ইউপি নির্বাচন যেন ‘গলার কাঁটা’


  • সাইফুল ইসলাম
  • ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:০৪

স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবির অন্যতম কারণ দেখছেন বিদ্রোহীদের দাপট আর তৃণমূলের পাঠানো রেজ্যুলেশনে সঠিক তালিকায় অনিয়ম। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত সম্পন্ন হলেও বাকি ধাপগুলো দ্রুত শেষ হলেই যেন বাঁচে- এমনটাই প্রকাশ করেন দলের সিনিয়র নেতারা। ক্ষমতায় থেকে নৌকার প্রার্থী জামানত হারানোর বিষয়টিও লজ্জাকর বলে মনে করেন নেতারা। একই সঙ্গে রয়েছে সহিংসতা ও প্রাণহানির বিষয়টি।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের ভাষ্য মতে, নৌকার ভরাডুবির কারণ হিসেবে অনেকেই মনোনয়নের ক্ষেত্রে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত যথার্থ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। বেশিরভাগ ইউনিয়নেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন মুখ। কেউ কেউ এলাকার রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়- এমন লোককেও দেয়া হয়েছে দলীয় মনোনয়ন। এ ছাড়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ফলে দলীয় নেতাকর্মী নির্বাচনীয় মাঠে সরব কম ছিল।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনটা যত তাড়াতাড়ি শেষ হবে তত তাড়াতাড়ি আমাদের জন্য ভালো। নির্বাচন শেষ হলেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচি। পারছি না তৃণমূলে কেন্দ্রের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে, আবার পারছি না বিদ্রোহীদের দমন করতে। একটা দল তার সর্বোচ্চ শাস্তি বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু তার বাইরে কিছু করার থাকে না। বিদ্রোহী বহিষ্কারকে তোয়াক্কা না করেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নৌকা পেয়েও যদি পরাজিত হয় তাহলে সেখানে সেই প্রার্থীর বা দলের অস্তিত্ব রক্ষা করাই কঠিন হয়।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান মানবকণ্ঠকে বলেছেন, ‘বেশকিছু জায়গা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়াতে আমাদের নৌকা প্রতীকের পরাজয় হয়েছে এটা সত্য। এ ব্যাপারে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কে বেশি পরিমাণে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছে? কিছু কিছু জায়গায় আমাদের দল থেকে যারা মনোনয়ন চেয়েছে তারা অতি আবেগে বিদ্রোহী হচ্ছে। আমাদের মধ্যের কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থীকে উৎসাহী করছে, আমরা এ ব্যাপারগুলো দেখছি।’

আওয়ামী লীগের এক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আসলে কী তৃণমূলের চাওয়ার সঙ্গে এক হতে পেরেছি? নাকি নিজেদের চাওয়াকেই তৃণমূলের ওপরে চাপিয়ে দিচ্ছি? ক্ষমতা থাকতেই যদি এমন হয়, তা হলেও চিন্তা গভীর থেকে করতে হবে। কারা নৌকা পাচ্ছে, কাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে, সেখানে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু রয়েছে, নাকি তৃতীয় পক্ষ নৌকার প্রতীক চাচ্ছে- সবই জানতে হবে। বিদ্রোহীরা কিন্তু দলেরই ত্যাগী নেতা। তারা কম কষ্টে বিদ্রোহী হয়নি, তাদের বোঝানোর দায়িত্বটা কে নেবে? আর যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই বা কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে- এমন প্রশ্ন রাখতে চান তিনি।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবকণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন করেছে আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে আওয়ামী লীগ, জিতছে আওয়ামী লীগ, হারছেও আওয়ামী লীগ। ভরাডুবির কিছু হয়নি, মাঠেই তো আছে আওয়ামী লীগ। আমরা আমরাই তো- এর মানে এই নয়, দলের শৃঙ্খলা বিরোধীকারীদের রেহাই দেয়া হবে এটা আমরা বলি না কখনো। এটা বলারও কোনো সুযোগ নেই। মদদদাতাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাঠে-ময়দানে যেহেতু প্রতিযোগিতা নেই, প্রতিযোগিতা না থাকার কারণে যে যেখানে দাঁড়াচ্ছে সে সেখানেই কিন্তু পাল্টাপাল্টি সমর্থন কিছু জায়গা দাঁড়াচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী না থাকার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা নৌকার বিরুদ্ধে যে দাঁড়াচ্ছে তাকে সমর্থন দিয়েছে। কে পাস করল এটা বিষয় নয়, তাদের (বিএনপির) নৌকার বিরোধিতা করা।’

বিদ্রোহীরা গলার কাঁটা নয়- জানিয়ে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতীরা ইলেকশন না করলেও তাদের একটা অংশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সেখানে তাদের কিছু লোকজন জয় লাভ করছে, এটার সংখ্যা কম। তবে অধিকাংশ জায়গায় দলের মনোনীত প্রার্থী না থাকার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াচ্ছেন।’


poisha bazar

ads
ads