আমরা কোভিডের মতো বন্যাও মোকাবেলা করব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৭ জুন ২০২২, ২০:৩৪

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৯০ ভাগ এলাকা পানির নিচে ডুবে গেছে। দেশের মধ্যে এবারের ভয়াবহ বন্যা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জ ও সিলেটের মানুষ। বন্যার শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি মনিটরিং করেছেন বলেই একটি মানুষও না খেয়ে ও বিনা চিকিৎসায় মারা যায়নি। সেনাবাহিনীসহ সরকারের সব বিভাগসমূহ প্রধানমন্ত্রীর তত্তাবধানে এক যুগে কাজ করায় শতবছরের মধ্যে ভয়াবহ এই আমরা ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছি।

সোমবার (২৭ জুন) দুপুর দেড়টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থতি, ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, আমরা সবাই এক টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করতে পেরেছিলাম বলে কোভিডকে ভালোভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি। বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে কোভিড মোকাবেলায় আমরা পঞ্চম সফল দেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। তেমনি আমরা সবাই একইভাবে এই ভয়াবহ বন্যাও মোকাবেলা করতে পারবো। কেউ বিনা চিকিৎসায় ও না খেয়ে মরবেনা ইনশাল্লাহ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা কোভিডের টিকা দেওয়ার যোগ্য আছেন এরকম ৯৮ ভাগ মানুষকে আমরা টিকা দিয়েছি। বিশ্বের অনেক দেশ আছে কোভিডের ১০ ভাগ টিকাও এখনও তাদের নাগরিকদের দিতে পারেনি। আমরা এতে সফল হয়েছি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গাইড লাইনের কারণে।

এই ভয়াবহ বন্যায় শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ ১০ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চিকিৎসার পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষদের আশ্রয়ও দিয়েছি। বন্যার শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিন প্রতিটি কর্মী রাতদিন কাজ করেছে। সিলেটে ১৫০ থেকে ২০০টি মেডিকেল টিম কাজ করেছে। এখনও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে সাধারণ তো ডায়রি ও কলেরার প্রার্দুভাব দেখা দেয়। তবে আশার বিষয় হলো এখনো এমন কোনো খবর আমরা পাইনি। আমরা বন্যা পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছি। আমাদেও স্বাস্থ্যেও সচিব ও ডিজিসহ সবাই এ নিয়ে এক যোগে মাঠে কাজ করছেন।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, যেসব হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে, সেগুলো সারিয়ে তোলা হবে, প্রয়োজনে নতুন যন্ত্রপাতি দেবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কাজ করলে সমালোচনা হবে। একটু আধটু ভুল হতেই পারে। তবে যারা সমালোচনা করেন তারা কাজ করেন কম। তারা কাজ না কওে সমালোচনা করতে থাকেন এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar