।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...