দক্ষিণ আফ্রিকায় সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২১২


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৭ জুলাই ২০২১, ১০:৫৫,  আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২১, ১০:৫৭

দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে দাঁড়িয়েছে। একদিনের ব্যবধানে প্রায় নিহতের সংখ্যা প্রায় একশ জন বেড়ে যায়।

এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জ্যাকব জুমাকে গ্রেফতারের জেরে ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও নৈরাজ্য পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। একে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অস্থিরতার সুযোগে ব্যাপক লুটতরাজের কারণে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পুলিশি প্রহরায় সুপারমার্কেটগুলোতে খাদ্যপণ্য সরবরাহ চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জ্যাকব জুমার বাড়ি যে প্রদেশে, সহিংসতার কেন্দ্র ছিল সেই কোয়াজুলু-নাটাল। প্রদেশটিতে লুটপাট হয়েছে কমপক্ষে ৮০০ দোকানে। প্রদেশটির এক মেয়র জানান, চুরি গেছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে খাবারের মজুত।

কোয়াজুলু-নাটালের পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাওয়া প্রেসিডেন্ট রামাফোসা বলেন, ‘অস্থিতিশীলতা আর লুটপাটের পুরোটাই যে উসকে দেয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট। পূর্বপরিকল্পনার ভিত্তিতে সমন্বয় ঘটিয়ে একদল লোক এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’

এ দাঙ্গা দক্ষিণ আফ্রিকার গণতন্ত্র ধসিয়ে দেয়ার চেষ্টা ছিল বলেও অভিযোগ করেন রামাফোসা। তিনি জানান, হোতাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। নাশকতায় জড়িত সন্দেহে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন রয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে মেডিক্যাল অক্সিজেন, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য।

আদালত অবমাননার দায়ে ১৫ মাসের কারাদণ্ড ভোগে গত সপ্তাহে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন জ্যাকব জুমা। ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগে একটি মামলায় অনুসন্ধানে সহযোগিতা না করায় তাকে এ দণ্ড দেয় আদালত।

এ সাজা ভোগের পাশাপাশিই জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলবে। নব্বইয়ের দশকে ৫০০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তির দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ গত মাসে অস্বীকার করেছেন ৭৯ বছর বয়সী এ নেতা। তার সমর্থকদের দাবি, বর্তমান প্রেসিডেন্ট রামাফোসার মিত্রদের সাজানো নাটকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন জুমা।

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ১৫ মাসের সাজাপ্রাপ্ত জ্যাকব জুমাকে জেলে প্রেরণের পর তার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

 



poisha bazar

ads
ads