ঝামেলা চায় না আ.লীগ

বিদ্রোহীদের বসাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ


  • সাইফুল ইসলাম
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৩০,  আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫:৪৪

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক মাঠকে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনে বিমুখ। চারদিকেই মারমুখি অবস্থানে রয়েছে তারা। ইস্যু পেলেই হামলা আর রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াতে পিছপা হচ্ছে না। সেই মুর্হুতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিরোধীদের কোনো ইস্যু সুযোগ দিতে চাচ্ছে না। তাই আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে কোনো ঝামেলা যেতে চাচ্ছে না দলটি। বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কোনো ত্র’টি রাখেনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। তবে এ নির্বাচনে অনেক স্থানে বিদ্রোহী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন দলের নেতারা।

জানা গেছে, পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদে দলীয় চুড়ান্ত প্রার্থী হলেন- জাতীয় মহিলা পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সালমা রহমান। কিন্তু সেখানে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যন ও প্রশাসক মহিউদ্দিন মহারাজ। ৯৫ শতাংশ সমর্থন থাকার পরও আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যান। গতকাল মহারাজ পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা জানান। দলের প্রতি আনুগত্যের জায়গা থেকেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ সময় দলের সমর্থিত প্রার্থীকে তিনি সমর্থনও জানান।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহিউদ্দিন মহারাজকে ডেকে নিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা তার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাকসহ কেন্দ্রীয় আরো বেশ কয়েকজন নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে মহিউদ্দিন মহারাজকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এবং দলের সিদ্ধান্ত মেনে সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কথা বলেন। ঐ বৈঠকে উপস্থিত একজন সিনিয়র নেতা জানান, মহিউদ্দিন মহারাজকে ভবিষ্যতে বড় কোনো কিছু দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। পরে সেখানে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালকে ডেকে নিয়ে মহিউদ্দিন মহারাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। শুধু মহিউদ্দিন মহারাজ নয়, এমন চিত্র বেশ কয়েকটি রয়েছে। বিদ্রোহী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করলেও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে নির্বাচন থেকে শেষমেষ সরে দাঁড়ান।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবকণ্ঠকে বলেন,‘বসাই দিচ্ছি ব্যাপারটা ওই ভাবে বলি না, আমরা কোথাও যদি মনে করি, এই জায়গাটাতে আরো প্রার্থী আছে, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন হউক এটা আমরা চাই। সেক্ষেত্রে আমাদের যদি সমন্বয় করার কিছু থাকে, সেই কাজটা আমরা করে থাকি। অন্যদের মতে, আমরা আন-কনটেস্ট নির্বাচন করতেছি, সে ব্যাপারে আমাদের দলের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

তিনি আরো বলেন, দল থেকে সমর্থন দিয়েছি সেই ম্যাসেজটাও দেওয়া হচ্ছে, তাদের সম্মানের ব্যাপারে আহবান করা হচ্ছে। সেটা হলো এক জিনিস। আর নির্বাচন নির্বাচনের মতো হউক, প্রতিযোগীতা মুলক হউক, সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো ইয়ে... নেই। আমরা কিন্তু স্বর্তন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে যাই নাই। দলের প্রার্থী একজন হউক এটা আমরা প্রত্যাশা করছি। যেহেতু সমর্থন দিয়েছি আর সমর্থনের বাহিরে যদি থাকে তাদেরকে তো আমাদের ম্যাসেজটা পৌছানো দরকার, আহবান করা দরকার, সেটা আমরা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেলে সব জেলায়ই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হতো। তাই বিদ্রোহী দমনে কোনো ‘অ্যাকশনে’ যাচ্ছেন না তারা।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল না থাকায় মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্ব›দ্বী এখন আওয়ামী লীগ। ২২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দি্বতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। বাকি যে ৩৯টিতে ভোট হচ্ছে তার বেশিরভাগেই রয়েছে দলেরই এক বা একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে বিদ্রোহী ও বিনাপ্রতিদ্বন্দিতা নিয়ে উভয় সংকটের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের বিষয়ে নমনীয়ই দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের। বিদ্রোহী দমনে কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

৬১ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৫০০ জন। ৯ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্য থেকে দলীয় প্রার্থী চ‚ড়ান্ত করে দলটি। এর মধ্য থেকে ৩১ জেলায় নতুন মুখ আনা হয়েছে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া বড় অন্য কোনো দলের অংশগ্রহণ নেই। ফলে ১৯ জেলায় একজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এছাড়া যাচাই-বাছাইয়ে আরও তিন জেলার একজন ছাড়া অন্যদের প্রার্থিতা বাতিল হয়। ফলে ২২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বাকি ৩৯ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৪২ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর মধ্যে অন্তত ১৬ জেলায় প্রায় অর্ধশত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।


poisha bazar