জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০৬

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিম্ন আদালদের যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত জিএম কাদেরের দলীয় দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা রইলো না।

নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে জিএম কাদেরের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন জিএম কাদেরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাহিদা খাতুন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কোহিনুর আক্তার লাকী ও সাবিনা পারভীন।

জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারের পর গত ৪ অক্টোবর সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলার আলোকে জিএম কাদেরকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আদালত।

৩০ অক্টোবর ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ (প্রথম আদালত) মাসুদুল হক এ আদেশ দেন।

১নং প্রতিপক্ষ (জিএম কাদের) ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বরের গঠনতন্ত্রের আলোকে পার্টির কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারেন এবং কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করতে না পারে সে মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত।

পরে এই আদেশ প্রত্যাহারে জিএম কাদেরের আবেদন গত ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেন একই আদালত।

আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিস আপিল করেন জিএম কাদের। জেলা জজ এই আবেদন শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন রাখলেন। কিন্তু আমরা ২৪ নভেম্বর দরখাস্ত দিয়ে বললাম ৯ জানুয়ারি রাখাতে, আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ আছে। অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। তাই আজেকই শুনানি করেন। আমাদের ২৪ তারিখের দরখাস্তটা জেলা জজ রিজেক্ট করে দিলেন। এর বিরুদ্ধে আমরা রিভিশন করেছি। আমরা হাইকোর্টে বলেছি ২৪ তারিখের আদেশটা অবৈধ। কোর্ট রুল দিলেন। আর ৩০ অক্টোববের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বিবাদী জিএম কাদের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকার পরও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই বছর ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

গত ৫ মার্চ গাজীপুর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা আতাউর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর শিকদার, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক রফিকুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. আজিজকে বহিষ্কার করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাদী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেন। অন্যদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাকেও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করেন, যা অবৈধ।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar