যেকারণে আফ্রিকায় ঢুকতে পারেনি 'করোনা'

যেকারণে আফ্রিকায় ঢুকতে পারেনি 'করোনা'
রয়টার্স থেকে নেয়া ছবি - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • ১৮ মার্চ ২০২০, ১৭:০২,  আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০, ১৭:০৮

করোনা নামক ভাইরাসের তাণ্ডবে ইউরোপ-আমেরিকা-চীনসহ বিশ্বের ধনী দেশগুলোর যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন সংক্রমণের আখড়া হিসেবে পরিচিত আফ্রিকা যেন একেবারেই ঠাণ্ডা। এ ভাইরাস ছুঁতে পারেনি আফ্রিকার তেমন কোন দেশকেই!

বিশ্ব জোড়া করোনাভাইরাসকে মহামারি অর্থাৎ ‘প্যানডেমিক’ ঘোষণা করা হলেই আফ্রিকা সম্পূর্ণই করোনা-মুক্ত!

এর আগে ২০১৪ সালে অজানা এক ভাইরাসের সংক্রমণের মুখে পরে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। পরে এই ভাইরাসের নামকরণ হয় ইবোলা, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর ত্রাস। ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ঘোষণা করে পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব গিনির প্রত্যন্ত এলাকায় মহামারি ইবোলা। গত বছরও রোয়ান্ডা সীমান্তবর্তী গোমা শহরের ২০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল ইবোলা। তার উপর ম্যালেরিয়ার আতঙ্ক তো রয়েছেই।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আফ্রিকার নানা দেশে নানা ভাইরাসের কবলে পরে মৃত্যু যেন বড় মিছিলে রুপ নিয়েছে। কিন্তু কেন তাদের ছুঁতে পারল না করোনা? কীভাবে নিজেদের করোনামুক্ত রেখেছেন আফ্রিকাবাসী?

জানা যায়, করোনা ছড়িয়ে পরার প্রায় ৮ সপ্তাহ পরে পূর্ব আফ্রিকায় প্রথম করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশ পায়। সেখানে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। যিনি সেখানে গিয়েছিলেন পর্যটক হিসেবে। এরপর ভাইরাস ধরা পরে ইথিওপিয়ায়। তিনিও ছিলেন জাপানি। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

জানা গিয়েছে, তিনি নাকি দেশেও ফিরে গিয়েছেন। নাইরোবিতে এক মহিলার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। তিনি আমেরিকা থেকে লন্ডন হয়ে নাইরোবিতে ফিরেছিলেন। তবে পরে পরীক্ষা করে তার শরীরে কোনো ভাইরাসের খোঁজ মেলেনি। এর বাইরে পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার কোথাও ভাইরাস সংক্রমণের খবর সেভাবে পাওয়া যায়নি।

আফ্রিকাতে হু-র রিজিওনাল ডিরেক্টর মাতশিদিসো মোয়েতি বলছেন, ইবোলার তাণ্ডব দেখেছে আফ্রিকা, মানুষ তাই অনেক সচেতন। ১৯৭৬ সালে ইবোলা ভাইরাস হানা দেয় আফ্রিকায়। সেবছর ৩১৮ জন আক্রান্ত হয়। মারা যায় ২৫১ জন। এরপর ২০১৪-২০১৬ পর্যন্ত শুধু গিনিতেই ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ২৫ হাজার।

এছাড়া, কঙ্গো, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সুদান, গ্যাবন, উগান্ডা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও নাইজেরিয়া সহ মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলিতে ইবোলায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক।

হু-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর মাতশিদিসো বলেছেন, সংক্রামক ব্যধির বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন আফ্রিকার মানুষজন। বিশেষত গ্রামীণ এলাকাতেও সচেতনতার প্রসার অনেক বেশি। করোনার সংক্রমণ যখন মহামারির চেহারা নিচ্ছে, তখন থেকেই মধ্য, পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছিল। দোকান, বাজার, সুপারমার্কেটে হ্যান্ড-স্যানিটাইজার রাখা হয়েছিল, লোকজনেরাও নিজেদের সঙ্গে সবসময় স্যানিটাইজার, সাবান নিয়ে ঘুরতেন। সামান্য সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা গিলেও স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতেন। তাই স্থানীয়দের মধ্যে রোগের সংক্রমণ সেভাবে ছড়ায়নি।

হু জানিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও গত দু’মাস ধরে মানুষজন কোনো বড় জমায়েত বা উৎসব-অনুষ্ঠানে শামিল হননি। যেকোনো রকম অসুস্থতা হলেই তারা নিজেদের ঘরবন্দি করে ফেলছিলেন। এড়িয়ে চলছিলেন একে অপরের সংস্পর্শ। তৎপর ছিলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও। জ্বর বা সর্দির উপসর্গ দেখা দিলেই চটপট সেই রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। গ্রামে গ্রামে হেলথ ক্যাম্পও করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...