পর্যায়ক্রমে আন্দোলন আরও জোরদার করবে বিএনপি

বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশের সিদ্ধান্ত


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৪৯

মজুমদার ইমরান: যেকোন মূল্য আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে চায় রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। সেই লক্ষ্য অর্জনে দলটি আন্দোলনে রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দাবি আদায়ে বিএনপি পর্যায়ক্রমে আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাঠ গরমের কর্মসূচি হিসেবে দলটি গত ২২ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এসব কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ, ভোলা ও মুন্সিগঞ্জে দলটির চারজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপির রাজধানী ঢাকায় ১৬ টি পয়েন্টে সমাবেশের কর্মসূচি পালন করছে। রাজধানীতে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মিরপুর ও সর্বশেষ হাজারীবাগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংর্ঘষ হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলা, বাধা উপেক্ষা করে গত সোমবার রাজধানীর হাজারীবাগে সমাবেশে করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তেজগাঁও এলাকায় সমাবেশের মাধ্যমে রাজধানীর ১৬ স্থানে সমাবেশের  কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবী এলাকায় সরকারি দলের বাধায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। এই সমাবেশটি ১ অক্টোবর পল্লবীতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন বলে স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সমাবেশকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। যে কোনো মূল্যে  সমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য দলের হাইকমান্ড অনড়।

ধারাবাহিক এসব কর্মসূচি পালনে সরকার সর্মথকদের হামলা-মামলা উপেক্ষা করে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচন একটি নির্দলীয়- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আয়োজন করার জন্য সরকারকে বাধ্য যা যা করার প্রয়োজন বিএনপি তাই করবে। কোনভাবেই সরকারকে আর ছাড় দেয়া যাবে না। যেকোন পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকবেন দলটির নেতাকর্মীরা। রাজপথ ছাড়বেন না তারা। হামলা-মামলা মোকাবেলা করে রাজপথে থাকতে হবে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন জোরদার করা হবে। দেয়া হবে নতুন কর্মসূচি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মানবকণ্ঠকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে হাতে লাঠি তুলে নিয়েছেন। মার খেতে খেতে তারা প্রতিরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন থেকে রাজপথে যেখানেই আঘাত আসবে সেখানেই পাল্টা আঘাত দেয়া হবে।

রাজধানীর ১৬ স্থানে সমাবেশের কর্মসূচি প্রায় শেষের পথে। এসব কর্মসূচি শেষ হলেই অক্টোবর মাসেই নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে বিএনপি। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবার বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করার কর্মসূচি দেয়া হবে। গত সোমবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানা গেছে, বিভাগীয় শহরগুলো সমাবেশের পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিএনপির। সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের মহাসচিব মির্জা ফখর’ল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখর’ল ইসলাম আলমগীর মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা গণতন্ত্র পুনর’দ্ধারে আন্দোলন করছি। একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন আমাদের দাবি। আমরা আগামীতে এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। যা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না। আর তাই আমরা একটি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনে লড়াই করছি। দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলমান আছে। শুধু বিএনপি না দেশের অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও এই সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় না। যারা একটি নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় সবার সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। সবাইকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদী, দানব সরকারকে আমরা পরাজিত করব।

বিএনপির নীতি নির্ধারকরা জানিয়েছেন, চলমান আন্দোলনের পাশাপাশি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সরকার বিরোধী একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে বিএনপি কাজ করছে। এলক্ষে বিএনপি প্রায় ৩৫ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক সংলাপ করেছে। এসব সংলাপে সব রাজনৈতিক দলগুলোই আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এবং একটি নিদর্লীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায় করতে একমত পোষণ করেছে। যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়েও একমত হয়েছে।

জানা গেছে, চলমান আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিএনপি একটি যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চুড়ান্ত করছে। ৯ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের খসড়াও প্রায় চ‚ড়ান্ত করে ফেলেছেন বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। খুব শিগগিরি যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar